• সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:২৫ দুপুর

নারায়ণগঞ্জে ২২ কেজি ওজনের বিপন্ন প্রজাতির বন বিড়াল উদ্ধার!

  • প্রকাশিত ০৭:০৯ রাত জানুয়ারী ৭, ২০২০
নারায়ণগঞ্জ
ফতুল্লার পঞ্চবাটি এলাকার একটি পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান থেকে বন বিড়ালটি উদ্ধার করা হয়। ঢাকা ট্রিবিউন

উদ্ধারকৃত বন বিড়ালটির ওজন ২২ কেজি। নার্গিস সুলতানা বলেন, ‘এত বড় বন বিড়াল আগে কখনও উদ্ধারের ঘটনা আগে ঘটেনি’

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে বিলুপ্ত প্রায় একটি বন বিড়াল উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের সহযোগী সদস্যরা।

মঙ্গলবার (০৭ জানুয়ারি) সকালে সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার পঞ্চবাটি এলাকার একটি পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান থেকে বন বিড়ালটি উদ্ধার করা হয়।

বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের সহযোগী এম এম সাদ বলেন, “খাবারের খোঁজে বন বিড়ালটি লোকালয়ে প্রবেশ করেছিল। পরে স্থানীয়রা সেটিকে আটক করে। এ সময় বিড়ালটি কিছুটা আহত হয়েছে। সুস্থ করার পর বিড়ালটিকে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”

তিনি জানান, এর আগে ঢাকার শাহবাগ থেকে একই প্রজাতির একটি বন বিড়ালের চামড়া উদ্ধার করা হয়েছিল।

জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা বাসনা আখতার বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। যেহেতু এটি বন বিড়াল সেক্ষেত্রে বিষয়টি বন বিভাগ দেখবে। তবে বিড়ালটি যদি আহত থাকে তাহলে বন বিভাগ যদি মনে করে প্রাণীটির চিকিৎসার জন্য আমাদের কাছে হস্তান্তর করবে তবে সেটি গ্রহণ করতে আমরা রাজি আছি।”

বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক নার্গিস সুলতানা ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, উদ্ধারকৃত বন বিড়ালটির ওজন ২২ কেজি। তিনি বলেন, “এত বড় বন বিড়াল আগে কখনও উদ্ধারের ঘটনা আগে ঘটেনি।”


আরও পড়ুন - পদ্মা সেতুর চীনা শ্রমিকদের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিলো সজারু


বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা জোহরা মিলা ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, বন বিড়াল (Jungle cat)  জংলি বিড়াল, খাগড়া বিড়াল বা জলাভূমির বিড়াল হিসেবে পরিচিত। মূলত গাছের কোটর, গুহা, জলাশয়ের ধারের ঝোপঝাড়, পুরনো ভাঙ্গা দালান-কোঠা ও গ্রামীণ বনে এরা বাস করে। এটি খুবই চালাক প্রকৃতির প্রাণী। মাটিতে যেমন দ্রুত দৌড়াতে পারে তেমনই গাছে ওঠা, বা সাঁতারেও খুব দক্ষ। নিশাচর এই প্রাণীটি খাবারের সন্ধানে এক রাতে ৩ থেকে ৬ কিলোমিটার পর্যন্ত পথ পাড়ি দেয়। ইঁদুর, পাখি, পোকামাকড়, খরগোস, গিরগিটি, মাছ, ব্যাঙ ইত্যাদি খেয়ে থাকে। তবে মাঝে মাঝে এরা গাছের ফল বা কৃষকের হাঁস-মুরগিও খায়।

তিনি বলেন, “ব্যাপক নিধন ও বাসস্থান ধ্বংসের কারণে বন বিড়াল বিপন্ন। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) বনবিড়ালকে “ন্যূনতম বিপদগ্রস্থ” বলে তালিকাভুক্ত করেছে। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনের এক নম্বর তফসিল অনুযায়ী এই বন্যপ্রাণী সংরক্ষিত। তাই এটি হত্যা, শিকার বা এর কোনো ক্ষতিকরা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।”


আরও পড়ুন - ঘরের ভেতর বসেছিল মেছো বাঘ