• সোমবার, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪০ রাত

হত্যাকাণ্ডের আলামত সংগ্রহে গিয়ে হামলায় আহত ৫ পিবিআই কর্মকর্তা

  • প্রকাশিত ১০:০২ সকাল জানুয়ারী ৯, ২০২০
ঝিনাইদহ পিবিআই
ঝিনাইদহে আসামির স্বজনদের হামলায় আহত পিবিআই সদস্যদের দু'জন ঢাকা ট্রিবিউন

খবর পেয়ে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স গিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে

রিমান্ডে থাকা আসামির স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করতে গিয়ে আসামিপক্ষের লোকজনের হামলায় আহত হয়েছেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ৫ কর্মকর্তা। খবর পেয়ে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স গিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। এই হামলার ঘটনায় মুশফিকুর রহমান ডাবলু ও মুশতাক আহম্মেদ লাভলু নামে দুই সহোদরকে আটক করেছে থানা পুলিশ।

বুধবারা (৮ জানুয়ারি) রাত ১০টার দিকে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার আড়পাড়া গ্রামে হামলার শিকার পিবিআই সদস্যরা হলেন- মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সোহেল হোসেন, এসআই হুমায়ুন, এএসআই হাফিজুর রহমান, এএসআই মো. জাফর, এএসআই আব্দুল খালেক। অভিযুক্তরা এএসআই হাফিজুর রহমানকে ঘরের মধ্যে আটকে রেখে মারধর করা হয় বলে পিবিআই-এর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

ঝিনাইদহ পিবিআই-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এমকে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, গত ৩০ নভেম্বর কালীগঞ্জের আড়পাড়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মাদ্রাসাছাত্র আল-আমিন নিখোঁজ হয়। ডিসেম্বরের ৪ তারিখ তার গলাকাটা মরদেহ পাওয়া যায়। ওই ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়।

মামলাটির তদন্তভার পায় ঝিনাইদহ পিবিআই। 

তদন্তের ভিত্তিতে কিছুদিন আগে কালীগঞ্জের আড়পাড়া গ্রামের মুশফিকুর রহমান ডাবলুর ছেলে তারিক হাসান সাব্বির ও আব্দুস সামাদ মিল্টনের ছেলে ইয়াসিন আরাফাত হৃদয়কে গ্রেফতার করে পিবিআই। তাদের দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হলে সাব্বির হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি স্বীকার করে এবং হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি ও যে মুঠোফোন দিয়ে খুন হওয়া ছাত্রকে এসএমএস করা হয়েছিল সেটি তাদের বাড়িতে আছে বলে জানায়।

পিবিআই জানায়, আসামির স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহেল হোসেন বুধবার রাত ১০টার দিকে আড়পাড়া গ্রামের ওই বাড়িতে আলামত উদ্ধারে যান। ফিরে আসার জন্য গাড়িতে ওঠার সময় আসামির বাবা মুশফিকুর রহমান ডাবলু ও চাচা মুশতাক আহম্মেদ লাভলুর নেতৃত্বে ১২ থেকে ১৩ জনের একটি দল পিবিআই সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। এএসআই সোহেল হোসেনকে আটকে রেখে মারধর করে। ছিনিয়ে নেওয়া হয় সংগৃহীত আলামত ও মামলার কিছু নথিপত্র। আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয়।

পরে থানা থেকে পুলিশ সদস্যরা গিয়ে পিবিআই সদস্যদের উদ্ধার করেন। আহত ৫ কর্মকর্তার মধ্যে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সোহেল হোসেন ও এএসআই হাফিজুর রহমানের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। 

পুলিশের ওপর আক্রমণ করে আসামি ছিনতাই চেষ্টা ও মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

তবে আসামি সাব্বিরের আরেক চাচা কালীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান বিজু মুঠোফোনে সাংবাদিকের কাছে অভিযোগ করে বলেন, পিবিআই সারাদিন বাড়ির পুকুরে খুঁজে কোনো অস্ত্র পায়নি। রাতে রান্নাঘরে এসে ছোট একটি চাকু হাতে দিয়ে ছবি তুলে নিয়ে যাচ্ছিল। তখন তাদের একজনকে ধরে রাখা হয়।

কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহা. মাহফুজুর রহমান মিয়া বলেন, হত্যা মামলার আলামত উদ্ধার করতে যাওয়া পিবিআই সদস্যদের ওপর হামলা করা হয়েছে। এই ঘটনায় মুশফিকুর রহমান ডাবলু ও মুশতাক আহম্মেদ লাভলুকে আটক করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।