• শনিবার, মার্চ ২৮, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:৪৪ দুপুর

মহাস্থানগড়ে ১৩০০ বছরের পুরনো ইটের কূপের সন্ধান

  • প্রকাশিত ০৮:৩৯ রাত জানুয়ারী ১, ২০২০
বগুড়া-মহাস্থানগড়
১৩০০ বছর আগেও পাকা কূপের উপস্থিতি জনপদটির ব্যাপক সমৃদ্ধিরই ইঙ্গিত দেয়। ঢাকা ট্রিবিউন

ইটের গাঁথুনি দেওয়া কূপটি সপ্তম থেকে অষ্টম শতাব্দী অর্থাৎ পাল আমলের। সে হিসেবে প্রায় ১৩০০ বছর আগে এ অঞ্চলের মানুষ পাকা কূপ থেকে পানি সংগ্রহ করেছেন

বগুড়ার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়ে প্রত্নতাত্ত্বিক খননে বেরিয়ে এসেছে খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় অব্দ থেকে পরবর্তী ১৪০০ থেকে ১৫০০ শতকের স্থাপত্য ও অন্যান্য প্রত্ননিদর্শন। প্রত্নতাত্ত্বিকেরা ধারণা করছেন, তৎকালীন সময়েও মহাস্থানগড় ঐহিত্য, সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ ছিল। গত বছরের নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া বাংলাদেশ-ফ্রান্স যৌথ খননকালে এসব নিদর্শনের সন্ধান মেলে।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বগুড়ার মহাস্থানগড় ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে খনন করা হয়। খননের বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ নানারকম প্রত্ননিদর্শন পাওয়া যায়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৩ সাল থেকে বাংলাদেশ ও ফ্রান্স সরকার যৌথভাবে মহাস্থানগড়ে খননকাজ পরিচালনা করে আসছে। পাশাপাশি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর নিজস্ব অর্থায়নেও খননকাজ করছে। সর্বশেষ গত বছরের ৮ নভেম্বর থেকে মহাস্থানগড়ের বৈরাগীর ভিটার দক্ষিণে খননকাজ শুরু হয়। 

যৌথ খননে ফ্রান্সের পক্ষে কলিন লেফ্রাংকর নেতৃত্বে এলবো ফ্রাংকোয়িস ও আতোয়ান নামে তিন ফরাসি অংশ নিয়েছেন। অপরদিকে বাংলাদেশ দলের পক্ষে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক ড. নাহিদ সুলতানার নেতৃত্বে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক মজিবুর রহমান, শাহজাদপুর জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান মোহাম্মদ যায়েদ, মহাস্থান জাদুঘরের কস্টোডিয়ান রাজিয়া সুলতানা, সিনিয়র ড্রাফটম্যান আফজাল হোসেন, আলোকচিত্রী আবুল কালাম আজাদ ও সার্ভেয়ার মুর্শিদ কামাল ভূঁইয়া রয়েছেন। 

সূত্রটি আরও জানায়, ২০১৭ সালে বৈরাগীর ভিটায় খননের পর প্রাচীন স্থাপত্যের নিদর্শন মেলে। এবার ওই খনন স্থানের দক্ষিণ-পূর্ব পাশে খননকাজ শুরু করা হয়। খননকালে ৮টি কূপের সন্ধান মেলে। পাশাপাশি বেশকিছু মৃৎ পাত্র, মৃৎ পাত্রের ভগ্নাংশ, মাটির বড় একটি ডাবর (মটকা) পাওয়া যায়। খননস্থলে পাওয়া স্থাপত্য কাঠামো এবং উত্তরাঞ্চলীয় উজ্জ্বল চকচকে কালো মৃৎপাত্র (এনবিপিডাব্লিউ) দেখে প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা, এসব নিদর্শন খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতক থেকে পরবর্তী ১৪০০-১৫০০ শতকের।

এবারের খননে আবিষ্কৃত কোনো কোনো নিদর্শনের বয়স ২৫০০ বছরেরও বেশি। ঢাকা ট্রিবিউন

খনন দলের সদস্য শাহজাদপুর জাদুঘরের কস্টোডিয়ান মোহাম্মদ যায়েদ জানান, এবার খননে যেসব কূপের সন্ধান মিলেছে তার মধ্যে একটি ব্যতিক্রম। এটি ইটের গাঁথুনি বিশিষ্ট কূপ। এ কূপের প্রায় ৬ ফুট পর্যন্ত খনন করে ৪৬ সারি ইটের গাঁথুনি পাওয়া গেছে। এছাড়া অন্য সাতটি পাতকূয়া। 

তিনি জানান, ইটের গাঁথুনি বিশিষ্ট কূপটি সপ্তম থেকে অষ্টম শতাব্দী অর্থাৎ পাল আমলের। অন্যান্য কূপও সমসাময়িক সময়ের। সে হিসেবে প্রায় ১৩০০ বছর আগে এ অঞ্চলের মানুষ পাকা কূপ থেকে পানি সংগ্রহ করেছেন।

মহাস্থান জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান রাজিয়া সুলতানা বলেন, মহাস্থানগড়ের প্রাচীনত্ব বিশ্ব স্বীকৃত। সে স্বীকৃতির নিদর্শনই প্রতি বছরের খননকাজে উন্মোচিত হচ্ছে। সেখানে যেসব প্রত্নসামগ্রীর নমুনা মিলেছে তা প্রমাণ করে খ্রিস্টের  জন্মের পূর্বেও এ জনপদ ছিল সমৃদ্ধ। 

তিনি জানান, এবার খননে সেখানে পোড়ামাটির গুটিকা, মৃৎপাত্র, নকশাখচিত ইটসহ আরও অন্যান্য নিদর্শন মিলেছে। এসব স্থাপত্য ও নিদর্শন খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় থেকে পরবর্তী ১৪০০-১৫০০ শতকের।

রাজিয়া বলেন, “খনন কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে খননস্থলগুলো সংরক্ষণের জন্য মাটি ভরাট করে রাখা হবে।”