• মঙ্গলবার, এপ্রিল ০৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:২৩ দুপুর

স্কুলছাত্রীকে অচেতন করে ধর্ষণ, হাসপাতালে নিতেও বাধা

  • প্রকাশিত ১০:১৩ রাত জানুয়ারী ২১, ২০২০
ধর্ষণ
প্রতীকী ছবি

নার্স রেখা আক্তার বলেন, 'আমরা  প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করে ধর্ষণের আলামত পেয়েছি'

ভোলা সদর উপজেলায় তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে ফলের জুস খাইয়ে অচেতন করে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে শের আলি নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। পরে ওই শিশুকে হাসপাতালে নিতে গেলে শের আলির পরিবারের লোকজন বাধা দেয় বলে জানা গেছে।  

সোমবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরের দিকে উপজেলার ইলিশা ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে ওই ছাত্রীকে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অভিযুক্ত শের আলি ইলিশা ইউনিয়নের ওমর আলীর ছেলে। তিনি ওই ইউনিয়নের পোস্ট অফিসের রানার হিসেবে কর্মকর্ত রয়েছেন। 

ভুক্তভোগী ওই শিশুর বাবা অভিযোগ করেন, তার আট বছর বয়সী মেয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। প্রতিদিন সে বাড়ি থেকে হেঁটে স্কুলে যায়। প্রতিদিনের মতো সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাড়ি থেকে স্কুলে যাওয়ার পথে শের আলি তাকে জুস খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে পোস্ট অফিসে নিয়ে যান। সেখানে তাকে জুস খাইয়ে অচেতন করে ধর্ষণ করা হয়। জ্ঞান ফিরলে তাকে আবার স্কুলে পাঠিয়ে দেন শের আলি। এ সময় ঘটনাটি কাউকে জানালে ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দেন তিনি। 

বিকেল ৪টার দিকে স্কুল ছুটির পর তার মেয়ে বাড়িতে যাওয়ার পথে মাথা ঘুরে পড়ে যায়। পরে সঙ্গে থাকা শিক্ষার্থীরা তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেয়। বাড়িতে গিয়ে সে ভয়ে কাউকে কিছুই বলেনি। তবে তার পোশাক খুলে শরীরে আঁচড়ের চিহ্ন দেখা যায়। পরে জিজ্ঞেস করলে সে ধর্ষণের ঘটনা জানায়।

শিক্ষার্থীর বাবা আরও জানান, মঙ্গলবার সকালে মেয়ের অবস্থা খারাপ দেখে হাসপাতালে নেওয়ার সময় শের আলির পরিবারের লোকজন তাদের বাধা দেয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে নিয়ে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষ হলে তারা থানায় মামলা করবেন। 

ভোলা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. মেহেদী হাসান ভুঁইয়া জানান, শিশুটির শরীরে আঁচড়ের চিহ্ন পাওয়া গেছে। আমরা তাকে হাসপতালে ভর্তি করেছি। বাকি পরীক্ষা নারী চিকিৎসক করবেন।

সদর হাসপাতালের গাইনী বিভাগের সিনিয়র স্টাফ নার্স রেখা আক্তার বলেন, "আমরা  প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করে ধর্ষণের আলামত পেয়েছি।"  

ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনায়েত হোসেন জানান, "ঘটনাস্থলে আমরা গিয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।"