• রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪২ রাত

সুন্দরবনে পর্যটক বাড়াতে ২৫ কোটি টাকার প্রকল্প

  • প্রকাশিত ০৬:৩৫ সন্ধ্যা জানুয়ারী ১৩, ২০২০
সুন্দরবন
সুন্দরবন। সৈয়দ জাকির হোসেন/ঢাকা ট্রিবিউন

নতুন প্রকল্পের আওতায় নতুনভাবে চারটি ইকোপার্ক স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে

সুন্দরবনে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে নতুন নতুন নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে ২৫ কোটি টাকার মেরামত, সংস্কার ও নতুন চারটি ইকোপার্ক স্থাপন প্রকল্প। 

সুন্দরবনের পর্যটকের মধ্যে বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণি-পেশার দেশি-বিদেশি মানুষ রয়েছেন। দীর্ঘদিনেও এ সব পর্যটকদের জন্য বাড়েনি সুযোগ-সুবিধা। পর্যটকদের জন্য চিকিৎসা, আবাসন, বিশুদ্ধ পানি ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখনও নিশ্চিত হয়নি। বনের মধ্যে থাকা ওয়াচ টাওয়ার ও জেটিগুলোও নাজুক অবস্থায় রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধান করলে সুন্দরবনে আরও বেশি পর্যটকের সমাগম ঘটবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।  


প্রতিবছরেই বাড়ছে পর্যটক

খুলনা অঞ্চলের বনসংরক্ষক মো. মঈনুদ্দিন খান বলেন, "সুন্দরবনে প্রতি মৌসুমেই সাধারণত দেড় লাখ থেকে ২ লাখ পর্যটকের আগমন ঘটে। এ থেকে ২ কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব আদায় হয়। সুন্দরবনে পর্যটকদের জন্য সাতটি ইকোপার্ক রয়েছে। এ অবস্থায় "সুন্দরবনে পরিবেশবান্ধব পর্যটক সুবিধাদী উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প" প্রস্তাব করা হয়েছে, যা অনুমোদন হলে আগামী জুলাই থেকেই এর বাস্তবায়ন শুরু হতে পারে। এ প্রকল্পের আওতায় পুরোনো সাতটি ইকোপার্ক উন্নয়ন, নতুন আরও চারটি ইকোপার্ক স্থাপন, ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণসহ সার্বিক উন্নয়ন করা হবে। এ জন্য ২৫ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে।"

সুন্দরবন পূর্ব ও পশ্চিম বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছরই সুন্দরবনে দেশি-বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সুন্দরবন ভ্রমণ করেন ১ লাখ ৮১৭ জন, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১ লাখ ২৮ হাজার ১৭৫ জন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৪৯০ জন এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ পর্যটক সুন্দরবন ভ্রমণ করেন। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সুন্দরবন ভ্রমণ করেন ২ লাখ ৫১ হাজার ৯৬৯ জন পর্যটক। গত বছর পর্যটন খাত থেকে সুন্দরবন বিভাগের রাজস্ব আয় হয় ২ কোটি টাকা।

ঢাকা ট্রিবিউন


সুন্দরবন ভ্রমণে যত সমস্যা 

সুন্দরবন ভ্রমণে আসা পর্যটকরা জানান, এখনও বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। বনের অধিকাংশ এলাকাতে মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই। ফলে সুন্দরবনে প্রবেশের পর পর্যটকদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকতে হয়। প্রয়োজনীয় জরুরি চিকিৎসা সেবারও কোনো ব্যবস্থা নেই।

এ বিষয়ে এভারগ্রিন ট্যুরসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাজহারুল ইসলাম কচি জানান, সুন্দরবনে পর্যটকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখনও নাজুক। প্রতিটি লঞ্চে মাত্র দু'জন করে বনরক্ষী দেওয়া হয়। বনরক্ষীরা বয়স্ক ও তাদের অস্ত্র চালানোর পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ নেই। সুন্দরবনের মধ্যে বিশুদ্ধ পানির সংকট প্রকট। পর্যটকদের আবাসনের কোনো ব্যবস্থাও নেই। তাদের লঞ্চ বা বোটের মধ্যে রাত কাটাতে হয়। কাঠের তৈরি ওয়াচ টাওয়ারগুলো নড়বড়ে। পর্যটকদের বহনকারী লঞ্চ বেঁধে রাখার মত ভালো ব্যবস্থা নেই। এছাড়া  বন বিভাগের জেটিতে লঞ্চ বাঁধতে দেয় না। ফলে সেগুলো মাঝ নদীতে নোঙর করে রাখতে হয়।

ঢাকা ট্রিবিউন


সেবা বাড়াতে নেওয়া হচ্ছে নানা পদক্ষেপ 

সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বশিরুল আল মামুন বলেন, "সুন্দরবনে পর্যটকদের সেবা বৃদ্ধিতে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পর্যটকরা যাতে কোনো প্রকার বিড়ম্বনায় না পড়েন সে বিষয়টি মনিটরিং করা হচ্ছে। পর্যটকদের জন্য সুনির্দিষ্ট ঘাটের প্রয়োজনীয়তাকে গুরুত্বের সাথে নেওয়া হচ্ছে। আর পর্যটকদের জন্য থাকা ট্যুরগাইডদের সার্বিকভাবে সতর্ক থাকার জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।" 

তিনি আরও বলেন, "সুন্দরবনের সার্বিক পরিস্থিতি মনিটরিংয়ের জন্য জনবলকে প্রধান্য দেওয়া হচ্ছে। এখানে এক-তৃতীয়াংশ জনবল ঘাটতি রয়েছে। তারপরও ইকোপার্ক এলাকায় প্রয়োজনীয় জনবল রাখা হয়। কারণ, সেখানে জনবল কম থাকলে পযটকরা সঠিক ও প্রয়োজনীয় সেবা বঞ্চিত হবেন।" 

বশিরুল আল মামুন বলেন, "সুন্দরবনে আসা পর্যটকদের কিছু ভুলের কারণেও নেতিবাচক প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। পর্যটকরা বন্যপ্রাণীকে খাবার দেন, উচ্চ শব্দে কাজ করেন, যা বনের পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। সচেতনতার অভাবে পর্যটকরা নদী ও সুন্দরবন এলাকায় পলিথিন, প্যাকেট, খাবারের উচ্ছিষ্ট ফেলে থাকেন, যা পরিবেশকে বিষিয়ে তোলে। আইন প্রয়োগ করে এ সমস্যার সমাধান কঠিন। তাই সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। যার সফলতা নির্ভর করছে ট্যুর গাইডদের সতর্কতার ওপর। কোন স্পটে একত্রে কতজন পর্যটক যেতে পারবেন তা নির্ধারণে কাজ চলছে। সুষ্ঠু পর্যটন সেবা প্রদানে জলযান ট্র্যাকিং করতে সিস্টেমে আনা হচ্ছে। পর্যটকদের গতিপথও ট্র্যাকিংয়ের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যটকদের সুবিধার্থে অনলাইনে সুন্দরবন ভ্রমণের অনুমতি প্রদানের চিন্তা করা হচ্ছে।" 

ঢাকা ট্রিবিউন

"নতুন প্রকল্পের আওতায় নতুনভাবে চারটি ইকোপার্ক স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। যার দুটি হবে পশ্চিম সুন্দরবনের আওতায়। এগেুলো হচ্ছে-কালাবগি ও শেখেরটেক। পর্যটকদের দুর্যোগপূর্ণ পরিবেশ থেকে সুরক্ষা দিতে দ্রুতগতির নৌযান কেনার পরিকল্পনা রয়েছে, যা দিয়ে পর্যটকদের জরুরি সেবা প্রদান করা সহজ হবে।"

খুলনা অঞ্চলের বনসংরক্ষক মো. মঈনুদ্দিন খান বলেন, প্রবল ঘুর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে বনের তেমন ক্ষতি না হলেও অফিস ও ইকোপার্ক এলাকায় কিছু ক্ষয়-ক্ষতি ছিল, যা নিজস্বভাবে অনুন্নয়ন খাত থেকে প্রাপ্ত বরাদ্দ দিয়ে সংস্কার ও মেরামত করার কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।