• সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:৩৭ দুপুর

কয়েন নিতে চায় না ভিক্ষুকেরাও

  • প্রকাশিত ০৯:৩২ রাত জানুয়ারী ৯, ২০২০
কয়েন
বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন মূল্যমানের মুদ্রা। ঢাকা ট্রিবিউন

সারাদিনে জমানো ভিক্ষার খুচরা পয়সাগুলো দিয়ে কোথাও কোনো কিছু কিনতে গেলে দোকানদাররা তা নিতে চায় না। ফলে সারাদিনের ভিক্ষায় অর্জিত খুচরা পয়সাগুলো নিয়ে তা টাকায় রূপান্তর করতে গিয়ে বা কেনাকাটা করতে গিয়ে তাদের চরম বিপাকে পড়তে হয়

পাঁচ, দশ, পঁচিশ ও পঞ্চাশ পয়সার কয়েন আইনগতভাবে এখনও চালু থাকলেও গাইবান্ধার হাট-বাজার বা শহরে কেনাকাটায় লেনদেনে কোথাও এখন আর তার প্রচলন নেই। এমনকি ভিক্ষুকেরাও এসব খুচরা পয়সা এমনকি এক টাকার কয়েন নিতে চায় না!

সম্প্রতি গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ করেও পাঁচ পয়সা, দশ পয়সা, পঁচিশ বা পঞ্চাশ পয়সার মুদ্রা খুঁজে পাওয়া যায়নি। এই মুদ্রাগুলোর প্রচলন না থাকার একমাত্র কারণ হচ্ছে কেনাকাটার কোনো পর্যায়েই খুচরা পয়সার প্রয়োজন পড়ে না। এমনকি এক টাকার কয়েন দিয়েও এখন কিছু কমদামি চকলেট ও লজেন্স ছাড়া আর কিছুই কিনতে পাওয়া যায় না। একটি খিলিপান বা ভালো চকলেট কিনতেও প্রয়োজন হয় ৫ টাকা। গাইবান্ধার বাজারে চালু মুদ্রাগুলোর মধ্যে সব চাইতে বেশি প্রচলন রয়েছে ২ টাকা ও ৫ টাকার কয়েন। 

গাইবান্ধা শহরের একটি স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী তাহমিদ ইসলাম জানায়, ৫ পয়সা, ১০ পয়সা, ২৫ ও ৫০ মুদ্রা সে কখনও দেখেনি। শুধু বইয়ে পড়েছে বা ছবি দেখেছে।

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা শহরের ভিক্ষুক সমস্তভান বেওয়া জানান, খুচরা পয়সা না নেওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে সারাদিনে জমানো ভিক্ষার খুচরা পয়সাগুলো দিয়ে কোথাও কোনো কিছু কিনতে গেলে দোকানদাররা তা নিতে চায় না। ফলে সারাদিনের ভিক্ষায় অর্জিত খুচরা পয়সাগুলো নিয়ে তা টাকায় রূপান্তর করতে গিয়ে বা কেনাকাটা করতে গিয়ে তাদের চরম বিপাকে পড়তে হয়।

সাদুল্লাপুর উপজেলা সদরের কেন্দ্রীয় মসজিদের ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব নুরুন নবী আকন্দ জানান, মসজিদের দান বাক্সে ১ টাকা, ২ টাকা ও ৫ টাকার অনেক কয়েন জমা পড়ে। কিন্তু তা দিয়ে কোনো কিছু কিনতে চাইলে দোকানদার নিতে চায় না। এমনকি ব্যাংকে গিয়ে কয়েন বদলিয়ে টাকা নিতে গিয়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হয়রানির শিকার হতে হয়।

সোনালি ব্যাংকের স্থানীয় শাখার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, খুচরা পয়সা গুণে নেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সময়ের অপচয় হয়, কাজটি ঝামেলারও। আমাদের স্টাফ কম। খুচরা পয়সা আমরা নিই। তবে রেগুলার নেওয়া সম্ভব হয় না।