• সোমবার, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪০ রাত

স্ত্রী'র সঙ্গে বাবার পরকীয়ার বলি ছেলে!

  • প্রকাশিত ০৪:৩৭ বিকেল জানুয়ারী ৮, ২০২০
হত্যা
প্রতীকী ছবি

বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই শ্বশুরের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন ওই নারী। তাদের আচরণ ও কার্যকলাপে সন্দেহ হয় ওই যুবকের

পুত্রবধূর সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার আবু জাফর স্বপন (৫২) নামে এক ব্যক্তির। বাধা দেওয়ায় বাবা ও স্ত্রী'র পরিকল্পনায় খুন হন হাবিবুল্লাহ (২৫) নামে এক যুবক।

গত ২৬ ডিসেম্বর তিনি নিখোঁজ হন। ৩০ ডিসেম্বর বিকেলে ঘাটাইল উপজেলার সংগ্রামপুর ইউনিয়নের বগা গ্রামে হাবিবুল্লাহর মরদেহ পাওয়া যায়। ছেলের মরদেহ পাওয়ার পর ওইদিন রাতেই অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় হত্যা মামলা করেন আবু জাফর স্বপন।

বুধবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে ঘাটাইল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহিন মিয়া ঢাকা ট্রিবিউনকে এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, প্রাথমিক তদন্তের পর ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নিহত হাবিুল্লাহর স্ত্রী ছবুরা বেগমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গত ৫ জানুয়ারি টাঙ্গাইলের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে শ্বশুরের সঙ্গে পরকীয়া এবং তাতে বাধা দেওয়ায় স্বামীকে খুনের পরিকল্পনার বিষয়টি স্বীকার করে সে। তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে গত ৬ জানুয়ারি গ্রেফতার করা হয় আবু জাফর স্বপনকে।

আদালতে ছবুরার দেওয়া জবানবন্দির উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশ জানায়, বাবা ও স্ত্রী'র পরকীয়ার বলি হাবিবুল্লাহ পেশায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ছিলেন। আটমাস আগে কালিহাতী উপজেলার ছবুরাকে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই শ্বশুরের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে ছবুরা। তাদের আচরণ ও কার্যকলাপে সন্দেহ হয় হাবিবুল্লাহর। এমতাবস্থায় একদিন বাবার সঙ্গে নিজের স্ত্রীকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেন তিনি। 

এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে স্ত্রী ছবুরা ও বাবার সঙ্গে মনোমালিন্য শুরু হয় হাবিবুল্লাহর। একপর্যায়ে ছেলেকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করেন আবু জাফর। তাতে সম্মতি দেয় ছবুরা। 

পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২৬ ডিসেম্বর তাদের ভাড়া করা খুনিরা হাবিবুল্লাহকে অপহরণ করে। চারদিন পর অর্থাৎ গত ৩০ ডিসেম্বর বিকেলে ঘাটাইল উপজেলার সংগ্রামপুর ইউনিয়নের বগা গ্রামের একটি বাড়ির পাশে একচোখ উপড়ে ফেলা অবস্থায় হাবিবুল্লাহর মরদেহ পাওয়া যায়। তবে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে খুনিদের পরিচয় বলতে পারেনি ছবুরা। 

এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যান্যদেরকেও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন ঘাটাইল থানার এসআই শাহিন মিয়া।