• সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩৪ রাত

পুলিশের সামনেই পা ভেঙে দিলো সন্ত্রাসীরা

  • প্রকাশিত ০৬:২৭ সন্ধ্যা জানুয়ারী ২১, ২০২০
পাবনা মারধর
পিটিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে আলীমের দু'টি পা ঢাকা ট্রিবিউন

একটি ধর্ষণ মামলার তদন্তে পুলিশকে সহায়তা করছিলেন তিনি

পাবনায় ধর্ষণ মামলার তদন্তকাজে পুলিশকে সহায়তা করতে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন আব্দুল আলীম (৩৬) নামে এক যুবক। সিসিটিভি ক্যামেরায় ঘটনার ফুটেজ ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, পুলিশ ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে তার ওপর হামলা হলেও তাকে রক্ষায় কেউই এগিয়ে আসেননি।

গত শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) সদর উপজেলার গাছপাড়া বাজারে ঘটনাটি ঘটে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২০ ডিসেম্বর সদর উপজেলার গোপালপুর গ্রামে ধর্ষণের শিকার হন এক নারী। ওই ঘটনায় ২২ ডিসেম্বর সদর থানায় মালিগাছা ইউপি চেয়ারম্যানসহ শরিফুল ইসলামসহ আটজনকে আসামি করে মামলা করে ভুক্তভোগী নারীর পরিবার।

মামলাটির তদন্ত করতে গত ১৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় এক কনস্টেবলকে সঙ্গে নিয়ে গাছপাড়া বাজারে যান সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) খাইরুল ইসলাম। তদন্তকাজে পুলিশকে সহায়তা করতে এগিয়ে আসে আব্দুল আলীম।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, আলীমের সঙ্গে কথা বলার পর ঘটনাস্থল থেকে দুই পুলিশ সদস্য চলে যাচ্ছেন। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই আলীমকে মারধর শুরু করে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি। তাকে লাঠি, লোহার রড দিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়। 

মারধরে তার দুই পা-ই ভেঙে যায়। হামলাকারীরা চলে গেলে তাকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন স্থানীয়রা।

এই হামলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় তীব্র আলোচনা-সমালোচনা।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত আব্দুল আলীম জানান, “গাছপাড়া বাজারে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসে আমিসহ কয়েকজনের সঙ্গে ওই মামলাটির বিষয়ে কথা বলছিলেন পরিদর্শক (তদন্ত) খাইরুল ইসলাম। পুলিশ আমার সঙ্গে কথা বলা শেষ করতে না করতেই মামলাটির প্রধান আসামি মালিগাছা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম শরিফের ছোটভাই আরিফুল ইসলাম, হেলাল, আশরাফসহ তাদের সহযোগীরা অতর্কিতে আমার ওপর হামলা চালায়। ধর্ষণ মামলায় পুলিশকে সহযোগিতা করতে গিয়ে আমি হামলার শিকার হয়েছি। ওসি (তদন্ত) খাইরুল ইসলাম মামলাটির সাক্ষী খুঁজে দিতে আমার সহযোগিতা চেয়েছিলেন। তার কথায়ই কয়েকজন স্বাক্ষীকে ডেকে নিয়ে ওইদিন বসে কথা বলছিলাম। এমন সময় আমার ওপর হামলা হয়।”

আলীম বলেন, “আমার কষ্ট হলো যার কথায় সহযোগিতা করতে এগিয়ে গেলাম, সেই পুলিশ কর্মকর্তা বা কেউই আমাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলেন না।”

তবে সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) খাইরুল ইসলাম জানান, মামলার সাক্ষীর বিষয়ে কথা শেষ করে চলে আসার পর আলীমের ওপর হামলা হয়েছিল। ঘটনাস্থল থেকে খানিক দূরত্বে চলে যাওয়ার পর লোকজনের দৌড়াদৌড়ি দেখে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয় এবং কাছাকাছি অবস্থানরত পুলিশের মোবাইল টিমকে খবর দেওয়া হয়। পরে আলীমকে আহতাবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় স্থানীয় লোকজন। 

পাবনার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার (এসপি) গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, ঘটনার পর অভিযানে নেমেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। আহতের স্ত্রী রুমা খাতুন বাদী হয়ে দশজনকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন। এরপর অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলো- সদর উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের আশরাফ হোসেন (৪৫) ও তোফাজ্জল হোসেন (৪২)। 

এসপি আরও জানান, ওই ঘটনায় পুলিশের গাফিলতি ছিল কিনা তা তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) শামীমা আক্তারকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাতদিনের মধ্যে তাদেরকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।