• সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:৩৭ দুপুর

১৯ ঘণ্টা পর পোষা বিড়াল উদ্ধার করলো ফায়ার সার্ভিস!

  • প্রকাশিত ০৩:২৯ বিকেল জানুয়ারী ৫, ২০২০
বিড়াল
ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা হাসপাতাল কম্পাউন্ডে পৌঁছে মই ব্যবহার করে বিড়ালটিকে নামিয়ে আনেন ঢাকা ট্রিবিউন

যশোর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘মানুষের কল্যাণ আর সেবাই আমাদের কাজ। আমরা বিড়ালটিকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করতে পেরেছি এটিই আনন্দের বিষয়’

আটকেপড়ার ১৯ ঘণ্টা পরে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় উদ্ধারকৃত পোষা বিড়ালটি হাতে পেয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েন নাজমা আহমেদ। সেসময় তার চোখ দিয়ে ঝরঝর করে আনন্দাশ্রু পড়তে দেখা যায়! পরম মমতায় বুকে জড়িয়ে ধরে আদর করতে থাকেন তার “মা”কে।

আদরের পোষা এই বিড়ালটিকে মা বলেই ডাকেন তিনি। বিড়ালটিকে সুস্থভাবে উদ্ধার করায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন যশোর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীদের প্রতি।

নাজমা আহমেদ ও জাকির হোসেন দম্পতি যশোর শহরের পূর্ববারান্দিপাড়া এলাকার বাসিন্দা। নাজমা যেখানেই যান, সঙ্গে পোষা বিড়ালটিকে নিতে ভোলেন না। ৪ জানুয়ারি সকালে এই দম্পতি তাদের এক নিকটাত্মীয়ের খোঁজ-খবর নিতে যশোর জেনারেল হাসপাতালে আসেন। তারা যখন হাসপাতালের তৃতীয়তলায় সেই আত্মীয়ের সঙ্গে কথা বলছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তে বিড়ালটি লাফ দিয়ে নিচে নেমে যায়। তারা তখন বুঝতে পারেননি। এরপর বাড়ি ফেরার সময় দেখেন, বিড়ালটি আশেপাশে নেই। পরে বিভিন্ন জায়গায় খুঁজতে শুরু করেন। তবে, দীর্ঘসময় খুঁজেও পাওয়া না গেলে মনোকষ্ট নিয়ে বাড়ি ফিরে যান।

এরপর রবিবার (৫ জানুয়ারি) সকালে বিড়ালটিকে আবারও খুঁজতে আসেন তারা। নাজমার স্বামী জাকির হোসেন দেখেন, বিড়ালটি হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডের বিপরীত বিল্ডিংয়ে তিনতলায় একটি এয়ার কন্ডিশন মেশিনের বাইরে আটকে রয়েছে। 

এরপর জাকির হোসেন  যশোর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অফিসে যান। সেখানকার কর্মকর্তাদের তিনি বিষয়টি বুঝিয়ে বললে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা হাসপাতাল কম্পাউন্ডে পৌঁছে যান। তারা সেখানে মই ব্যবহার করে বিড়ালটিকে নামিয়ে এনে তুলে দেন নাজমা বেগমের হাতে।

আটকেপড়ার ১৯ ঘণ্টা পর ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় উদ্ধারকৃত পোষা বিড়াল হাতে পেয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েন নাজমা আহমেদ। ঢাকা ট্রিবিউন

যশোর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার গোলাম কিবরিয়া বলেন, “মানুষের কল্যাণ আর সেবাই আমাদের কাজ। আমরা বিড়ালটিকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে তার মালিকের কাছে পৌঁছে দিতে পেরেছি এটিই আনন্দের বিষয়।

বছর দুই আগে নাজমা শহরের হাইকোর্ট মোড়ে যাওয়ার পথে নর্দমায় পড়ে থাকতে দেখে তুলে আনেন বিড়ালছানাটি। এরপর থেকে বিড়ালছানাটি তাদের সাথেই থাকে।

নাজমা আহমেদ বলেন, “বিড়ালটি এখন আমাদের পরিবারেরই একজন হয়ে রয়েছে। ও আমাদের সন্তানের মতো।”