• বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:০১ দুপুর

থার্টিফার্স্টে হাসপাতালে চিকিৎসকদের আতশবাজি-গানের আসর!

  • প্রকাশিত ০৬:০৫ সন্ধ্যা জানুয়ারী ১, ২০২০
ব্রাহ্মণবাড়িয়া হাসপাতাল থার্টিফার্স্ট
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপনে আয়োজন করা হয় বিভিন্ন অনুষ্ঠান ঢাকা ট্রিবিউন

এমন কর্মকাণ্ডে সমালোচনার ঝড় উঠলেও চিকিৎসকদের দাবি, অনুষ্ঠানটি ক্ষণিক সময়ের জন্য আয়োজন করা হয়েছিল। এতে রোগীদের কোনো সমস্যা হয়নি

ইংরেজি নববর্ষ বরণ ও থার্টিফার্স্ট নাইট উপলক্ষে হাসপাতাল চত্বরে আতশবাজি উড়িয়ে এবং গানের আসর বসিয়েছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকরা। এমন কর্মকাণ্ডে সমালোচনার ঝড় উঠলেও চিকিৎসকদের দাবি, অনুষ্ঠানটি ক্ষণিক সময়ের জন্য আয়োজন করা হয়েছিল। এতে রোগীদের কোনো সমস্যা হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের দক্ষিণ দিকে বহির্বিভাগের সামনে রাত সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত গান-বাজনা, ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট ও পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়। তীব্র হৈ-চৈয়ের কারণে বিড়ম্বনায় পড়েন রোগীরা। 

এ অনুষ্ঠানের স্পন্সর ছিল হেলথ কেয়ার ফার্মাসিউটিক্যাল নামে একটি ঔষধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন হাসপাতালের চিকিৎসক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। অনুষ্ঠানের ফাঁকে তারা গানের পাশাপাশি আতশবাজির আওয়াজ আর ঝলকানির মাধ্যমে নতুন বছর উদযাপন করেন।

এদিকে, নিয়মানুযায়ী থার্টিফার্স্ট নাইটে কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের অনুমতি নেওয়ার কথা থাকলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে কিছু্ই জানায়নি বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মুহাম্মদ আলমগীর হোসেন।

তিনি বলেন, “অনুষ্ঠান করার জন্য আমাদের কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। হাসপাতালে অনুষ্ঠানের খবর পাওয়ার পর দ্রুত পুলিশ পাঠানো হলে তারা অনুষ্ঠান বন্ধ করতে বাধ্য হন।”

হাসপাতাল চত্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগদেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা. মো:শাহ আলম, জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো:শওকত হোসেন ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. মো:আবু সাঈদ।

হাসপাতালে এমন আয়োজনে নিন্দার ঝড় উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলছে ব্যাপক সমালোচনা। বিষয়টিকে আয়োজক ও অংশগ্রহনকারীদের ‘‘কাণ্ডজ্ঞানহীনতা’’ বলে মন্তব্য করছেন অনেকেই।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মমিনুল বাবু নামে একজন লিখেন, “ঔষধ কোম্পানী তাদের জন্য অনেক কিছুই করে শুনেছি। এবার রিফ্রেশমেন্টের আয়োজনও করে দিল, এটাই দেখা বাকি ছিল।”

বিষয়টিকে আইনের “সুস্পষ্ট লংঘন” বলে মনে করছেন কেউ কেউ। কেউবা আবার বলছেন তাদের (চিকিৎসক) জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক দীপক চৌধুরী বাপ্পী বলেন, “এটা কান্ডজ্ঞানহীনতা। এমন ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসী স্তম্ভিত।” ঘটনার জন্য পুলিশ প্রশাসনের ব্যর্থতাকে দায়ী করেন।

তবে অনুষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষক হেলথ কেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালের আঞ্চলিক বিক্রয় ব্যবস্থাপক রেজাউল করিম সাংবাদিকদের বলেন, “এটি সদর হাসপাতালের আয়োজন ছিল। আমাদের পক্ষ থেকে শুধু স্পন্সর করা হয়েছে।”

জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. শওকত হোসেন বলেন, “সবাই অনুষ্ঠান করে চিকিৎসকরাওতো মানুষ। তাদেরও রিফ্রেশমেন্ট বা চিত্ত-বিনোদনের প্রয়োজন আছে। হাসপাতালে একদল নতুন চিকিৎসক যোগদান করেছেন। তারা বহির্বিভাগের মাঠে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট ও পিঠা উৎসবের আয়োজন করে আমাদের দাওয়াত দিয়েছিলেন। আমরা কেবল অংশগ্রহণ করেছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আপত্তি আসার পর তাৎক্ষনিক অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছি।”

এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহ আলম জানান, “অনুষ্ঠানের ধরণ সম্পর্কে আমাদের জানা ছিল না। অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছে দ্রুত আয়োজকদের অনুষ্ঠান শেষ করার তাগিদ দেই।”

আতশবাজি আর সঙ্গীতানুষ্ঠানের কারণে রোগীদের সমস্যা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, হাসপাতালের দক্ষিণদিকের ফটকটি দুপুর আড়াইটার পর বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেখানে কোনো রোগীদের বেড নেই। তাই তেমন সমস্যা হয়নি।