• সোমবার, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪০ রাত

স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে নদী সাঁতরে থানায়!

  • প্রকাশিত ০৪:৫৭ বিকেল জানুয়ারী ১৭, ২০২০
দিনাজপুর

স্বামীর বাড়ি থেকে বেরিয়ে সাঁতরে শাখা যমুনা নদী পার হয়ে বিরামপুর থানায় উপস্থিত হন তিনি

দিনাজপুরের বিরামপুরে স্বামীর নির্যাতনের কবল থেকে রেহাই পেতে শীতের রাতে নদী সাঁতরে থানায় গিয়ে বাঁচানোর আকুতি জানিয়েছেন দিনাজপুরের এক গৃহবধূ।

বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা। মাঘের শীতে সবাই যখন লেপ-তোষক মুড়িয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে, তখন কামরুন্নাহার রিনা নামের ওই নারী ভেজা শরীর নিয়ে কাঁপতে কাঁপতে থানায় হাজির হন বিরামপুর থানায়।

বিষয়টি যথেষ্ট অবাক করে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামানকে। শীতের রাতে ভেজা শরীরে থানায় উপস্থিত হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরেই জীবন বাঁচাতে তিনি থানায় ছুটে এসেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বছর ছয়েক আগে বিরামপুর উপজেলার বড় বাইলশিরা গ্রামের আবেদ আলীর মেয়ে কামরুন্নাহার রিনার সঙ্গে একই উপজেলার প্রস্তমপুর গ্রামের রায়হান কবীরের বিয়ে হয়। ৪ বছরের একটি ছেলে রয়েছে এই দম্পতির। প্রায়ই স্ত্রীকে মারধর করতেন রায়হান। বৃহস্পতিবারও লাঠি দিয়ে বেদম মারধর শুরু করলে রাত ১২টার দিকে স্বামীর বাড়ি থেকে বেরিয়ে সাঁতরে শাখা যমুনা নদী পার হয়ে বিরামপুর থানায় উপস্থিত হন তিনি।

তাৎক্ষণিকভাবে থানার নারী পুলিশ সদস্যদের কাছ থেকে শুকনো পোশাক ও কম্বল নিয়ে তার শীত নিবারণের ব্যবস্থা করেন ওসি। তাকে হাসপাতালে পাঠিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থাও করেছে পুলিশ। আর রাতেই ফোর্স পাঠিয়ে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয় রায়হানকে।

ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, তাদের সংসার ঠিক রাখার জন্য পারিবারিকভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা চলছে। নির্যাতনের শিকার নারী লিখিত অভিযোগ দিলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।