• বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:২৬ সকাল

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুলে মহিলা কলেজে চান্স পেলো ৬ পুরুষ!

  • প্রকাশিত ০৩:৪৩ বিকেল জানুয়ারী ৭, ২০২০
টাঙ্গাইলের সখীপুর আবাসিক মহিলা কলেজ
টাঙ্গাইলের সখীপুর আবাসিক মহিলা কলেজ।ঢাকা ট্রিবিউন

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোয় স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়ার জন্য গত ১১ থেকে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা অনলাইনে আবেদন করেন

টাঙ্গাইলের সখীপুর আবাসিক মহিলা কলেজে স্নাতকোত্তর প্রথম বর্ষের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে ভর্তির চূড়ান্ত তালিকায় ছয়জন ছাত্রের নাম এসেছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হওয়া চূড়ান্ত তালিকায় তাদের নাম রয়েছে। 

ওই ছয়জন হলেন- আবদুল আলীম, সজল হোসেন, ফরহাদ আলম, রাসেল হোসাইন, হৃদয় খান ও সেলিম মাহমুদ। 

সখীপুর আবাসিক মহিলা কলেজ সূত্র জানায়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোয় স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়ার জন্য গত ১১ থেকে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা অনলাইনে আবেদন করেন। ওই ছয় ছাত্র সরকারি সা'দত কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হওয়ার জন্য অনলাইনে ফরম পূরণ করেন। মেধার ভিত্তিতে সরকারি সা'দত কলেজের কোটা পূরণ হওয়ায় তারা ওই কলেজে ভর্তির সুযোগ পায়নি। 

এদিকে সখীপুর আবাসিক মহিলা কলেজের ৫০টি আসনের বিপরীতে মাত্র নয়জন মেয়ে শিক্ষার্থী প্রথম দফায় ভর্তি হন। আরও ৪১টি আসন শূন্য ছিল। দ্বিতীয় দফায় শূন্য আসন পূরণের লক্ষ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় গত ১৯ থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রিলিজ স্লিপের মাধ্যমে ভর্তির সুযোগ দেয়। তখন সা'দত কলেজে ভর্তির সুযোগ না পাওয়া ওই ছয় ছাত্র রিলিজ স্লিপে ভর্তি হওয়ার জন্য সখীপুর আবাসিক মহিলা কলেজসহ আরও দুটি কলেজ নির্বাচন করে অনলাইনে ফরম পূরণ করেন। 

পরে গত ২ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় সখীপুর আবাসিক মহিলা কলেজে শূন্য ৪১ আসনে ৪১ জন শিক্ষার্থীকে ভর্তির জন্য যোগ্য বলে দেখানো হয়। এই তালিকায় ছয়জন ছেলের নাম দেখে হতবাক হন মহিলা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকরা।

এ বিষয়ে রাসেল হোসাইন নামের ওই ছয় ছাত্রের একজন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, "অনলাইনে আবেদনের সময় মহিলা কলেজের নামে ক্লিক করার পর আমাদের আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু ওয়েবসাইটে ওই ধরনের ব্যবস্থা থাকলে আমাদের আবেদন গ্রহণ হতো না। ফলে আমরা হয়তো অন্য কলেজে ভর্তি হতে পারতাম।  দ্বিতীয়বার রিলিজের মাধ্যমে আমাদের ভর্তির সুযোগ দিতে হবে। তা না হলে আমারা এক বছর পিছিয়ে যাব। এতে আমাদের অনেক ক্ষতি হবে।" 

এ প্রসঙ্গে সখীপুর আবাসিক মহিলা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান এস এম জাকির হোসাইন বলেন, "ওই ছয় ছেলে শিক্ষার্থীর কোনোভাবেই মহিলা কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ নেই। তাদেরকে এখন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগাযোগ করতে হবে।"

সখীপুর আবাসিক মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, "ওই ছাত্রের ভুলে বা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুলে এমনটা হয়েছে। ভর্তির চূড়ান্ত তালিকায় নাম থাকা ওই ছয় ছাত্র ভর্তি হওয়ার জন্য আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।  পরে তারা ভর্তি হওয়ার সুযোগ না পেয়ে চয়ে গেছেন। মহিলা কলেজে তাদের ভর্তির সুযোগ নেই।" 

তিনি আরও বলেন, "যদি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় চায় তাহলে তাদেরকে অন্য কলেজে ভর্তির ব্যবস্থা করে দিতে পারে।"