• শনিবার, জানুয়ারী ১৮, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:২১ দুপুর

শতবর্ষী বৃদ্ধাকে স্টেশনে ফেলে গেল স্বজনরা!

  • প্রকাশিত ১১:১১ সকাল জানুয়ারী ১৪, ২০২০
বৃদ্ধা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে শতবর্ষী এক বৃদ্ধাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বজনদের বিরুদ্ধে ঢাকা ট্রিবিউন

আমরা তার নাম পরিচয় জানার চেষ্টা করেছি, কিন্তু তিনি কোন কথা বলতে পারেন না, শুধু খাবার চান’

চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে শতবর্ষী এক বৃদ্ধাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বজনদের বিরুদ্ধে।

রবিবার (১২ জানুয়ারি) রাতে স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে মুমূর্ষ অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় ওই বৃদ্ধাকে।

স্টেশনের দোকানদার সিরাজুল ইসলাম ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, “প্রায় ১৫ দিন আগে এক সন্ধ্যায় ভ্যান গাড়িতে করে ওই বৃদ্ধাকে স্টেশনটির একটি পরিত্যক্ত প্লাটফরমে রেখে যান দুইজন নর-নারী। তাদের আচরণ দেখে আমার মনে হয়েছিলো তারা বৃদ্ধার স্বজন। খাওয়া-দাওয়া, চিকিৎসাসহ যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন তাকে সুস্থ করে তুলতে। কিন্তু এতদিন তার আত্মীয়স্বজন বা পরিবারের লোকজন কেউ কোন খোঁজ-খবর নেয়নি।”

ডালিম নামে আরেক ব্যক্তি জানান, “আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। তার নাম পরিচয় জানার চেষ্টা করেছি। কিন্তু বৃদ্ধা তেমন কোন কথা বলতে পারতো না। শুধু খাবার খেতে চাইতো।”

গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর তদন্ত ফাঁড়ির সহকারী পুলিশ পরিদর্শক তোহিদুল ইসলাম জানান, “প্লাটফর্মে গিয়ে দেখি মুমূর্ষ অবস্থায় কনকনে ঠাণ্ডায় কাতরাচ্ছেন ওই বৃদ্ধা। নিজের মা ভেবেই মানবিকতার জায়গা থেকে স্থানীয়দের সহায়তায় সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে রাত দশটার দিকে তাকে ভর্তি করি এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানাই।”

তিনি আরও জানান, “বৃদ্ধার নাম পরিচয় জানতে আমরা পুলিশ প্রশাসন, সিভিল প্রশাসনসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছি।”

এদিকে, গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সালাউদ্দিন আহম্মেদ জানান, “রবিবার রাত দশটার দিকে ওই বৃদ্ধাকে যখন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়, তখন সাড়া না মিললেও, সোমবার সকাল থেকেই তিনি চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন। অস্পষ্টভাবে কথাও বলছেন। তবে কিছুটা সুস্থ হলেও ওই বৃদ্ধা শঙ্কামুক্ত নন।”

এরইমধ্যে ওই বৃদ্ধার চিকিৎসাসহ যাবতীয় খরচের দায়িত্ব নিয়েছেন রহনপুর পৌরসভার মেয়র তারেক আহমেদ।

মেয়র বলেন, “যতদিন ওই বৃদ্ধার পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া যাচ্ছে, ততদিন শুধু মেয়র হিসেবে নয়, একজন সন্তান হিসেবে তার পাশে থাকবো।”