• সোমবার, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪০ রাত

মাছের মেলায় জামাই-শ্বশুরের প্রতিযোগিতা

  • প্রকাশিত ০৯:১৮ রাত জানুয়ারী ১৫, ২০২০
মাছ-গাজীপুর
বিনিরাইলের মেলায় ক্রেতাকে বড় মাছ দেখাচ্ছেন এক ব্যবসায়ী ঢাকা ট্রিবিউন

এবারের মূল আকর্ষণ সামুদ্রিক চিতল, বাঘাইড়, আড়, বোয়াল, কালবাউশ, পাবদা, গুলসা, গলদা চিংড়ি, বাইম, কাইকলা, রূপচাঁদা ইত্যাদি

বাজারে একটি বড় বাঘাইড় মাছকে ঘিরে ক্রেতাদের বেশ বড় জটলা। দাম হাঁকা হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। তবে ক্রেতাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ ৬৫ হাজার টাকায় মাছটি কিনতে আগ্রহী আলমগীর হোসেন নামে এক ব্যক্তি। তিনি আবার বাজার পার্শ্ববর্তী বক্তারপুর এলাকার জামাই। প্রতি বছর মাঘ মাসের প্রথম দিনে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বিনিরাইল গ্রামে ঐতিহ্যবাহী মাছ মেলায় এমন দরকষাকষি চলে।

বুধবারও (১৫ জানুয়ারি) এই রীতিতে ঘটেনি কোনো ব্যতয়। এই মেলায় শামিল হন গাজীপুরের সব উপজেলা তো বটেই পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর উৎসুক জনতারাও।

মূলত এই দিনটিতে ঐতিহ্যগতভাবে বিনিরাইলে স্থানীয় “জামাই মেলা” চলে আসলেও স্থানীয়দের মধ্যে “মাছের মেলা” নামেই বেশি পরিচিত। আসলে দু'টি নামই অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। উৎসবমুখর এই দিনটিতে গ্রামটিতে আসলে চলে “এক টিকিটে দুই ছবি”।

একটু ব্যাখ্যা করা যাক, এই মাছের মেলা থেকে বিনিরাইলসহ পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোর জামাইয়েরা প্রতিযোগিতা করে বড় মাছ কেনেন। উদ্দেশ্য, শ্বশুরবাড়িতে বড় মাছ নিয়ে যাওয়া। আর তাদের শ্বশুরেরা চেষ্টা করেন জামাইয়ের চেয়ে বড় মাছটি কিনে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে জামাইকে আপ্যায়ন। এ যেন শ্বশুর-জামাইয়ের মুখরক্ষার “নীরব দ্বন্দ্ব”।

তবে এই মেলায় ক্রেতার তুলনায় উৎসুক জনতার উপস্থিতি কয়েকগুণ।

চলছে কেনা-বেচা। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউনএই মেলায় অন্যান্য জেলার মধ্যে আসেন- টাঙ্গাইল, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, ভৈরব, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ থেকে অসংখ্য উৎসুক মানুষ।

এবারের মেলায় প্রায় ৩ শতাধিক ব্যবসায়ী বিভিন্ন ধরনের মাছের পসরা সাজিয়ে বসেছেন। মেলায় মাছ ছাড়াও থাকে আসবাবপত্র, খেলনা, মিষ্টি ইত্যাদির দোকানও। এবারের মূল আকর্ষণ সামুদ্রিক চিতল, বাঘাইড়, আড়, বোয়াল, কালবাউশ, পাবদা, গুলসা, গলদা চিংড়ি, বাইম, কাইকলা, রূপচাঁদা ইত্যাদি। পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির পুকুরের মাছও।

মেলা আয়োজক কমিটির সভাপতি নুরুল ইসলাম নুরু জানান, প্রায় ২৫০ বছর যাবৎ মেলাটি আয়োজন হয়ে আসছে। অগ্রহায়ণের ধান কাটা শেষে পৌষ-সংক্রান্তি ও নবান্ন উৎসবে এর আয়োজন করা হতো। প্রথমদিকে এই মেলার পরিসর ছিল খুবই ছোট। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি একটি সার্বজনীন উৎসবে রূপ নিয়েছে।

মেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন শেখ জানান, ব্রিটিশ আমল থেকে চলে আসা বিনিরাইলের মাছের মেলা এখন ঐতিহ্যে রূপ নিয়েছে। এটি কালীগঞ্জের সবচেয়ে বড় মাছের মেলা হিসেবে স্বীকৃত।

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলা থেকে মেলায় আসা মাছ ব্যবসায়ী নয়ন কুমার দাস জানান, তিনি প্রায় ২০ বছর ধরে এই মেলায় দোকান করেন। তবে আগের তুলনায় এখন বেচা-কেনা কম। কারণ, কোন্দলের জন্য বিনিরাইলের মেলাটি দু’ই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। বিনিরাইলের পাশেই চুপাইর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বসে তিন দিনব্যাপী মাছের মেলা। তবে ঐতিহ্যের কারণে বিনিরাইলের মেলায়ই বেশি ভিড় জমে। তাছাড়া স্থানীয়দের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সুসম্পর্কের খাতিরে প্রতিবারই মেলায় যান তিনি। বেচা-কেনা সেখানে মুখ্য নয়।