• মঙ্গলবার, এপ্রিল ০৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:০৪ দুপুর

গ্রামের চেয়ে ঢাকার তাপমাত্রা ৩.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি

  • প্রকাশিত ০২:৩৫ দুপুর জানুয়ারী ২০, ২০২০
গরম
এএফপি

রমনা পার্ক কিংবা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মতো এত বড় সবুজ এলাকা স্বাধীনতার পর আর একটিও গড়ে তোলা হয়নি

গ্রামের চেয়ে ঢাকা শহরের তাপমাত্রা ৩.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি বলে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিস), অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া বিভাগের এক যৌথ গবেষণায় জানা গেছে।

রবিবার (১৯ জানুয়ারি) রাজধানীর বিস মিলনায়তনে "ঢাকা শহরের উত্তাপ বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে অভিযোজন: টেকসই উন্নয়নের ওপর প্রভাব" শীর্ষক এক সেমিনারে এই তথ্য তুলে ধরা হয় বলে ইউএনবির একটি খবরে বলা হয়।

গবেষণার মূল ফলাফল তুলে ধরেন কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আশরাফ দেওয়ান ও বিসের গবেষণা পরিচালক মাহফুজ কবির।

গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফল অনুসারে, রাজধানীর মোট আয়তনের মাত্র ২.৪ % এখন সবুজ এলাকা হিসেবে টিকে আছে। নানা ধরনের অবকাঠামোগত নির্মাণ ও ভবন শহরের বাকি ভূখণ্ড দখল করে ফেলেছে। এমনকি একের পর এক জলাশয় ভরাট করে বসতি এলাকা গড়ে তোলা হয়েছে। ফলে কমেছে ফাকা ভূখণ্ডের পরিমাণ। আর সবুজ ভূখণ্ডে পরিমাণ প্রায় নেই বললেই চলে কারণ রমনা পার্ক কিংবা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মতো এত বড় সবুজ এলাকা স্বাধীনতার পর আর একটিও গড়ে তোলা হয়নি।

গবেষণায় আরও বলা হয়, শহরে মোট ২১৮টি মাঠ ও ১০৩টি ঘাস আচ্ছাদিত উন্মুক্ত এলাকা রয়েছে। কিন্তু এগুলোও যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে না। এসব কারণে ঢাকা শহরের তাপমাত্রা গ্রামের চাইতে কয়েক ডিগ্রি বেশি থাকছে। শীত কিংবা বর্ষাতেও তাপমাত্রার তারতম্যটা একই রকম থাকছে। যা নগরবাসী ও পরিবেশের উপর বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন জেনারেল ইকোনোমিক ডিভিশনের (জিইডি) সদস্য ড. শামসুল আলম বলেন, "শহরায়ন গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু একটি স্থানকে কেন্দ্র করে শহরায়ন বিপদজনক। গ্রামেও শহরের সকল সুবিধা থাকা উচিৎ। কিন্তু সেটি হতে হবে, গ্রামের পরিবেশের বিঘ্ন না ঘটিয়ে।"

এ সময় ভুগর্ভস্থ পানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যহারে কমছে উল্লেখ করে ড. শামসুল বলেন, "পরিবেশ রক্ষায় মোট জলাশয়ের সংখ্যার একটি পরিমাপ করতে হবে। কারণ জলাশয়ের পরিমাণ সময়ের সাথে কমছেই শুধু, বাড়ছে না।"

পরিস্থিতি মোকাবেলায় বহুতল ভবনের ছাদ ও বারান্দায় গাছ লাগানোর পরামর্শ দেয়ার পাশাপাশি বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে পরিকল্পিত নগরায়ণ ও সবুজ এলাকা ও জলাভূমি রক্ষায় আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করা ইত্যাদি।

পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য অধ্যাপক শামসুল আলম, ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (ইকাড) পরিচালক সালিমুল হক, সেন্টার ফর আরবান স্টাডিজের চেয়ারম্যান ও নগর পরিকল্পনাবিদ নজরুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তৌহিদা রশিদ, বিসের চেয়ারম্যান রাষ্ট্রদূত এম ফজলুল করিম, কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রুহুল সেলিম প্রমূখ সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন।