• বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:২৬ সকাল

'ঘড়িগুলো ভালোবাসার উপহার'

  • প্রকাশিত ১০:৫১ রাত জানুয়ারী ৯, ২০২০
ওবায়দুল কাদের
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি। সংগৃহীত


'আমি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবো, কোনো কন্ট্রাকটরকে আমার সাথে বসতেও দিই না, আমার সাথে কোনো কন্ট্রাকটরের বৈঠক হয় না'

নিজের ব্যবহৃত বিলাসবহুল ঘড়ি ও পোশাকের সবই প্রবাসে থাকা দলের শুভাকাঙ্ক্ষী ও কর্মীদের কাছ থেকে "ভালোবাসার উপহার" হিসেবে পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সমসাময়িক ঘটনা নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, “আমার যত ঘড়ি আছে একটাও আমার নিজের না, পয়সা দিয়ে কেনা না। ধরেন আপনি বিদেশে গেলেন এসে আমাকে একটা ঘড়ি দিলেন, আমি নিলাম।”

এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে সুইডেনভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল "নেত্র নিউজ"-এর একটি প্রতিবেদনে ওবায়দুল কাদেরের ব্যবহৃত বিলাসবহুল ঘড়িগুলো নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের ব্যবহৃত বিভিন্ন নামী ব্র্যান্ডের ঘড়ির প্রতিটির বর্তমান বাজারমূল্য ৯ লাখ টাকা থেকে ২৮ লাখ টাকা পর্যন্ত।

এপ্রসঙ্গে কাদের বলেন, "এটা একেবারে... ফর গডস সেক, আমি বলছি এগুলো, আমার দামি পোশাক... এগুলো আমার কেনা না। আমি পাই, হয়তো আমাকে অনেকে ভালবাসে… আমার অনেক কর্মী আছে, তারা বিদেশে আছে, আসার সময় তারা আমার জন্য স্যুট নিয়ে আসে। এই যেমন গতকালই একজন সিঙ্গাপুর থেকে তিনটা কোটি বানিয়ে নিয়ে এসেছে।" 

নেত্র নিউজের ওই প্রতিবেদনে, কাদেরের ব্যবহৃত ঘড়িগুলোর মধ্যে একটি ঘড়ি সড়ক পরিবহন খাতের কোনো একটি কন্ট্রাক্ট পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ঠিকাদারের কাছ থেকে "উপহার" হিসেবে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।

সাংবাদিকরা এবিষয়ে প্রশ্ন করলে এর উত্তর দিতে গিয়ে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, "এটা সড়কের সাথে কোন… আমি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবো, কোনো কন্ট্রাকটরের থেকে… কোনো কন্ট্রাকটরকে বসতেও দিই না, আমার সাথে কোনো কন্ট্রাকটরের বৈঠক হয় না, যেটা হতো অতীতে।"

মন্ত্রী আরও বলেন, "আজকাল প্রমোশনের জন্য কোনো তদবির হয় না। কন্ট্রাকটররা ইলেকশনের আগে একটা অ্যামাউন্ট দিতে চেয়েছিল, সরাসরি না করেছি। আমারে ইলেকশনের টাকা প্রধানমন্ত্রী নিজেই দিয়েছেন, কারো থেকে টাকা নিতে হয়নি।”

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের সাধারণ ওবায়দুল কাদেরকে নেতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশ করার পর থেকে বাংলাদেশ থেকে ওই নিউজ পোর্টালটিতে আর প্রবেশ করা যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ উঠেছে।