• রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪২ রাত

অতিথি পাখি নেই নীলসাগরে, অভিযোগের তীর কর্তৃপক্ষের দিকেই

  • প্রকাশিত ০৬:৩১ সন্ধ্যা ডিসেম্বর ৩১, ২০১৯
নীলফামারী
বিচরণ পরিবেশ না থাকায় পাখিরা চলে গেছে বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা। ঢাকা ট্রিবিউন

‘অতিথি পাখিরা সাধারণত শীতের শুরুতে এসে পুরো শীত মৌসুম অবস্থান করে আবার শীতের শেষে চলে যায়। তবে এবার অনেক আগেই চলে গিয়েছে’

নীলফামারীর নীলসাগর, এর আদি নাম বিন্নাদীঘি। ভ্রমণপিপাসু মানুষের জন্য অবসর ও সময় কাটানোর দারুণ বিনোদন কেন্দ্র এটি। জেলা সদরের গোড়গ্রাম ইউনিয়নের ধোবাডাঙ্গা গ্রামে ৩৭ একর জমির ওপর অবস্থিত নীলসাগর দীঘি। ১৯৯৮ সালে এ দীঘির নামকরণ নীলফামারীর নামানুসারে নীলসাগর রাখা হয়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য়ের কারণেই প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছে নীলসাগর। 

দীঘির চতুর্থদিকে রয়েছে নারিকেল গাছ, বন বাবুল, আকাশমনি, লতাগুল্ম, দেবদারু ও শিশুসহ অজানা-অচেনা হরেক রকম ফুল ও ফলের সারি সারি বৃক্ষরাজি। এ ছাড়াও পাশে রয়েছে শিশুদের জন্য একটি ছোট পার্ক। ১৯৯৮ সালে এই এলাকাকে পাখির অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হয়।

দীঘির চারপাশ নানা প্রজাতির গাছে ঘেরা ও কোলাহল মুক্ত থাকায় প্রতি বছর শীত মৌসুমের শুরুতেই সুদূর সাইবেরিয়া থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখির আগমন ঘটে নীলসাগরে। অতিথির অবাধ বিচরণ দর্শনার্থীদের মুগ্ধ হয়।  

তবে চলতি বছর অতিথি পাখিদের আগমন ঘটেনি নীলসাগর দীঘিতে। এ ঘটনায় নীলসাগর দীঘি কর্তৃপক্ষের প্রতি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, নিরাপদ পরিবেশের অভাবেই এ বছর পাখির আগমন ঘটলেও নীলসাগরে অবস্থান না করে চলে গেছে। 

স্থানীয় বাসিন্দা যতিন চন্দ্র রায় (৬৩) বলেন, একসময় অতিথি পাখি দেখতে ভিড় করতো মানুষজন। পাখিদের বিচরণের যথাযথ পরিবেশ ও নিরাপত্তা না থাকায় এবার পাখি এসেও চলে গেছে বলে মনে করছি আমরা।   

দীঘির পাড়ের মন্দিরের পুরোহিত অমরেশ বর্মণ জানান, পাখিরা নিরিবিলি পরিবেশে থাকতে পছন্দ করে। তবে এই দিঘীর চারপাশে দর্শনার্থীদের জটলা লেগেই থাকে। এসব দর্শনার্থীরা অতিথি পাখির ছবি তুলতে খুব কাছে যান, কখনও আবার ঢিল ছোড়েন। এসব কারণে পাখিরা হয়তো ভীত হয়েই চলে গেছে। 

চল বছর পাখি কম এসেছে বলে স্বীকার করেছেন জেলা প্রশাসনের পক্ষে এসএ শাখার উপসহকারী প্রকৌশলী দিনবন্ধু রায়। তিনি বলেন, “স্বাভাবিক কারণে এবার অতিথি পাখি কম এসেছে। অতিথি পাখিরা সাধারণত শীতের শুরুতে এসে পুরো শীত মৌসুম অবস্থান করে আবার শীতের শেষে চলে যায়। তবে এবার অনেক আগেই চলে গিয়েছে।”