• বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:০৮ সকাল

৪৯ বছরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

  • প্রকাশিত ০৩:০৭ বিকেল জানুয়ারী ১২, ২০২০
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় দিবস
দিনব্যাপী নানা আয়োজনে ১২ জানুয়ারি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় দিবস অনুষ্ঠিত হচ্ছে।ঢাকা ট্রিবিউন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় দিবসেও উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশ

দিনব্যাপী নানা আয়োজনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) দিবস অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি ৪৮ বছর পেরিয়ে ৪৯তম বছরে পদার্পণ করেছে বলে নিশ্চিত করেছে জনসংযোগ কার্যালয় সূত্র। বাংলাদেশে ২০০০ সাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালন শুরু করে। 

রবিবার (১২ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ চত্বরে বেলুন উড়িয়ে ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের কর্মসূচি উদ্বোধন করেন। এ সময় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আমির হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে উদ্বোধনী ভাষণে উপাচার্য বলেন, “১৯৭০ সাল থেকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হলেও ১৯৭১ সালের ১২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু হয়। তাই আজ আমরা ৪৯তম দিবস পালন করছি। আগামীতে আমরা জাঁকজমকপূর্ণভাবে ৫০তম দিবস পালন করবো। আজ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আমরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি। আমাদের আহ্বান থাকবে আপনারা আপনাদের পরিবার পরিজনদের সাথে এসব অনুষ্ঠান উপভোগ করুন।”

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. নূরুল আলম, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ মো. মনজুরুল হক, ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল আলম, সিনেট সদস্যবৃন্দ, প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।  

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপাচার্যের নেতৃত্বে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, আবসিক হল, বিভিন্ন সংগঠন, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যোগ দেন।

বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ বেলা সাড়ে ১১টায় সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হচ্ছে, অধ্যাপক ড. হারুন অর রশিদ খানের পরিচালনায় বেলা আড়াইটায় বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পুতুলনাট্য প্রদর্শনী, বিকেল ৫টায় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের উদ্যোগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিকেল সাড়ে ৫টায় রঙ্গন মাইম একাডেমি পরিবেশির মৃকাভিনয় "হৃদয়ে বাংলাদেশ ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ" এবং সন্ধ্যা ৭টায় "নকশীকাঁথা ব্যান্ড"এর সঙ্গীতানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।   

প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালের ১২ জানুয়ারি ১৫০ জন ছাত্র ও মাত্র চারটি বিভাগ নিয়ে যাত্রা শুরু করে জাহাঙ্গীরনগর  বিশ্ববিদ্যালয়। এরপর থেকে প্রতিবছর বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই দিনটিকে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস হিসেবে উদযাপন করা হয়।


বিশ্ববিদ্যালয় দিবসেও চলছে উপাচার্যকে অপসারণে বিক্ষোভ 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় দিবসেও উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে কালো পতাকা প্রদর্শন করেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশ।

রবিবার সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বর থেকে "দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর" ব্যানারে একটি মিছিল বের করে আন্দোলনকারীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের সামনে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান চলাকালে উপাচার্যকে কলো পতাকা প্রদর্শন করা হয়। এরপর সকাল ১১টায় অমর একুশ ভাস্কর্যের পাদদেশে এসে সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ-সমাবেশে করেন।

সমাবেশে ছাত্র ইউনিয়ন জাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল রনি বলেন, “কোনো সন্ত্রাসী হামলার ইন্ধনদাতা কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হতে পারেন না। যেহেতু আপনি একজন ‘দুর্নীতিবাজ’ উপাচার্য তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে আসীন থাকার কোনো অধিকার নেই। আসলে এই উপাচার্যের জন্য কোনো তদন্তের দরকার নেই, তদন্ত ছাড়ায় এমন ‘দুর্নীতিবাজ’ উপাচার্যকে অবিলম্বে অপসারণ করা।”   

নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও সভাপতি সাঈদ ফেরদৌস বলেন, “দুর্নীতি যদি নাই হবে সন্ত্রাসী লেলিয়ে দিয়ে আমাদের ওপর হামলা কেন? দুর্নীতি যদি নাই হবে, তাহলে তদন্তের নামে এত কালক্ষেপণ কেন? আমরা শুরু থেকে একই কথা বলে আসছি এবং আমরা এখনো বলছি দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই উপাচার্যকে অপসারণ করা হোক। সারা দেশে এখন যে বিচার ব্যবস্থা বিদ্যমান সেখানে একজন নারীর ধর্ষণ হয়ে যাওয়া কোনো ব্যাপার না একজন ব্যক্তির গুম হয়ে যাওয়া কোনো ব্যাপার না। আমরা দেখতে পারছি রাষ্ট্র কীভাবে দুর্নীতিকে নগ্নভাবে জাতির সামনে তুলে ধরেছে। তাই এখন আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্যের শুধু অপসারণ চাই না তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

কর্মসূচীর অংশ হিসেবে সকাল ১২টায় কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ার পাশে উপাচার্যের দুর্নীতি, অসদাচরণ ও বিভিন্ন অনিয়মের তথ্যাদি প্রদর্শন করেন আন্দোলনকারীরা।

প্রসঙ্গত, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা থেকে আবাসিক হলের কাজের শুরুর দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগকে ১ কোটি এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগকে ১ কোটিসহ মোট দুই কোটি টাকা দেওয়ার অভিযোগ উঠার পর থেকে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করে আন্দোলন শুরু করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশ। গত পাঁচ মাস যাবৎ এ উপাচার্য বিরোধী আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন তারা।