• শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৫৪ দুপুর

বাবার চোখের সামনেই পুড়ে মারা গেলো ছেলে

  • প্রকাশিত ০৯:৩৩ রাত জানুয়ারী ২, ২০২০
স্বপ্নিল আহমেদ পিয়াস
স্বপ্নিল আহমেদ পিয়াস। সংগৃহীত

বারান্দায় দাঁড়িয়ে চিৎকার করছে ছেলে। আগুনে দাউ দাউ করে পুড়ছে তার শরীর

আর ১০টি সাধারণ রাতের মতো রাজধানীর বাড্ডার আফতাবনগর এলাকার একটি বাসায় ঘুমাচ্ছিলেন সবাই। হঠাৎ একটি ঘরে লেগে যায় আগুন। ওই ঘরে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া এক তরুণ। 

এক পর্যায়ে আগুন লেগে যায় ওই তরুণের শরীরে। তার চিৎকারে ঘুম ভেঙে যায় বাবা-মায়ের। তারা দেখতে পান, ঘরের সঙ্গে লাগোয়া বারান্দায় দাঁড়িয়ে চিৎকার করছে ছেলে। আগুনে দাউ দাউ করে পুড়ছে তার শরীর। কিন্তু কিছুই করার ছিলো না। কারণ, তার ঘর ছিল ভেতর থেকে লক করা। তাই আগুন নেভানোর শত চেষ্টা করেও হার মানেন তার অসহায় বাবা। 

বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) ভোর ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ওই তরুণকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।   

জানা গেছে, আগুনে পুড়ে নিহত ওই তরুণের নাম স্বপ্নিল আহমেদ পিয়াস (২৪)। রাজধানীর একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ সম্পন্ন করেছেন তিনি। 

পিয়াসের বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন নান্নু পেশায় একজন সাংবাদিক। তিনি বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। মোয়াজ্জেম হোসেন বর্তমানে গ্লোবাল টিভি নামের একটি চ্যানেলে কর্মরত আছেন। এর আগে তিনি দৈনিক যুগান্তরের ক্রাইম বিভাগের প্রধান ছিলেন। 

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের প্রধান কার্যালয়ের ডিউটি অফিসার লিমা খানম জানান, তারা ৫টা ১০ মিনিতে আগুন লাগার খবর পান তারা। ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট গিয়ে ৫টা ৫০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে পিয়াসকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে মৃত ঘোষণা করা হয়। 

তিনি আরও জানান, বৈদ্যুতিক শট-সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।  

পিয়াসের বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, তিনি বারান্দা থেকে ছেলেকে আগুনে পুড়তে দেখেন। পাশের ঘরের বারান্দা থেকে পানিও ছুড়ে মারেন। কিন্তু আগুন নেভেনি। পরে ভবনের অগ্নি-নির্বাপক যন্ত্র এনে আগুন নেভাতে যান তিনি। কিন্তু ছেলের ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় এসব কিছুই কাজে দেয়নি। এক পর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।