• শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:০৩ সকাল

ছয় মাসের বকেয়া বেতন, চুরির অপবাদ ও মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন

  • প্রকাশিত ০৩:৫৯ বিকেল জানুয়ারী ২০, ২০২০
নির্যাতন
লক্ষ্মীপুরে চুরির অপবাদ দিয়ে এক কিশোরকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করা হয়। ঢাকা ট্রিবিউন

নির্যাতনের পর পুলিশে সোপর্দ করা হলেও ছাড়িয়ে নিয়ে শালিসের নামে ওই কিশোরকে আবারও মারধর করা হয় 

লক্ষ্মীপুরে চুরির অপবাদে পিলারের সাথে বেঁধে জুতার মালা গলায় পরিয়ে এক কিশোরকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করা হয়েছে। সোমবার (২০ জানুয়ারি) এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর নানী বাদী হয়ে সদর থানায় অভিযোগ করলেও পুলিশ এখনো পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি।

এর আগে শনিবার বিকেলে লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের ২ নং ওয়ার্ডের জালালিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) মোসলেহ উদ্দিন। বর্তমানে ওই কিশোর কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।     

পুলিশ জানায়, একটি দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করে ওই কিশোর। শনিবার ওই দোকান থেকে টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে খুঁটির সাথে বেঁধে ঝাড়ু ও জুতার মালা পরিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করা হয় ওই কিশোরকে। এমনকি, নির্যাতনের ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে ওই কিশোরকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

তবে, এখানেই শেষ নয় সন্ধ্যায়  পুলিশের কাছ থেকে তাকে ছাড়িয়ে এনে দোকান মালিক শালিস বৈঠকের আয়োজন করেন। এতে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলররা ওই কিশোরকে দোষী সাব্যস্ত করে ওই কিশোরকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। কিন্তু ওই কিশোরের পরিবারের লোকজন এতো টাকা দিতে অপ্রাগতা প্রকাশ করায় আবারও মারধর করা হয় তাকে।

পরে রবিবার রাত ৯ টায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় ভুক্তভোগী কিশোরকে। সোমবার সকালে ভুক্তভোগীর নানী সদর থানায় অভিযোগ করেন।

ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, ৬ মাস ধরে ওই দোকানে কাজ করলেও কোনো পারিশ্রমিক দেওয়া হয়নি ওই কিশোরকে। বারবার বলা সত্ত্বেও টাকা না দেওয়ায় বাধ্য হয়ে সে মালিককে না জানিয়ে নিজের প্রাপ্য টাকা দোকান থেকে নেয়। এ কারণেই তাকে চুরির অপবাদ দেওয়া হয়েছে।

তবে দোকান মালিক বলছেন, চুরি করে তার মুলধন আত্মসাৎ করায় এলাকাবাসী তাকে শাস্তি দিয়েছে।

এদিকে, শালিসী বৈঠকে উপস্থিত কাউন্সিলর শিপন ও সালিশদার ইসমাইলকে জিজ্ঞেস করা হলে তা এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।

এ ব্যাপারে সদর থানার ওসি মোসলেহ উদ্দিন বলেন, "নির্যাতনের অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনার তদন্ত চলছে। দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।"