• সোমবার, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪০ রাত

অবশেষে নতুন মজুরিতে বেতন পাচ্ছেন পাটকল শ্রমিকরা

  • প্রকাশিত ১২:১৪ রাত জানুয়ারী ১৭, ২০২০
২০১৫ সালের মজুরি কাঠামো-পাটকল শ্রমিকরা
গত ১৬ জানুয়ারি নতুন মজুরি কাঠামো অনুযায়ী পাটকল শ্রমিকদের পে-স্লিপ দেয় বিজেএমসি ফাইল ছবি/ঢাকা ট্রিবিউন

বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) সরকারি কোনো ঘোষণা ছাড়াই নতুন মজুরি কাঠামো অনুযায়ী পাটকল শ্রমিকদের পে-স্লিপ দেয় বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন (বিজেএমসি)

দীর্ঘ আন্দোলনের পর অবশেষে ২০১৫ সালের মজুরি কাঠামো অনুযায়ী পে-স্লিপ পেয়েছেন খুলনা, যশোর ও নরসিংদীর পাটকল শ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) সরকারি কোনো ঘোষণা ছাড়াই নতুন মজুরি কাঠামো অনুযায়ী পাটকল শ্রমিকদের পে-স্লিপ দেয় বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন (বিজেএমসি)। চলতি মাসের ৪ তারিখ থেকে ১১ তারিখের মজুরি বাবদ শ্রমিকদের এই পে-স্লিপ দেওয়া হয়।

বিজেএমসি'র ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স) আশরাফ হোসেন চৌধুরী এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, "দেশের সব সরকারি পাটকলগুলোতে ২০১৫ সালে ঘোষিত মজুরি কমিশন অনুযায়ী শ্রমিকদের ৭ দিনের পে-স্লিপ দেওয়া হয়েছে। গত ৩ জানুয়ারি বিজেএমসি, পাটকল শ্রমিকদের সাথে বৈঠকে বসেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী। ঐ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।"

ঢাকা ট্রিবিউনের কাছে আসা তথ্যানুসারে খুলনা, যশোর ও নরসিংদীর ১০টি পাটকলে শ্রমিকরা নতুন মজুরিতে পে-স্লিপ পেয়েছেন। 

বিজেএমসি খুলনার আঞ্চলিক সমন্বয়ক মো. রমিজ উদ্দিন মিয়া ঢাকা ট্রিবিউনের খুলনা প্রতিনিধি হেদায়েত হোসেনকে বলেন, "নতুন মজুরি অনুযায়ী এই অঞ্চলের ৯ টি পাটকলে শ্রমিকদের ৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকার পে-স্লিপ দেওয়া হয়েছে। বিজেএমসির জেনারেল ম্যানেজার (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড সার্ভিস) মো. নাসিমুল ইসলাম গত মঙ্গলবার এক চিঠিতে নতুন মজুরি কমিশন অনুযায়ী শ্রমিকদের পে-স্লিপ দেওয়ার নির্দেশ দেন।"

নরসিংদীর ইউএমসি জুট মিলের কর্মজীবী ইউনিয়নের সভাপতি শফিকুল ইসলাম মোল্লা নরসিংদী প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান রিপনকে জানান, নতুন মজুরি কমিশন অনুযায়ী বৃহস্পতিবার শ্রমিকদের ১ কোটি ৯০ লাখ টাকার পে-স্লিপ দেওয়া হয়।

পাটকল সিবিএ-ননসিবিএ সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. মুরাদ হোসেন বলেন, নতুন মজুরিতে পে-স্লিপ শ্রমিকদের মুখের হাসি ফিরিয়ে এনেছে। "দেশব্যাপী তীব্র আন্দোলনের পর কাঙ্ক্ষিত মজুরি পেয়ে আমরা অত্যন্ত খুশি হয়েছি।"

এর আগে গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর সর্বশেষ পে-স্লিপ পেয়েছিলেন পাটকল শ্রমিকরা। কিন্তু সে সময় ২০১০ সালের মজুরি কমিশন অনুযায়ী তাদের বেতন দেওয়া হয়।

এদিকে, বিজেএমসি'র ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আশরাফ হোসেন বলেন, পুরাতন মজুরি অনুসারে বেতন দেওয়াই তাদের জন্য অনেক কঠিন হয়ে যাচ্ছিল। এখন নতুন এই মজুরিতে শ্রমিকদের বেতন দেওয়া তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। 

প্রসঙ্গত, "মজুরি স্কেল-২০১৫" অনুযায়ী ওই বছরের ১ জুলাই থেকে পাটকল শ্রমিকদের মজুরি দ্বিগুণ করার কথা থাকলেও, এখনও এর বাস্তবায়ন দেখা যায়নি। পরে ২০১৮ সালের মার্চে জাতীয় মজুরি কমিশন সরকারের কাছে পাটকল শ্রমিকদের বেতন ৮৫% বাড়ানোর জন্য আইন পাস করে প্রজ্ঞাপন জারির সুপারিশ করে। তবে, এর বাস্তবায়ন না হওয়ায় দেশব্যাপী পাটকল শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

উল্লেখ্য, আগে যেখানে পাটকল শ্রমিকরা ২ হাজার ২শ’ টাকা সাপ্তাহিক মজুরি পেতেন, সেখানে নতুন মজুরি কমিশন অনুযায়ী ৪ হাজার ৩শ’ টাকা মজুরী পাবেন। আর যারা আগে ২ হাজার ৩শ’ টাকা মজুরি পেতেন তারা এখন থেকে ৪ হাজার ৪শ’ টাকার উপরে পাবেন।