• মঙ্গলবার, এপ্রিল ০৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:০৪ দুপুর

‘পরকীয়ার কারণে ভাবিকে খুন, দেখে ফেলায় ভাতিজাকে হত্যা’

  • প্রকাশিত ০৯:৫২ রাত জানুয়ারী ১০, ২০২০
মানিকগঞ্জ হত্যাকাণ্ড
মানিকগঞ্জ ভাইয়ের স্ত্রী ও সন্তানকে হত্যার স্বীকারোক্তি দিয়েছে অভিযুক্ত যুবক সোলাইমান ঢাকা ট্রিবিউন

পরকীয়ার সম্পর্কের কারণে তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন ভাইয়ের স্ত্রী

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় পারভীন আক্তার নামে এক নারী ও তার শিশুসন্তানকে হত্যার ঘটনায় হওয়া মামলার একমাত্র আসামি সোলাইমান হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ। সম্পর্কে তিনি ওই নারীর দেবর।

গত বুধবার (৮ জানুয়ারি) রাতে সৌদি প্রবাসী মজনু মিয়ার স্ত্রী পারভীন আক্তার ও তার ছয় বছরের ছেলে নুর হোসেন তাদের দোতলা ফ্ল্যাট বাসায় খুন হন। সকালে পুলিশ তাদের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। এই ঘটনায় পারভীনের মা বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার মামলা করেন। এর আগেই সন্দেহভাজন হিসেবে সোলাইমানকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

শুক্রবার সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-৯ এর বিচারক জান্নাতুল রাফিন সুলতানের কাছে সোলাইমান হোসেন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। রাতেই তাকে আদালত থেকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে সোলাইমান হোসেন খুনের কথা স্বীকার করেছেন।


আরও পড়ুন- মানিকগঞ্জে শিশু সন্তানসহ মা খুন


স্বীকারোক্তি অনুয়ায়ী, অভিযুক্ত সোলাইমানের সঙ্গে তার মেজো ভাই মজনু মিয়ার স্ত্রী পারভীনের পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মাস তিনেক আগে সোলাইমান মালয়েশিয়া থেকে পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরলে তাদের সম্পর্ক আরও গভীর হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পারভীন সোলাইমানকে বিয়ের জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন। ঘটনার দিন রাতেও বিয়ের কথা বলেন তিনি।

পুলিশের ভাষ্য, ভাইয়ের দুই ছেলের কথা চিন্তা করে বিয়ের জন্য রাজি হননি সোলাইমান। এতে পারভীন তার নিজের দুই ছেলে, স্বামী ও সোলাইমানকে হত্যার হুমকি দিলে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে ঘরে থাকা ধারাল ছুরি দিয়ে পারভীনের গলায় আঘাত করেন সোলাইমান। ভাতিজা আব্দুল নুর বিষয়টি টের পেয়ে ঘুম থেকে জেগে গেলেও তাকেও কুপিয়ে হত্যা করে সোলাইমান। 

ভাবী ও ভাইয়ের ছেলেকে হত্যার পর রক্তমাখা চাকু ও পরনের কাপড় ধুয়ে ঘরে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন তিনি।

তবে সোলাইমানের বাবা ক্বারী আব্দুল রহমানের দাবি, ফাঁসানোর জন্য তার ছেলেকে ধরে নিয়ে গেছে পুলিশ। ‘‘তার সাথে আমার পরিবারের কাউকে দেখা করতে দেয় না,’’ বলেন তিনি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) আবুল কালাম বলেন, সাটুরিয়াতে মা-ছেলে খুনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় হত্যাকাণ্ডে সোলাইমান জড়িত। তাকে ঘটনার পরদিন (বৃহস্পতিবার) রাতেই গ্রেফতার করা হয়। 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে অপরাধ স্বীকার করে বলে জানান ওসি।