• রবিবার, এপ্রিল ০৫, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩৯ রাত

'২৮,৫০০ টাকা বিকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুদান পেয়ে যাবেন'

  • প্রকাশিত ০৭:২৯ রাত জানুয়ারী ৩, ২০২০
ফোনকল

মির্জাপুরের মহেড়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা কাজী কাশেমের সঙ্গে গত মাসে এমন ঘটনা ঘটে

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের অভিনব প্রতারণার ফাঁদে ফেলে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া চেষ্টা করছে একটি প্রতারক চক্র। প্রতারণার চেষ্টার এ ঘটনা ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে পুলিশকে জানানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত প্রতারক চক্রের কোনো সদস্যকে গ্রেফতার করা যায়নি। 

মির্জাপুরের মহেড়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা কাজী কাশেমের সঙ্গে গত মাসে এমন প্রতারণার চেষ্টার ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, "গত মাসের শেষ দিকে প্রথমে ইউএনও (উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা) পরিচয়ে ফোন দিয়ে জানানো হয়, 'আপনার নামে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে অনুদান এসেছে।'" 

"এরপর আরেকটি নাম্বার থেকে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক পরিচয় দিয়ে বলা হয়, '২৮ হাজার ৫০০ টাকা বিকেল ৫টার আগে বিকাশ করুন এবং আপনার নামে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আসা অনুদানের ২ লাখ ৭০ হাজার টাকার চেকটি আগামীকাল ব্যাংকে এসে দয়া করে নিয়ে যাবেন।'" 

পরে কাজী কাশেম ঘটনাটি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার অধ্যাপক দূর্লভ বিশ্বাসকে জানান। বিষয়টি তার কাছে সন্দেহজনক মনে হয়। দূর্লভ বিশ্বাস ঘটনাটি ইউএনওকে জানাতে বলেন। পরে ইউএনও আবদুল মালেককে জানালে ঘটনাটি প্রতারণার চেষ্টা বলে প্রমাণিত হয়। 

একই দিন একই কৌশলে ওই দুই নম্বর থেকে মহেড়া ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জহিরুল ইসলামকে ফোন করা হয়। তাকে অনুদানের টাকা ১ লাখ ৭০ হাজার এবং এজন্য ফেরতযোগ্য ১৮ হাজার ৫০০ টাকা বিকাশ করতে বলা হয়। 

এছাড়া একই ইউনিয়নের স্বল্প মহেড়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ময়নায় হক, আলালউদ্দিন, আদিবর রহমান, হিলড়া গ্রামের আবদুল রহমান ও প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা নয়নের ছেলে ছোবহানের কাছেও একই ফোন আসে। 

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে গোড়াই লালবাড়ি গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা রুপচাঁদ মণ্ডলের কাছে ইউএনও পরিচয়ে এবং পরে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক পরিচয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা অনুদান এসেছে বলে জানানো হয়। এজন্য তাকে ফেরতযোগ্য ২৯ হাজার ৫০০ টাকা বিকাশ করতে বলা হয়। 

এ চক্রের ফাঁদে পড়ে কেউ প্রতারিত হয়নি বলে জানা গেছে। তবে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারে সদস্যদের সঙ্গে প্রতারণার চেষ্টার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুক্তিযোদ্ধা  ও সাধারণ মানুষ।

এ ব্যাপারে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার অধ্যাপক দূর্লভ বিশ্বাস  বলেন, "দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই প্রতারক চক্রকে চিহ্নিত করার জোর দাবি করছি।"  

মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সায়েদুর রহমানের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, "এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে। দোষীদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।"