• শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৫৪ দুপুর

‘ক্রসফায়ারে’ সংসদ সদস্যদের সমর্থন, টিআইবির উদ্বেগ

  • প্রকাশিত ০৮:৫০ রাত জানুয়ারী ১৫, ২০২০
বন্দুকযুদ্ধ
প্রতীকী ছবি

টিআইবি মনে করে, এমন সমর্থন আইন-শৃংখলা বাহিনীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে উত্থাপিত বিচারবহির্ভুত হত্যার অভিযোগের যথার্থতা প্রমাণ করে। অপরদিকে, বেআইনি এ পদ্ধতির পক্ষে আইনপ্রণেতাদের নিন্দনীয় উৎসাহ ও ঢালাও সমর্থন তুলে ধরে

সংসদ অধিবেশনের আলোচনায় অভিযুক্ত ধর্ষকদের ক্রসফায়ারের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যা করার দাবির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এমন বক্তব্যকে “সংবিধান স্বীকৃত আইনের শাসন, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের সঙ্গে সুস্পষ্টভাবে সাংঘর্ষিক” আখ্যা দিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ ও অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

বুধবার (১৫ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব বক্তব্য তুলে ধরে টিআইবি।

বিবৃতিতে টিআইবি নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “গণমাধ্যম সূত্রে পাওয়া সংবাদ অনুযায়ী, সম্প্রতি আশংকাজনক হারে বেড়ে চলা ধর্ষণ প্রতিরোধে জাতীয় সংসদে গতকাল এক আলোচনায় সম্মানিত সংসদ সদস্যদের একাংশের হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশের অংশ হিসেবে অপরাধটি দমনে ক্রসফায়ারে হত্যার দাবি তুলে ধরা হয়, যা গভীরভাবে নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক। একই আলোচনায় অন্যান্য অপরাধ প্রতিরোধে এই পন্থার ‘কার্যকারিতা’ তুলে ধরে তারা তা এক্ষেত্রেও প্রয়োগের জোর দাবি জানান, যা একদিকে আইন-শৃংখলা বাহিনীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে উত্থাপিত বিচারবহির্ভুত হত্যার অভিযোগের যথার্থতা প্রমাণ করে; অপরদিকে বেআইনি এ পদ্ধতির পক্ষে আইনপ্রণেতাদের নিন্দনীয় উৎসাহ ও ঢালাও সমর্থন তুলে ধরে, যা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্যঅশনি সংকেত। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইনসভায় এ ধরনের বেআইনি ও অযাচিত দাবিকে সংবিধানস্বীকৃত ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের পথে অপ্রতিরোধ্য অন্তরায়কে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার প্রয়াস ছাড়া আর কিছুই ভাবা যায়না।”

ড. জামান আরও বলেন, ‘‘আমরা বিশ্বাস করতে চাই যে মন্তব্যগুলো আবেগতাড়িত, তবে আইনপ্রণেতা হয়ে তারা কেমন করে ভুলে গেলেন আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার সুরক্ষার প্রাধান্যের কথা। এটি অতিশয় বেদনাদায়ক যা সবাইকে হতবাক করেছে।”  

সংসদ সদস্যদের এমন বক্তব্যকে “অপরিপক্ক” আখ্যা দিয়ে তা রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি অসম্মানজনক এবং ক্রসফায়ার বিষয়ে ইতোপূর্বে প্রদত্ত উচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণ ও বাংলাদেশের স্বাক্ষরিত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কনভেনশনের প্রতি অবমাননাকর বলেও উল্লেখ করা হয় প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে। 

এ বিষয়ে ড. জামান বলেন, ‘‘ক্রমবর্ধমান ধর্ষণের ঘটনায় সাম্প্রতিককালে নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক অধিকতর অনিরাপদ ও উদ্বিগ্ন। আইনের আওতায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের মাধ্যমেই এ অপরাধ প্রতিরোধ করাই সবার দাবি।”

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার ধর্ষককে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ‘‘ক্রসফায়ার’’-এ দেওয়ার দাবি জানান জাতীয় সংসদের সরকার ও বিরোধী দলের বেশ কয়েকজন সদস্য।