• সোমবার, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪০ রাত

সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত

  • প্রকাশিত ০৮:৫৭ রাত জানুয়ারী ৯, ২০২০
বিএসএফ
বাংলাদেশ সীমান্তে টহলরত বিএসএফ। ফাইল ছবি এএফপি

‘সীমান্ত অতিক্রম করে পাঁচকাঠা ভেতরে প্রবেশ করে নদী পার হবো, এমন সময় জঙ্গলে লুকিয়ে থাকা বিএসএফ সদস্যরা লাইটের আলো জ্বালিয়ে আমাদের ওপর গুলি চালায়’

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে সেলিম ও সুমন নামে দুই বাংলাদেশি রাখাল নিহত হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) ভোরে জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর ইউনিয়নের ওয়াহেদপুর সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। 

নিহতরা হলেন- জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার পাকা ইউনিয়নের বাবুপুর নিশিপাড়া গ্রামের বুদ্ধ মিয়ার ছেলে সেলিম (২৮) ও দূর্লভপুর ইউনিয়নের দশরশিয়া গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে সুমন (২২)। এ সময় আহত হয়েছেন আরও দুইজন। আহতরা হলেন- পাকা ইউনিয়নের নামোজগন্নাথপুর গ্রামের তোফাজ্জল আলীর ছেলে সাকির ও নজরুল ইসলামের ছেলে লালবর আলী। দুর্লভপুর ইউনিয়নের চেয়ারমান আব্দুর রাজীব রাজু নিহত ও আহতের বিষয়টি  নিশ্চিত করেছেন।  

স্থানীয়রা জানান, ওয়াহেদপুর সীমান্ত দিয়ে সেলিম, সুমনসহ বেশ কয়েকজনের একটি দল বুধবার দিবাগত রাতে ভারতে গরু আনতে যায়। এ সময় ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে ওপারে ভারতীয় চাঁদনী চক ক্যাম্পের টিকলীরচর এলাকায় বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে সেলিম ও সুমন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান এবং লালবর ও সাকির আহত হন। সহযোগীরা তাদের লাশ উদ্ধার করে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। সকালে পরিবারের লোকজন গোপনে তাদের দুজনের মরদেহ দাফন করে বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।


আরও পড়ুন - ৯ বছরেও বিচার হয়নি ফেলানী হত্যার


এদিকে, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের উপ-পরিচালক সাইফুল ফেরদৌস জানান, ৪ নম্বর ওয়ার্ডে লালবর আলী (১৮) ভর্তি আছেন। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার পাকা ইউনিয়নের নজরুল ইসলামের ছেলে। ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন সাকির। তিনিও একই ইউনিয়নের নামোজগন্নাথপুর গ্রামের তোফাজ্জল আলীর ছেলে। ভোর ৩টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন লালবর (১৮) বলেন, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে গরু আনতে ১১ জনের একটি দল সীমান্তের ওপারে গরু আনতে গিয়েছিলাম। সীমান্ত অতিক্রম করে পাঁচকাঠা ভেতরে প্রবেশ করে নদী পার হবো, এমন সময় জঙ্গলে লুকিয়ে থাকা বিএসএফ সদস্যরা লাইটের আলো জ্বালিয়ে আমাদের ওপর গুলি চালায়।

এ ব্যাপারে ৫৩ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহবুবুর রহমান খানের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “হতাহতের বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত তাদের লাশ কোথায় আছে এটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং তাদের স্বজন ও পরিবারের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা কোনো তথ্য দেয়নি।”