• বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:০৮ সকাল

২০১৯ সালে কর্মক্ষেত্রে নিহত ৯৪৫ শ্রমিক

  • প্রকাশিত ০৭:১৭ রাত ডিসেম্বর ৩১, ২০১৯
শ্রমিক-ওশি
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিস্থিতি-২০১৯’ শীর্ষক সমীক্ষা প্রতিবেদন প্রকাশ করে ওশি। সৌজন্য

হতাহতের কারণ হিসেবে কর্মস্থলে আসা-যাওয়ার পথে দুর্ঘটনা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া, অগ্নিকাণ্ড, ভবন বা স্থাপনা থকে পড়ে যাওয়া, বজ্রপাত, বয়লার ও সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, গৃহশ্রমিকদের ক্ষেত্রে শারীরিক নির্যাতন এবং ধাতব আঘাতের কথা বলা হয়েছে

পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে ২০১৯ সালে কর্মক্ষেত্রে ৯৪৫ জন শ্রমিক নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ২৬৬ জন। এদের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক খাতে ২৬৯ জন ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে ৬৭৬ জন নিহত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে “কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিস্থিতি-২০১৯” শীর্ষক একটি সমীক্ষা প্রতিবেদন প্রকাশ করে বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ অক্যুপেশনাল সেইফটি, হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ফাউন্ডেশন (ওশি)। 

দেশের শীর্ষস্থানীয় ১৫টি জাতীয় দৈনিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর এবং ওশি’র উদ্যোগে মাঠ পর্যায় থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এ সমীক্ষা প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে বলে জানায় সংস্থাটি।   

প্রতিবেদন অনুসারে, সেক্টরভিত্তিক ২০১৯ সালে পরিবহন খাতে সর্বোচ্চ ২৯৪ নিহত হয়েছে। নির্মাণ খাতে ১৫৬ জন, পোশাক শিল্পে ৪০ জন, কৃষি খাতে ৯৮ জন, ভাঙ্গা শিল্পে ২৩ জন এবং ৪৯ দিনমজুরের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া বিবিধ সেক্টরে কাজ করতে গিয়ে বাকী ২৪৫ জন প্রাণ হারিয়েছে। 

প্রতিবেদনে কর্মস্থলে হতাহতের কারণ হিসেবে কর্মস্থলে আসা-যাওয়ার পথে দুর্ঘটনা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া, অগ্নিকাণ্ড, ভবন বা স্থাপনা থকে পড়ে যাওয়া, বজ্রপাত, বয়লার ও সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, গৃহশ্রমিকদের ক্ষেত্রে শারীরিক নির্যাতন এবং ধাতব আঘাতের কথা বলা হয়েছে।  

শ্রমিকদের অনাকাঙ্খিত মৃত্যু এড়াতে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নয়নে ওশির সুপারিশগুলো হচ্ছে- বাংলাদেশ শ্রম আইন (সংশোধিত ২০১৮) ও শ্রম বিধিমালা ২০১৫ এর আলোকে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিধানের কার্যকর প্রয়োগের লক্ষ্যে নজরদারি বাড়ানো, বয়লার পরিদর্শকের সংখ্যা বৃদ্ধি করা ও বয়লার পরিদর্শন দপ্তরকে অধিদপ্তরে রূপান্তর করা, কর্মস্থলে শ্রমিকদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা উপকরণ ব্যবহার নিশ্চিত করা, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে পেশাগত স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তা ইউনিট চালু করা। 

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন ওশি ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারপার্সন ড. এস এম মোরশেদ। এ সময় ওশি ফাউন্ডেশনের পরিচালক আলম হোসেন, যোগাযোগ কর্মকর্তা রিয়াদ আরিফ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।