• শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:০৩ সকাল

‘ভাই সেজে’ দুই নারীকে ধর্ষণচেষ্টা: ভুয়া সেনাসদস্য গ্রেফতার

  • প্রকাশিত ০৭:৩৬ রাত জানুয়ারী ৮, ২০২০
নারায়ণগঞ্জ ধর্ষণ
দুই নারীকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ থেকে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব ঢাকা ট্রিবিউন

দুই বোনকে ভয় দেখিয়ে ঢাকা থেকে বরিশালগামী একটি লঞ্চের কেবিনে উঠিয়ে বরিশালের উদ্দেশে রওনা দেয় সে

নারায়ণগঞ্জে দুই নারীকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে আলমগীর হোসেন (২৫) নামে  এক ভুয়া সেনাসদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১। ভুক্তভোগীরা আপন বোন। এছাড়া, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপত্তিকর ছবি পোস্টের অভিযোগও রয়েছে অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সাইনবোর্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার বিকেলে র‌্যাব-১১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলেপ উদ্দিন এসব তথ্য জানান। 

অভিযুক্ত আলমগীরের বাড়ি নেত্রকোণার কেন্দুয়ায়। আলেপ উদ্দিন বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে সে অভিযোগ স্বীকার করেছে। 

আসামির বরাত দিয়ে এই র‍্যাব কর্মকর্তা জানান, ২০১২ সালে ঢাকা সেনানিবাসের “কচুক্ষেত আর্মি স্টোরে” চাকরি নেয় আলমগীর। চাকরির সুবাদে সেনাবাহিনীর আইডিকার্ড নকল এবং পোশাক সংগ্রহ করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা শুরু করে। বিভিন্ন সময় সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‌্যাব সদস্য পরিচয় দিয়ে একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে প্রতারণা করে সে। 

এরই ধারাবাহিকতায় সেনাসদস্যের মিথ্যা পরিচয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খুলে নারীদের সঙ্গে কথিত ভাই-বোনের সম্পর্ক গড়ে তুলতো সে। এমনই সম্পর্ক ছিল জের ধরে গত ২৫ ডিসেম্বর ভুক্তভোগী নারীদের বাড়িতে যায় এবং কৌশলে তাদের একাধিক আপত্তিকর ছবি মুঠোফোনের ক্যামেরায় ধারণ করে।

রাতেই সে ভুক্তভোগীদের একজনকে ধর্ষণচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য হুমকি দিয়ে তাদের বাড়ি থেকে চলে যায়। কিন্তু পরবর্তীতে কথামতো তার চাহিদামতো ঘুরতে না গেলে আপত্তিকর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিতে শুরু করে আলমগীর। 

গত ৩০ ডিসেম্বর ওই দুই বোনকে ভয় দেখিয়ে ঢাকা থেকে বরিশালগামী একটি লঞ্চের কেবিনে উঠিয়ে বরিশালের উদ্দেশে রওনা দেয় সে। মধ্যরাতে দুই বোনকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় ও জোর করে আপত্তিকর ছবি মুঠোফোনের ক্যামেরায় ধারণ করে। পরদিন ভোরে দুই বোনের ব্যবহৃত ফোন, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত আলমগীর।

আলেপ উদ্দিন আরও বলেন, ভুক্তভোগীদের পরিবারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।