• বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:২৬ সকাল

বিলীনের পথে কবি বন্দে আলী মিয়ার স্মৃতিচিহ্ন

  • প্রকাশিত ০১:৫৮ দুপুর জানুয়ারী ১৭, ২০২০
পাবনা
কবি বন্দে আলী মিয়া। সৌজন্য

যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে ধ্বংস হতে বসেছে কবির পাবনা শহরের রাধানগর মহল্লার বসতবাড়ি কবিকুঞ্জ ও তার রেখে যাওয়া সৃষ্টিগুলো

“আমাদের ছোট গাঁয়ে ছোট ছোট ঘর, থাকি সেথা সবে মিলে নাহি কেহ পর”, অথবা, “ময়নামতির চর”এর মতো বিখ্যাত ও কালজয়ী কবিতার রচয়িতা শিশু সাহিত্যের নান্দনিক কবি বন্দে আলী মিয়ার ১১৪তম জন্মবার্ষিকী আজ। 

১৯০৬ সালের ১৭ জানুয়ারি পাবনা শহরের রাধানগর মহল্লায় জন্ম গ্রহণ করেন কবি বন্দে আলী মিয়া। যথাযথ সংরক্ষক্ষণের অভাবে বিলীন হতে বসেছে কবি বন্দে আলী মিয়ার রেখে যাওয়া জীবন ও কর্মের নানা স্মৃতি। 

১৯২৩ সালে কবি বন্দে আলী মিয়া পাবনা শহরের রাধানগর মজুমদার একাডেমি থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং ১৯২৭ সালে কলকাতার বৌ-বাজারস্থ ইন্ডিয়ান আর্ট একাডেমি থেকে চিত্রবিদ্যায় উত্তীর্ণ হন। ১৯৩০ সালে কর্মের সন্ধানে ঘুরতে ঘুরতে কলকাতা কর্পোরেশন স্কুলে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন এবং দীর্ঘ ২০ বছর চাকরি করে অবশেষে তিনি ১৯৫০ সালে অবসর গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি দীর্ঘদিন রাজশাহী বেতারে চাকরি করেছেন। এসময় তিনি গল্পের দাদু নামের একটি শিশুদের অনুষ্ঠান করতেন। ১৯৭৯ সালের ২৭ জুন ৭৩ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রাজশাহীর কাজিরহাট অঞ্চলের বাসভবনে ইন্তেকাল করেন কবি। পরে তাকে কবরস্থ করা হয় নিজগ্রাম পাবনার রাধানগরে। সরকারিভাবে কবির জন্মবার্ষিকী স্মরণ না করলেও দিনটি স্মরণ করে পাবনার কবি ভক্ত ও অনুরাগীরা। 

কবি বন্দে আলী মিয়া ছিলেন একাধারে গীতিকার, উপন্যাসিক, গল্পকার, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী। কবির মৃত্যুর পর যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে ধ্বংস হতে বসেছে কবির পাবনা শহরের রাধানগর মহল্লার বসতবাড়ি কবিকুঞ্জ ও রেখে যাওয়া কর্মগুলো। কবির অপ্রকাশিত অনেক লেখা এখনও তার পরিবারের সদস্যদের কাছে আছে, যেগুলো সরকারি উদ্যোগে ছাপার দাবি জানান পরিবারের সদস্যরা।

কবির স্বজনেরা বলেন, পারিবারিক উদ্যোগে যতটুকু সম্ভব হয় তারা কবির বাড়ি ও তার রেখে যাওয়া কর্মগুলো সংরক্ষণের চেষ্ঠা করে যাচ্ছে। তবে তাদের দাবি সরকারি উদ্যোগে কবির কর্মগুলো সংরক্ষণ করা হোক। 

পাবনাবাসীর দাবির মুখে পাবনা পৌরসভার উদ্যোগে কবি বন্দে আলী মিয়ার নামে পাবনা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের নামকরণ করা হয়। এছাড়াও কবি বন্দে আলী মিয়া শিশু শিক্ষা নিলয় এবং জেলার আটঘরিয়া উপজেলায় কবি বন্দে আলী মিয়া নামে একটি উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

কবি বন্দে আলী মিয়া শিশুদের জন্য ১০৫টি শিশুতোষ গ্রন্থসহ ১৩৬টি বই রেখে গেছেন। শিশুসাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য কবি বন্দে আলী মিয়া ১৯৬২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। সাহিত্যকর্মে তার অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৯০ সালে মরনোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করা হয় কবি বন্দে আলীকে।

এদিকে কবির জন্মদিন উপলক্ষে শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে শহরের রাধানগরের নারায়ণপুরে কবি কুঞ্জের পাশে কবির সমাধিস্থলে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে জেলা প্রশাসন, কবি বন্দে আলী মিয়া স্মরণ পরিষদ ও শুভ সংঘসহ বিভিন্ন সংগঠন।    

এছাড়া কবির স্মরণ পরিষদের উদ্যেগে বিকেলে কবিতা আবৃত্তি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।