• সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩৪ রাত

গাইবান্ধায় বিপন্নতম কালা শকুন উদ্ধার

  • প্রকাশিত ০৭:২৩ রাত জানুয়ারী ২১, ২০২০
কালা শকুন
সোমবার গাইবান্ধা সদরের একটি গ্রাম থেকে মহাবিপন্ন প্রজাতির কালা শকুনটিকে উদ্ধার করা হয় ঢাকা ট্রিবিউন

বিরলতম এই পরিযায়ী পাখিটি পাহাড়ের খাদ কিংবা উঁচু গাছে বাসা বাঁধে। বছরে মাত্র একটি ডিম পাড়ে

গাইবান্ধা সদর উপজেলার তরফকামাল গ্রাম থেকে বিরল প্রজাতির একটি কালা শকুন উদ্ধার করা হয়েছে। অসুস্থ অবস্থায় শকুনটিকে ধরে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে শকুনটিকে দিনাজপুরের সিংরিয়া বন কর্তৃপক্ষের শকুন লালন-পালন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। 

ঢাকা ট্রিবিউনকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন গাইবান্ধা সদর থানার ওসি খাঁন মো. শাহরিয়ার। 

তিনি বলেন, সোমবার বিকেলে একঝাঁক পাখি গ্রামের উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে যাচ্ছিল। হঠাৎ তাদের মধ্য থেকে একটি পাখি ফসলের ফাঁকা জমিতে পড়ে যায়। স্থানীয়রা পাখিটিকে ধরে থানায় খবর দিলে পরে সন্ধ্যায় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পাখিটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। 

থানায় নিয়ে পাখিটিকে মুরগির মাংস খাওয়ানো হয় বলেও জানান ওসি।


আরও পড়ুন - শকুন সংরক্ষণে বাংলাদেশ, কী করছে সরকার?


এ বিষয়ে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব ন্যাচারের (আইইউসিএন) ভালচার কন্সালটেন্ট মিজানুর রহমান জানান, “এই প্রজাতির শকুন বাংলাদেশে সচারাচর দেখা যায় না। ধারণা করা হচ্ছে, মাইগ্রেট করার সময় দীর্ঘযাত্রার ক্লান্তি আর প্রচণ্ড শীতে দূর্বল হয়ে সে মাটিতে পড়ে যায়।”

গাইবান্ধা জেলা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুছ সবুর হোসেন জানান, উদ্ধার হওয়া শকুনটির উচ্চতা ৩ ফিট ও ওজন আনুমানিক ১৫ কেজি। এটি অপ্রাপ্তবয়স্ক। শকুনটিকে মঙ্গলবার বিকেলে দিনাজপুরের সিংরিয়া বন কর্তৃপক্ষের শকুন লালন-পালন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শুশ্রুষার পর সুস্থ হয়ে গেলে সেটিকে অভয়ারণ্যে অবমুক্ত করা হবে।

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব ন্যাচার (আইইউসিএন) বাংলাদেশের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার সারোয়ার আলম জানান, “এটি একটি বিরল প্রজাতির কালা শকুন (Cinereous Vulture)। শুধু বিরলই নয়, এটি বিরলতম একটি পরিযায়ী পাখি। এরা পাহাড়ের খাদ কিংবা উঁচু গাছে বাসা বাঁধে। বছরে মাত্র একটি ডিম পাড়ে এবং সেটি ফুটে বাচ্চা বের হয়।”


আরও পড়ুন - আড্ডা ফেলে আহত পেঁচাটিকে বাঁচালেন তারা


বাংলাদেশ শকুনের পরিস্থিতি খুব খারাপ মন্তব্য করে বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা জোহরা মিলা ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “পৃথিবীতে দ্রুততম বিলুপ্ত হতে চলা প্রাণী শকুন। তাই শকুনমাত্রই ‘মহাবিপন্ন’ (Critically Endangered)। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) এর হিসেবে বাংলাদেশে মাত্র ২৬৮টি শকুন রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “পশু চিকিৎসায় ডাইক্লোফেনাক ও কেটোপ্রোফেনের ব্যবহার, খাদ্য সংকট এবং বাসস্থান সংকটসহ নানা প্রতিকূল পরিবেশের কারণে প্রকৃতির ঝাড়–দার হিসেবে পরিচিত এই পাখিটি হারিয়ে যাচ্ছে। শকুন বিলুপ্ত হয়ে গেলে সুন্দর একটি পাখি হারানো পাশাপাশি দেশের মানুষ এনথ্রাক্স, জলাতঙ্কসহ পশু হতে সংক্রামক রোগের ভয়াবহ ঝুঁকিতে পড়বে।”

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর গাইবান্ধার রোয়ালী ইউনিয়নের ফলিয়া গ্রাম থেকে ৫টি অসুস্থ শকুন উদ্ধার করা হয়েছিল