• সোমবার, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪০ রাত

বুড়িগঙ্গা থেকে নিখোঁজের চারদিন পর ধলেশ্বরী থেকে প্রকৌশলীর মরদেহ উদ্ধার

  • প্রকাশিত ০৭:০৪ রাত জানুয়ারী ১০, ২০২০
প্রকৌশলী জিসান
বাংলা ক্যাট কোম্পানির নিহত প্রকৌশলী জিসান ঢাকা ট্রিবিউন

স্বজনদের দাবি, নদীতে ডুবে তার মৃত্যু হয়নি। তাকে হত্যা করা হয়েছে। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বুড়িগঙ্গা নদী থেকে নিখোঁজ হওয়ার চারদিন পর মাহফুজুর রহমান জিসান নামে এক প্রকৌশলীর পেটকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস।

শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) বেলা এগারটার দিকে মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান এলাকায় ধলেশ্বরী নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন ডুবুরিরা। ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসলাম হোসেন ঢাকা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ঘটনাটিকে “হত্যাকাণ্ড” দাবি করে সুষ্ঠু তদন্ত চেয়েছেন নিহতের স্বজনরা। তবে ওইদিন প্রকৌশলী জিসানের সঙ্গে থাকা সহকর্মী প্রকৌশলী লিখন সরকার এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। তার সন্ধানে অভিযান চলছে।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বিসিক স্টেশনের সিনিয়র অফিসার মো. কাজল মিয়া জানান, নিখোঁজ দুই প্রকৌশলীর সন্ধানে শুক্রবার সকাল থেকেই বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি অভিযান শুরু করে ডুবুরিদল। একপর্যায়ে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান এলাকায় ধলেশ্বরী নদীতে ডুবে থাকা অবস্থায় জিসানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে স্বজনরা গিয়ে তাকে শনাক্ত করেন।

তবে প্রকৌশলী জিসানের স্বজনদের দাবি, নদীতে ডুবে তার মৃত্যু হয়নি। জিসানকে হত্যা করা হয়েছে। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

জিসানের বড় ভাই মো. শোয়েব আহমেদ বলেন, আমার ভাইয়ের লাশ আমরা অক্ষত পাই নি। তার মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়েছে পেট কাটা রয়েছে এবং সেখান দিয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে। আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।

তিনি আরও বলেন, আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছি। প্রয়োজনে আমরা মামলা করব। যারা আমার ভাইকে হত্যা করেছে তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হোক।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মো. আসলাম হোসেন জানান, জিসানের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। 

প্রসঙ্গত, গত ৫ জানুয়ারি দিবাগত রাতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার রাজাপুর এলাকায় “বুড়িগঙ্গা এন্টারপ্রাইজ” নামে একটি প্রতিষ্ঠানের নির্মাণসামগ্রী মেরামতের কাজ শেষে ফেরার পথে নিখোঁজ হন “বাংলা ক্যাট কোম্পানি”-তে কর্মরত দুই মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজুর রহমান জিসান ও লিখন সরকার। এই ঘটনায় জিসানের স্ত্রী রাকিয়া সুলতানা বাদী হয়ে ঢাকার আশুলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

তবে, শুরু থেকেই জিসানের স্বজনরা, ঘটনায় বুড়িগঙ্গা এন্টারপ্রাইজের স্বত্ত্বাধিকারী সজীব ও তার কর্মচারী পায়েলকে দায়ী করে আসছেন।