• শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:২২ দুপুর

উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে জাবিতে বিক্ষোভ অব্যাহত

  • প্রকাশিত ০৩:৩৪ বিকেল জানুয়ারী ৯, ২০২০
জাবি
উপাচার্য অপসারণ ও ছাত্রলীগের বিচার দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। ঢাকা ট্রিবিউন

‘অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো নিয়ম না মেনে তার নিজের মতো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। একজন দুস্কৃতিকারী, দুর্নীতিবাজ ও চোর উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচর্যের পদে আসীন থাকুক এটা আমরা চাই না’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের অপসারণের দাবিতে এবং গত পাঁচ নভেম্বরের ছাত্রলীগের হামলার বিচারের দাবিতে আবারও বিক্ষোভ করেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশ।

মিছিলে “তদন্তের নামে দুর্নীতিবাজকে প্রশ্রয়ের টালবাহানা বন্ধ কর” ও “সন্ত্রাসের মদদদাতা দুর্নীতিবাজ উপাচার্যকে অপসারণ কর” বলে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা।

বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে “দুর্নীতি বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর” ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ থেকে একটি মিছিল বের করেন আন্দোলনকারীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

ছাত্র ইউনিয়ন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কার্যকরী সদস্য রাকিবুল হক রনির সঞ্চালনায় সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট (মার্ক্সবাদী) বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত দে বলেন, “গত ৫ নভেম্বরের ছাত্রলীগের হামলা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা কালো দিন হিসেবে বিবেচিত। আজ দুই মাস হয়ে গেলো কিন্তু এখনো এ হামলার কোনো সুরাহ হয়নি। আমরা বারংবার বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের কাছে গেছি এবং বলেছি এর তদন্ত হোক কিন্তু উনি আমাদের উল্টো ষড়যন্ত্রকারী বলেন। একজন দুর্নীতিবাজ কখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হতে পারেন না, সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক কখনও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হতে পারেন না, একজন প্রতারক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হতে পারেন না।”

বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. তারেক রেজা বলেন, “বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দুস্কৃতিকারী তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতি করে থাকে। ঠিক তেমনিভাবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য তার পদকে ধরে রাখার জন্য একের পর এক দুর্নীতি করে যাচ্ছে। একজন উপাচার্যকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু নিয়ম-নীতি মেনে কাজ করতে হয় কিন্তু বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো নিয়ম না মেনে তার নিজের মতো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। একজন দুস্কৃতিকারী, দুর্নীতিবাজ ও চোর উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচর্যের পদে আসীন থাকুক এটা আমরা চাই না।”

আন্দোলনকারী শিক্ষক শিক্ষার্থীদেরকে অভিনন্দন ও তাদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব আনু মুহাম্মদ বলেন, “দুর্নীতি এবং সন্ত্রাস যমজ ভাইয়ের মতো। কারণ দুর্নীতি যেখানে থাকে সেখানে সন্ত্রাস থাকেই। দুর্নীতি করতে হলে সর্বজনের অধিকার খর্ব করেই করতে হয়। এটা বিভিন্ন ভাবে হয়ে থাকে। আজকে সারা দেশে ধর্ষণ বেড়ে গেছে শ্রমিক হত্যা বেড়ে গেছে। এর পিছনে রাষ্ট্র পরিচালকদের হাত রয়েছে। আজ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে যেভাবে দুর্নীতি চলে আসছে তার বিরুদ্ধে শিক্ষক শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন কিন্তু সরকার এটার কোনো তদন্ত করছে না, বিচারও করছে না। এতে বোঝায় যায় সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে নয় বরং পক্ষেই রয়েছে।”

সমাবেশে দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস, জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম পাপ্পুসহ বিভিন্ন বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

প্রসঙ্গত, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা থেকে আবাসিক হলের কাজের শুরুর দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগকে এক কোটি এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগকে এক কোটিসহ মোট দুই কোটি টাকা দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর থেকে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করে আন্দোলন শুরু করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশ। গত চার মাস যাবৎ এ উপাচার্য বিরোধী আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন তারা।