• মঙ্গলবার, মার্চ ৩১, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:২১ রাত

নিয়োগ নিয়ে রাবি শিক্ষকদের হাতাহাতি, সংবাদ সম্মেলন পণ্ড

  • প্রকাশিত ০৬:০০ সন্ধ্যা ডিসেম্বর ৩১, ২০১৯
রাবি সংবাদ সম্মেলন
সোমবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের হাতাহাতিতে বন্ধ হয়ে যায় সংবাদ সম্মেলন ঢাকা ট্রিবিউন

মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন চলাকালে প্ল্যানিং কমিটির দুই সদস্য সেখানে গেলে শুরু হয় বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রপসায়েন্স বিভাগে শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন ও শিক্ষকদের মধ্যে হাতাহাতি ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছে শিক্ষকদের বিবাদমান দুই পক্ষ।

মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি একাডেমিক কক্ষে এ হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে খবর, সোমবার শিক্ষক নিয়োগ ইস্যুতে ক্রপ সায়েন্স বিভাগের সভাপতির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেন পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট প্ল্যানিং কমিটির তিন সদস্য- অধ্যাপক মু. আলী আসগর, নুরুল আলম এবং কাওছার আলী। যার পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার অন্য দুই শিক্ষক খাইরুল ইসলাম ও যুগোল কুমারকে সঙ্গে নিয়ে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করেন সভাপতি অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম। 

মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন চলাকালে প্ল্যানিং কমিটির দুই সদস্য- অধ্যাপক কাওছার আলী ও নুরুল আলম এবং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক একে এম বারী সেখানে গেলে শুরু হয় বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি। একপর্যায়ে পণ্ড হয়ে যায় সংবাদ সম্মেলন।

সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে প্ল্যানিং কমিটির তিন সদস্য অভিযোগ করেন, “প্ল্যানিং কমিটির সদস্যদের না জানিয়ে ২২ ও ২৬ ডিসেম্বর গোপনে দুটি সভা ডাকেন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম। সেখানে উপস্থিত না থাকলেও দুই সদস্যকে উপস্থিত দেখানো হয়। সর্বশেষ ৩০ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় প্ল্যানিং কমিটির সভা ডেকে সভাপতি নিজেই আসেননি।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “আমি সঠিক সময় চিঠি ইস্যু করেছি। তারা হয়তো বক্স খুলে দেখেননি, তাই চিঠি পাননি।”

সংবাদ সম্মেলনে হাতাহাতির বিষয়ে তিনি বলেন, “গতকাল (সোমবার) তাদের সংবাদ সম্মেলনে আমরা যাইনি। কিন্তু আজ সংবাদ সম্মেলনকে পণ্ড করতেই তারা এখানে উপস্থিত হয়।”

ক্রপসায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ও প্ল্যানিং কমিটির সদস্য নুরুল আলমের দাবি, তিনি গত ২৬ ডিসেম্বর পৌনে দশটার দিকে বিভাগে গিয়েছিলেন এবং বেলা সাড়ে ১২টার দিকে জয়পুরহাটে উদ্দেশে ক্যাম্পাস ছাড়েন। অথচ সভাপতি ওই দিন দুপুর দুইটায় অনুষ্ঠিত প্ল্যানিং কমিটির ৫৮তম সভায় তাকে উপস্থিত দেখিয়েছেন।

তিনি বলেন, প্ল্যানিং কমিটির সভার আগে কমিটির সদস্যদের চিঠি দেওয়া হয়ে থাকে। কিন্তু আমি ২৬ ডিসেম্বর বেলা ১২টা পর্যন্ত কোনো চিঠি পাইনি।

২২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত প্ল্যানিং কমিটির ৫৭তম সভা প্রসঙ্গে নুরুল আলম বলেন, ‘‘ওইদিন আমি বিভাগে ছিলাম। চতুর্থ বর্ষের একটি পরীক্ষা ছিল। বিকেল চারটার দিকে অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম এসে আমাকে বলেন, ‘স্যার আপনি গোপনে একটি স্বাক্ষর করেন বাকিটা দেখা যাবে।’ কিন্তু আমি স্বাক্ষর দিতে অস্বীকৃতি জানাই।’’

প্ল্যানিং কমিটির ৫৭ ও ৫৮ তম সভায় উপস্থিত দেখানো হয়েছে এমন আরেক সদস্য অধ্যাপক মো. কাওছার আলী জানান, কমিটির অন্য সদস্যরা সভা সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। উপস্থিত থাকার তো প্রশ্নই আসে না।

অধ্যাপক নুরুল আলম, কাওছার আলী এবং মু. আলী আসগর দাবি করেন, প্ল্যানিং কমিটির সদস্যদের না জানিয়ে সভা দেখানো বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বিভাগের রেজিস্ট্রার ডায়েরি ও পিয়ন রেজিস্ট্রার ডায়েরি গোপন করে ফেলেছেন।

সোমবার ক্রপ সায়েন্স বিভাগের অফিসকক্ষে গিয়ে রেজিস্ট্রার খাতা দেখতে চাইলে অফিসের পিয়ন মোতালেব জানান, সোমবার সকালে আরেক শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে বিভাগের সভাপতি রেজিস্ট্রার ডায়েরি ও পিয়ন রেজিস্ট্রার খাতা নিয়ে গেছেন।

খাতা নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বিভাগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ব্যক্তিগত কাজে নিয়ে গিয়েছিলাম। কাল সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দফতরে ছিলাম। তাই আজ খাতা নিয়ে এসেছি।  

এদিকে, সদস্যদের না জানিয়ে পরপর দুটি প্ল্যানিং মিটিং আয়োজন ও অনুপস্থিত সদস্যদের সেখানে উপস্থিত দেখানোর বিষয়টিকে “অনিচ্ছাকৃত ভুল” আখ্যা দিয়েছেন অধ্যাপক মু. আলী আসগর।

বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক সংখ্যা ছিল ১৩ জন। এরপর ১৫ বছরে আর কোনো শিক্ষক নিয়োগ হয়নি। ২০১৬ সালের ৬ই নভেম্বর সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মিজানউদ্দীনের সময়ে তিনটি পদে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সেখানে ৩৮টি আবেদন জমা পড়ে। পরবর্তীতে বতর্মান প্রশাসন চলতি বছরের ৩০ জুলাই বিজ্ঞপ্তি সংশোধন করে পুনঃরায় প্রকাশ করে এতে ৪৭টি আবেদন জমা পড়ে।

শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে প্ল্যানিং কমিটির সদস্যদের মধ্যে বিরোধের বিষয় বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে দুই ধরনের বক্তব্য পাওয়া গেছে।

একপক্ষের অভিযোগ, বিভাগের শিক্ষক নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল জেনেট্রিক্স অ্যান্ড প্ল্যান ব্রিডিং বিভাগের। কিন্তু প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কিছু কর্মকর্তা তাদের নিকটাত্মীয়দের নিয়োগ দিতে বিজ্ঞপ্তি সংশোধন করে “জেনেট্রিক্স অ্যান্ড প্ল্যান ব্রিডিং/এগ্রিকালচারাল কেমিস্ট্রি” নাম দেন। 

তারা আরও অভিযোগ করেন, একজন শিক্ষকের স্ত্রীকে নিয়োগ দিতে বিজ্ঞপ্তি সংশোধন করা হয়েছে। এছাড়া বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক সাইফুল ইসলামের স্ত্রীকে কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দেওয়ার শর্তে তিনি প্রশাসনের সঙ্গে একজোট হয়ে শিক্ষক নিয়োগ দিতে উঠে পড়ে লেগেছেন।

স্ত্রীর চাকরির বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমার স্ত্রী অফিসার পদে চাকরির জন্য আবেদন করেছেন। ভাইভাও দিয়েছেন। কিন্তু আমি বিএনপিপন্থী শিক্ষক, ডীন ছিলাম অনুষদের। আমার স্ত্রীর চাকরি দেবে না।”

অন্য পক্ষটি বলছে, অধ্যাপক সাইফুল ইসলামের পর বিভাগের সভাপতি হবেন অধ্যাপক মু. আলী আসগর। তিনি (আলী আসগর) চান যেকোনো মূল্যে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ রাখতে। এজন্য হাইকোর্টে তার করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ফের নিয়োগ প্রক্রিয়ার কার্যক্রম শুরু করায় তিনিসহ প্ল্যানিং কমিটির অন্য দুইসদস্যকে নিয়ে নিয়োগ ঠেকাতে প্ল্যানিং কমিটির মিটিংয়ে আসছেন না।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এমএ বারীর সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য আনন্দ কুমার সাহা’র সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।