• সোমবার, এপ্রিল ০৬, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:২১ রাত

গত বছর সড়কে ঝরেছে ৪,৬২৮ প্রাণ

  • প্রকাশিত ১১:৪১ সকাল জানুয়ারী ৩, ২০২০
সড়ক দুর্ঘটনা
প্রতীকী ছবি

নিরাপদ সড়কের দেশব্যাপী তীব্র আন্দোলনের পরও ২০১৮ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়েছে

নিরাপদ সড়কের দাবিতে দেশব্যাপী তীব্র আন্দোলনের পর দুর্ঘটনার সংখ্যা কমলেও ২০১৮ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়েছে।

নৌ, রেল ও সড়ক পরিবহন সেক্টরে কর্মরত গণমাধ্যম কর্মীদের সংগঠন শিপিং অ্যান্ড কমিউনিকেশন রিপোর্টার্স ফোরামের (এসসিআরএফ) "বার্ষিক সড়ক দুর্ঘটনা-২০১৯" শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদনটি ২৪টি জাতীয় দৈনিক, ১০টি আঞ্চলিক পত্রিকা এবং ৯টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।

২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪২১৯টি দুর্ঘটনায় ৪৬২৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন, আহত হয়েছেন ৮৬২১ জন। এর আগে ২০১৮ সালে ৪৩১৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ৪৫৮০ জন নিহত ও ১০৮২৮ জন আহত হন। 

প্রতিবেদন অনুযায়ী- গত বছরের জানুয়ারিতে ৩৮৩টি দুর্ঘটনায় ৫৩ নারী ও ৭১ শিশুসহ ৪১১ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৭২৫ জন আহত হয়েছেন, ফেব্রুয়ারিতে প্রায় ৪০১টি দুর্ঘটনা ঘটে, যেখানে ৪১৫ জন মারা যান এবং ৮৮৪ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে ৫৮ জন মহিলা ও ৬২টি শিশু।

মার্চে ৩৮৪টি দুর্ঘটনায় ৪৬ নারী ও ৮২ শিশুসহ ৩৮৬ জন নিহত হন এবং আহত হন ৮২০ জন। এপ্রিলে ৩২৭টি দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত হন ৩৪০ জন এবং আহত হন ৬১০ জন। নিহতদের মধ্যে ৩৮ জন নারী এবং ৫৩টি শিশু।

মে মাসে ২৯৭টি দুর্ঘটনায় ৪৭ নারী ও ৪৪ শিশুসহ ৩৩৮ জন নিহত এবং ৫০৪ জন আহত হন। জুনে ৩৬৭টি দুর্ঘটনায় ৪৯ নারী ও ৬৯ শিশুসহ ৪৩৯ জন নিহত এবং ৮১৮ জন আহত হন।

জুলাইয়ে ৩১১টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। ৪৬ নারী ও ৪০ শিশুসহ ৩৪৮ জন নিহত এবং ৫১৩ জন আহত হন। আগস্টে ৩৩৭টি দুর্ঘটনায় ৪৭ নারী ও ৫৭ শিশুসহ ৩৯৮ জন নিহত এবং ৮২৩ জন আহত হন।

সেপ্টেম্বরে মোট ৩৬৭টি দুর্ঘটনায় ৩৬৭ জন নিহত ও ৮২৮ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে ৩৮ জন নারী এবং ৬৪টি শিশু।

অক্টোবরে ৩৫৬ দুর্ঘটনায় ৫৫ নারী ও ৭৮টি শিশুসহ ৩৯৮ জন নিহত এবং ৬৬৭ জন আহত হন। অন্যদিকে নভেম্বরে ৩৪২ দুর্ঘটনায় ৫৩ নারী ও ৭১ শিশুসহ ৩৪২ জন নিহত এবং ৭২৫ জন আহত হন। ডিসেম্বরে ৩৮৯টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ৪৭ নারী ও ৫৭ শিশুসহ ৪৪৬ জন নিহত এবং ৬৮১ জন আহত হন।

এসসিআরএফ এর সভাপতি আশীষ কুমার দে বলেন, "বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর কারণে অধিকাংশ মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মনিটরিং ও তদারকিরও ঘাটতি ছিল।"

এসসিআরএফ এর পর্যবেক্ষণ আরো বলছে, আঞ্চলিক সড়ক ও আন্তঃজেলা সড়ক ও মহাসড়কে ছোট এবং স্থানীয় যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি, সমস্ত বাস ও ট্রাক টার্মিনালসহ বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি, পরিবহন শ্রমিকদের অসন্তুষ্টি এবং সড়ক পরিবহন খাতে সামগ্রিক নৈরাজ্যও সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী।