• বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৮ সকাল

গাছে বেঁধে ইউপি সদস্যের নির্যাতন, নারীর আত্মহত্যা

  • প্রকাশিত ০৩:৩০ বিকেল জানুয়ারী ২, ২০২০
আত্মহত্যা
প্রতীকী ছবি

ওই নারীকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে খেতের পাশে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বড় বিহানালী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুল মজিদের নির্যাতনের শিকার হয়ে আক্তারুন নেছা নামের এক গৃহবধূ কীটনাশক পান করে আত্মহত্যা করেছে। এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার (০২ জানুয়ারি) সকালে ইউপি সদস্যের ভাই আব্দুল করিম নামের একজনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) মিজানুর রহমান বলেন, উপজেলার বড় বিহানালী ইউনিয়নের সদস্য ও বাগান্না গ্রামের আবদুল মজিদের আলু ও পেঁয়াজ ক্ষেত নষ্ট করার অভিযোগে গত মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর ২০১৯) রাতে আক্তারুন নেছাকে তার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে চড়-থাপ্পড় মারেন। এরপর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমান গ্রাম পুলিশের সহযোগিতায় আক্তারুন নেছাকে বাড়িতে পৌঁছে দেন। কিন্তু ঘটনা জানাজানি হওয়ায় কিংবা অপমানে পরের বুধবার (০১ জানুয়ারি) ওই গৃহবধূ দোকান থেকে কীটনাশক কিনে পান করলে আত্মীয়-স্বজনরা তাকে বাগমারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। পরে সকাল ১০টার দিকে মারা যান। লাশটি পুলিশি হেফাজতে নিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

ওসি মিজানুর রহমান আরও বলেন,“ আত্মহত্যায় প্ররোচণা ও নির্যাতনের অভিযোগে ইউপি সদস্য আবদুল মজিদসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ এবং আরও ৩-৪ জনকে অজ্ঞাতনামা উল্লেখ করে আক্তারুন নেছার ভাই বাদী হয়ে বুধবার দুপুরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। মামলার পর থেকে মজিদ এবং তার সহযোগীরা পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের কয়েক টিম মাঠে কাজ করছে।”

ওসি জানান, কুষ্টিয়ার এক ছেলের সাথে আক্তারুন নেছার বিয়ে হয়। কিন্তু স্বামী ভবঘুরে হওয়ায় ১৩ বছরের মেয়েকে নিয়ে আক্তারুন নেছা উপজেলার বড় বিহানালী ইউনিয়নের বাগান্না গ্রামে তার বাবার বাড়িতে থাকতো। তার বাবার নাম মৃত এনায়েত আলী।


আরও পড়ুন - আত্মহত্যায় বাধা দেওয়ায় শ্বশুরকে পিটিয়ে মারলেন গৃহবধূ!


আক্তারুন নেছার ভাই ও মামলার বাদী সাইফুল ইসলাম স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, “আমার বোনকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গাছে বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে। একারণে সে ক্ষোভে-অভিমানে বিষপানে আত্মহত্যা করেছে। আব্দুল মজিদের সঙ্গে তার অর্থ লেনদেন নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “গত ইউপি নির্বাচনের সময় ইউপি সদস্য মজিদ আমার বোনের কাছ থেকে এক লাখ টাকা ধার নেয়। কিন্তু সে টাকা দিচ্ছিল না। টাকা উদ্ধারের জন্য ১০-১১ মাস আগে আমার বোন মজিদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। কিন্তু মামলা করেও টাকা ফেরত পায়নি। তবে মামলার করার পর থেকে তাদের মধ্যে বিরোধ বেড়ে যায়।”

ওই নারীর সঙ্গে অর্থ লেনদেন ও মামলা-মোকদ্দমা থাকার কথা স্বীকার করেন মজিদ ইউপি সদস্য আবদুল মজিদ বলেন, “ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে আক্তারুন এক সপ্তাহ ধরে আমার ক্ষেতের পেঁয়াজ ও আলু নষ্ট করে আসছিল। গত মঙ্গলবার রাতেও তিনি ফসল নষ্ট করেছেন। খবর পেয়ে তাকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে এসে ক্ষেতের পাশে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। পরে গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে বাড়িতে ফেরত পাঠানো হয়। তবে তার ওপর কোনো নির্যাতন করা হয়নি।”

বাগমারা উপজেলার বড় বিহানালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমান মিলন বলেন, “আমি এলাকার বাইরে থাকায় ঘটনাস্থলে যেতে পারিনি। তবে খবর পেয়ে সাথে সাথে ফোন করে গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে নারীটিকে উদ্ধার করে বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি। এই সঙ্গে বুধবার দু-পক্ষকে নিয়ে বসে একটি সমাধানের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু এর আগেই নারীটি ক্ষোভে আত্মহত্যা করে।”