• শুক্রবার, এপ্রিল ০৩, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩৭ রাত

এতো জনপ্রিয়তা, তবু অবহেলিত নাফাখুম

  • প্রকাশিত ০৫:৩২ সন্ধ্যা জানুয়ারী ২২, ২০২০
নাফাখুম ঝর্ণা
বান্দরবানের নাফাখুম ঝর্ণা ঢাকা ট্রিবিউন

অনেক পর্যটকই না জেনে মৃত্যুকে হাতের মুঠোয় নিয়েই যেন জায়গাটির সৌন্দর্য উপভোগ করতে যান

ছবির মতো সুন্দর ঝর্ণা পার্বত্য জেলা বান্দরবানের থানছি উপজেলার নাফাখুম। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের ভ্রমণপিপাসুদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এই পর্যটনকেন্দ্রটিতে নেই পর্যাপ্ত পর্যটন সুবিধা ও নিরাপত্তা। 

যথাযথ উদ্যোগের অভাবে পর্যটকরা যেমন অসুবিধায় পড়ছেন, তেমনি সরকারও বঞ্চিত হচ্ছে রাজস্ব থেকে।

থানচি থেকে নাফাখুমে যেতে হলে প্রথমে উপজেলা সদর থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে যেতে হয় রেমাক্রি মুখ। সেখান থেকে পাহাড় ও বনের ভেতর দিয়ে একাধিক নদী পেরিয়ে প্রায় ১৩ কিলোমিটার হেঁটে অতিক্রম করলে তবেই নাফাখুমের দেখা মেলে।

এই ঝর্ণার অনিন্দ্য সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিবছর শীতে অন্যান্য সময়ের তুলনায় পর্যটকের সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। 

তবে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা এখানকার পর্যটনশিল্পের উন্নয়নের বড় অন্তরায়।

সরেজমিনে গিয়ে নাফাখুমের অনুন্নত যাতায়াত ব্যবস্থা, অপর্যাপ্ত নিরাপত্তা, থাকার জায়গার অভাবের মতো সমস্যাগুলোর প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এসব কারণে বাড়ছে দুর্ঘটনা, বেড়াতে গিয়ে হতাহত হচ্ছেন পর্যটকরা। গত ৭ বছরে নাফাখুমে পড়ে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১০ পর্যটক। আহত হয়েছেন দুই শতাধিক। অভিযোগ রয়েছে, পর্যটন কর্তৃপক্ষ বা স্থানীয় প্রশাসন এই পর্যটনকেন্দ্রটির উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

প্রাকৃতিক কারণেই নাফাখুমের পাথুরে পথ পিচ্ছিল হয়ে থাকে। অসাবধানতাবশতঃ বা দুর্ঘটনাক্রমে কেউ পড়ে গেলে ঝর্ণার তীব্রপ্রবাহে কিছু আঁকড়ে ধরে আত্মরক্ষারও উপায় নেই। অনেক পর্যটকই না জেনে মৃত্যুকে হাতের মুঠোয় নিয়েই যেন জায়গাটির সৌন্দর্য উপভোগ করতে যান।

তাই অভিজ্ঞ পর্যটকরা এই ঝর্ণাকে ঘিরে নিরাপত্তা বেষ্টণী তৈরির দাবি জানিয়েছেন।

আর প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটায় আশানুরূপ পর্যটক সমাগম হচ্ছে না বলে মনে করেন স্থানীয়রা। 

স্থানীয় বোট চালক উজ্জ্বল ত্রিপুরা বলেন, “আমরা ইঞ্জিনচালিত নৌকায় পর্যটকদের পরিবহন করে সংসার চালাই। সরকার একটু সুদৃষ্টি দিলে নাফাখুমে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি এলাকাও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হতো।”

দেখা গেছে, নির্দিষ্ট রাস্তা না থাকায় পর্যটকরা নাফাখুমে যাচ্ছেন পাহাড়ের বন-জঙ্গল সাফ করে। স্থানীয় প্রশাসন ৬শ' টাকার বিনিময়ে একজন গাইড নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে। তবে সরকারিভাবে নেই কোনো থাকার ব্যবস্থা। নেই শৌচাগার।  

থানচির রেমাক্রি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মালিরাম ত্রিপুরা বলেন, সরকার একটু নজর দিলে রেমাক্রির বড় পাথর ও নাফাখুম হবে জেলার পর্যটনখাত থেকে রাজস্ব আদায়ের বড় ক্ষেত্র।

কথা বলা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুল হক মৃদুল বলেন, নাফাখুমকে আমরা প্রাকৃতিকভাবেই রাখতে চাই। জায়গাটি এতো দুর্গম যে সেখানে কোনো অবকাঠামো গড়ে তোলার জন্য ঠিকাদার পাওয়া যাবে না।