• সোমবার, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪০ রাত

নওগাঁয় কৃষি জমির মাটি যাচ্ছে ইট ভাটায়

  • প্রকাশিত ০৯:৫৪ রাত জানুয়ারী ৬, ২০২০
নওগাঁ
কৃষি জমির মাটি যাচ্ছে ইট ভাটায়। ঢাকা ট্রিবিউন

কৃষি উপকরণের মূল্য বৃদ্ধি এবং উৎপাদিত ধানের যথাযথ মূল্য না পাওয়ায় প্রতি বিঘা জমি ১২ হাজার টাকার বিনিময়ে ৫ থেকে ১০ বছর মেয়াদের চুক্তিনামা করে ফসলি জমিতে পুকুর তৈরি করা হচ্ছে

ইট ভাটায় মাটি সরবরাহ করতে গিয়ে নওগাঁর রাণীনগরে ৩ ফসলি কৃষি জমিগুলো পুকুরে পরিণত করা হচ্ছে। এতে উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে কমছে কৃষি জমি। এক শ্রেণির ব্যবসায়ীদের প্রলোভনে পড়ে কৃষকেরা চাষের পরিবর্তে ফসলি জমির মাটি বিক্রি করতে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।  

জানা গেছে, উপজেলার মিরাট ইউনিয়নের অধিকাংশ কৃষি জমিতে মেশিন দিয়ে ৮ ফুট গভীর করে চলছে পুকুর খননের মহোৎসব। রাত-দিন বিরতিহীন পুকুর খনন করে সেই মাটি রাণীনগর, আত্রাই উপজেলা এবং বগুড়া জেলার আদমদিঘী উপজেলার সান্তাহারের বিভিন্ন ইট ভাটাতে মাটি সরবারহ করা হচ্ছে। কৃষকরা না বুঝে একদিকে হারাচ্ছে তাদের ফসলী জমি অন্যদিকে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছেন অসাধু “পুকুর ব্যবসায়ী” মহল। ব্যক্তি মালিকানা জমির পাশাপাশি সরকারের ১নং খতিয়ানভুক্ত জমিও এই পুকুর দস্যুদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। 

উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে নদী-নালা খাল-বিল বাদে প্রায় সাড়ে ২১ হাজার হেক্টর ফসলি জমি রয়েছে। শ্রেণিভেদে প্রায় সকল জমিতেই সারা বছর কোনো না কোনো ফসল উৎপাদন হয়। কৃষি উপকরণের মূল্য বৃদ্ধি এবং উৎপাদিত ধানের যথাযথ মূল্য না পাওয়ায় প্রতি বিঘা জমি ১২ হাজার টাকার বিনিময়ে ৫ থেকে ১০ বছর মেয়াদের চুক্তিনামা করে ফসলি জমিতে পুকুর তৈরি করা হচ্ছে। জমির সেই মাটি প্রতি গাড়ি (ট্রাক্টর) সাতশত টাকায় বিভিন্ন ইট ভাটায় বিক্রয় করছে পুকুর ব্যবসায়ীরা। ভূমি আইনের নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে আবাদী কৃষি জমিতে অবাদে পুকুর খনন করায় দিনদিন কমে যাচ্ছে ফসলি জমি, অন্যদিকে পাশের জমির কৃষকরা বিভিন্ন সমস্যার কারণে ধান রোপণে বাধগ্রস্ত হচ্ছেন। ফলে বাধ্য হয়েই কেউ চলে যাচ্ছেন পুকুর দস্যুদের কাছে আবার কেউ কেউ জমি চাষ না করে ফেলে রাখছেন। এতে চলতি মৌসুমে প্রায় ৬শত হেক্টর জমিতে বোরো চাষ কম হওয়ার আশংকা করছে কৃষি বিভাগ। উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে পুকুর খননের প্রবণতা লক্ষ্য করা গেলেও বিশেষ করে মিরাট ইউনিয়নের আয়াপুর ও আতাইকুলা মৌজার ১ নম্বর ও ২ নম্বর স্লুইচ গেট নামক স্থানে পুকুর খননের প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা গেছে। ইতোমধ্যেই শুধুমাত্র মিরাট ইউনিয়নেই ৫০টিরও বেশি পুকুর খনন করা হয়েছে। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শহীদুল ইসলাম বলেন, “কৃষি জমিতে স্কেভেটার মেশিন দিয়ে মাটি কেটে পুকুর খননের কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ হওয়ার আশংকায় মিরাট ইউনিয়নের আতাইকুলা মৌজার বেশকিছু জমিতে চলতি মৌসুমে বোরো ধান না হওয়ার আশংকা রয়েছে। আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে আসছি পুকুর খনন থেকে বিরত থাকার জন্য। তবে কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধি করাসহ দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন বলেন, “এদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”