• সোমবার, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪০ রাত

৪৮ বছর পর বাবাকে খুঁজে পেলেন সন্তানেরা!

  • প্রকাশিত ০৯:০৪ রাত জানুয়ারী ১৮, ২০২০
হাবিবুর রহমান
৪৮ বছর পর হাবিবুর রহমানকে খুঁজে পেয়েছেন তার সন্তানেরা। ঢাকা ট্রিবিউন

১৯৭২ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পরপরই ব্যবসার কাজে বের হয়ে নিখোঁজ হন হাবিবুর রহমান

ফেসবুকে ভিডিও দেখে ৪৮ বছর পর হাবিবুর রহমান (৭৮) নামের ওই ব্যক্তিকে তার পরিবারের সদস্যরা খুঁজে পেয়েছেন। শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) তাকে খুঁজে পান পরিবারের লোকজন।

দেশ স্বাধীনের পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন হাবিবুর। তার বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার বেজগ্রামে। চার সন্তানের জনক হাবিবুর ব্যবসা করতেন, আর ব্যবসার কাজে চট্টগ্রামের উদ্দেশে বের হয়েই তিনি নিরুদ্দেশ হন।

হাবিবুর রহমানের বয়স এখন ৭৮ বছর। তার সন্তানরাও বেজগ্রাম ছেড়েছেন বহু আগেই। বর্তমানে বিয়ানীবাজার পৌর এলাকার কসবা বাগটিলা এলাকায় তারা স্থায়ী নিবাস গেড়েছেন। তার বড় ছেলের স্ত্রীই প্রথমে হাবিবুর রহমানকে শনাক্ত করেন। ভিডিও দেখার পর তিনি পরিবারের অপর সদস্যদের দেখান। পরে তারা ছুটে যান ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখান থেকে তাদের বাবাকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসেন একটি বেসরকারি হাসপাতালে। 

জানা যায়, মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় বিভিন্ন মাজারে রাত কাটাতেন হাবিবুর। প্রায় ২৫ বছর আগে তিনি মৌলভীবাজারের হযরত শাহাব উদ্দিন মাজারে আসেন। সেসময় হাবিবুরের সাথে পরিচয় হয় রাজিয়া বেগম নামের এক নারীর সাথে। সে সময় থেকেই হাবিবুরের দেখভাল করে আসছেন রাজিয়া। ২৩ দিন আগে বিছানা থেকে পড়ে হাত ভেঙে যায় হাবিবুরের, এজন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়।

তবে ভাঙা হাতে ইনফেকশন দেখা দিলে তাকে সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসা চলাকালে পাশের বিছানার এক রোগীর স্বজনকে হাবিবুরের কথা খুলে বলেন রাজিয়া। পরে ওই ব্যক্তিই ফেসবুকে হাবিবুরের একটি ভিডিও প্রকাশ করে তার জীবন বৃত্তান্ত তুলে ধরেন। 

বৃহস্পতিবার রাতে এই ভিডিও দেখেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী হাবিবুর রহমানের বড় ছেলের ছেলের স্ত্রী। এরপর তিনি ভিডিওটি তার স্বামীকে দেখালে বাবাকে সনাক্ত করেন তিনি।

এর পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার বৃদ্ধের অন্য দুই ছেলে হাসপাতালে খোঁজ নিতে যান। এসময় হাবিবুর বাড়ির ঠিকানা, স্ত্রী ও ভাইদের নাম বললে বাবাকে সনাক্ত করেন তারা। পরে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বাবাকে তারা বেসরকারি একটি হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেখানেই তার উন্নত চিকিৎসা চলছে বর্তমানে।

ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে আসা রাজিয়া বেগম বললেন, ‘'দীর্ঘ ২৫ বছর আগে মাজারে তার সাথে দেখা হয়। আমি তাকে সম্মান করে পীর সাহেব বলি ডাকি। তখন থেকেই আমি তার দেখাশুনা করে আসছিলাম।"

হাবিবুর রহমানের ছেলে জালাল উদ্দিন বলেন, "দেশ স্বাধীন হওয়ার পরপরই ব্যবসার কাজে বের হয়ে নিখোঁজ হন তাদের বাবা। এরপর তাদের পরিবারের সদস্যরা তাকে অনেক খুঁজেছেন, কিন্তু কোথাও হদিস পাননি। এভাবেই বাবার প্রতীক্ষা করতে করতে ২০০০ সালে তাদের মা'ও মারা গেছেন। ভিডিওটি যিনি আপলোড করেছেন তাকে ধন্যবাদ জানানোর ভাষা আমার জানা নেই।"