• মঙ্গলবার, এপ্রিল ০৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:২১ দুপুর

ঘুষ নিতে গিয়ে দুদকের ফাঁদে বগুড়ার কর কর্মকর্তা

  • প্রকাশিত ০৭:৩৭ রাত ডিসেম্বর ৩১, ২০১৯
বগুড়া-দুদক
কর অঞ্চল বগুড়ার ১৫ সার্কেলের সহকারি কর কমিশনার অভিজিৎ কুমার দে। ঢাকা ট্রিবিউন

‘কর অঞ্চল বগুড়ার ১৫ সার্কেলের সহকারি কর কমিশনার অভিজিৎ কুমার দে এর আগেও কয়েকবার ঘুষের টাকাসহ ধরা পড়েন’

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়ের পাতা ফাঁদে পা দিয়েছেন বগুড়া কর অঞ্চল-১৫ সার্কেলের সহকারি কর কমিশনার অভিজিৎ কুমার দে। 

মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে এক করদাতার কাছে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার সময় দুদক কর্মকর্তারা তাকে হাতেনাতে আটক করেছেন। বিকালে এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে দুদক আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছিল।

দুদক বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান জানান, বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার ব্যবসায়ী ইউনুস আলী একজন করদাতা। কর অঞ্চল বগুড়ার ১৫ সার্কেলে তার ফাইল আছে। তিনি ১৪/১৫ অর্থ বছরে কিছু সম্পত্তি বিক্রি করেন। ১৮/১৯ অর্থ বছরে আয়কর ফাইল থেকে বিক্রি করা জমি বাদ দিতে তিনি সহকারি কর কমিশনার অভিজিৎ কুমার দে’র শরনাপণ্ন হন। কিন্তু তিনি গত ৬ মাস ধরে ফাইলটি আটকে রেখে তালবাহানা করতে থাকেন অভিজিৎ কুমার দে। এক পর্যায়ে এ কাজের বিনিময়ে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন তিনি। করদাতা ঝামেলা এড়াতে ২০ হাজার টাকা দিতে চাইলেও কর কর্মকর্তা রাজি হননি। বাধ্য হয়ে ইউনুস আলী বিষয়টি দুদক কর্মকর্তাদের অবহিত করেন।

মনিরুজ্জামান বলেন, “তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দুদক কর্মকর্তারা কর অফিসে ফাঁদ পাতেন। পরামর্শ অনুসারে ব্যবসায়ী ইউনুস আলী মঙ্গলবার সকালে দুদক কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। পরে বেলা পৌনে ১টার দিকে তিনি বগুড়া কর অঞ্চলের ১৫ সার্কেলের সহকারি কর কমিশনার অভিজিৎ কুমার দে’র কাছে ঘুষের টাকা দেন। এ সময় দুদকের সহকারি পরিচালক আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে দুদক কর্মকর্তারা তাকে হাতেনাতে আটক ও ড্রয়ার থেকে চিহ্নিত করা ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করেন। দুদক কর্মকর্তারা বিষয়টি জানতে চাইলে সহকারি কর কমিশনার অভিজিৎ কুমার দে টাকার ব্যাপারে সদুত্তোর দিতে ব্যর্থ হন। অভিযানে দুদকের উপ-সহকারি পরিচালক ওয়াহিদ মঞ্জুর সোহাগ, সুদীপ কুমার চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।”

এ প্রসঙ্গে বগুড়া ট্যাক্সেস ল’ইয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোখলেসুর রহমান বলেন, “কর অঞ্চল বগুড়ার ১৫ সার্কেলের সহকারি কর কমিশনার অভিজিৎ কুমার দে এর আগেও কয়েকবার ঘুষের টাকাসহ ধরা পড়েন। তাকে সতর্ক করা হলেও তিনি সংশোধন হননি। সংগঠনের পক্ষে রেজুলেশন করে কর কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগও করা হয়েছিল।” 

কর অঞ্চল বগুড়ার সদর দফতর (প্রশাসন) হাবিবুর রহমান জানান, বিষয়টি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্যকে (কর প্রশাসন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) অবহিত করা হয়েছে। শিগগিরই তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।