• শুক্রবার, এপ্রিল ১০, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:৩২ রাত

রোহিঙ্গা গণহত্যা-নির্যাতন বন্ধে মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক আদালতের আদেশ

  • প্রকাশিত ০৫:১৩ সন্ধ্যা জানুয়ারী ২৩, ২০২০
রোহিঙ্গা
রাখাইনের মংডুর নিকটবর্তী একটি রোহিঙ্গা গ্রামে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় পাশ দিয়ে কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে দেশীয় অস্ত্র হাতে হেঁটে যেতে দেখা যায়। ফাইল ছবি/এএফপি

বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় আইসিজের প্রধান বিচারপতি আবদুল কাভি আহমেদ ইউসুফ এ আদেশ ঘোষণা করেন

রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গাম্বিয়ার দায়ের করা মামলার রায়ে চারটি অন্তবর্তীকালীন আদেশ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) নেদারল্যান্ডসের রাজধানী দ্য হেগে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় আইসিজের প্রধান বিচারপতি আবদুল কাভি আহমেদ ইউসুফ ওই আদেশ ঘোষণা করেন। এ সময় আদালতের অপর ১৪ জন স্থায়ী বিচারপতি ও দুজন চুক্তিভিত্তিক (অ্যাডহক) বিচারপতি উপস্থিত ছিলেন।

আদেশে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও অন্যান্য সশস্ত্রবাহিনীকে সব ধরনের গণহত্যা ও গণহত্যার ষড়যন্ত্র থেকে বিরত থাকা, মিয়ানমার স্বাক্ষরিত আন্তর্জাতিক গণহত্যা সনদের ২ ধারা অনুযায়ী রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে সব ধরনের সুরক্ষা দেওয়া, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সদস্যদের হত্যা ও নিপীড়ন বন্ধ এবং বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটে এমন সব ধরনের পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে গত ১১ নভেম্বর মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলাটি করে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া।

ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পক্ষে মামলা করা গাম্বিয়া মিয়ানমারের গণহত্যার আচরণ অবিলম্বে বন্ধ করার ব্যবস্থা বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতকে জরুরিভাবে আদেশ দেওয়ার আহ্বান জানায়।


আরও পড়ুন - ‘রোহিঙ্গা ইস্যু আন্তর্জাতিকীকরণ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে বাংলাদেশ’


আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) অনুসারে, ১৯৯৩ সালের আন্তর্জাতিক আদালতে প্রথম গণহত্যা বিষয়ক মামলায় সার্বিয়ার বিরুদ্ধে অস্থায়ী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। কারণ ওই মামলায় প্রমাণিত হয়েছিল যে, সার্বিয়া বসনিয়া-হার্জেগোভিনায় গণহত্যা প্রতিরোধ ও শাস্তি স্থাপনে দায়িত্ব লংঘন করেছিল।

২০১৭ সালের আগস্টে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে এক কঠোর বিদ্রোহ দমন অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। এতে গণধর্ষণ, হত্যা ও ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়াসহ জাতিগত নির্মূল অভিযান থেকে বাঁচতে সাত লাখের অধিক রোহিঙ্গা পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। তবে অতীতের বিভিন্ন সময় মিলিয়ে বর্তমানে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশ অবস্থান করছে।

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গাম্বিয়ার দায়ের করা মামলার অভিযোগে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের অভিযোগের মধ্যে ছিল হত্যা, গুরুতর শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি সাধন, ভৌত বিনাশ বয়ে আনার মতো পরিস্থিতি তৈরি, জন্মরোধের ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া ও জোরপূর্বক স্থানান্তর। এগুলো গণহত্যার বৈশিষ্ট্য। কারণ এসবের উদ্দেশ্য ছিল রোহিঙ্গা গোষ্ঠীকে পুরোপুরি বা আংশিকভাবে ধ্বংস করে দেওয়া।

গাম্বিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ও বিচারমন্ত্রী আবুবাকার মারি তামবাদো ওই সময় এক বিবৃতিতে বলেন, “রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের চালানো গণহত্যার বিচার ও জবাবদিহিতা চাইতে এবং গণহত্যার বিরুদ্ধে বৈশ্বিক আচরণ যা সব রাষ্ট্রের জন্য বাধ্যতামূলক তাকে সমর্থন ও জোরদার করতে গাম্বিয়া এই পদক্ষেপ নিচ্ছে।”

মিয়ানমার বিষয়ে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের প্রধান গত অক্টোবরে সতর্ক করে দিয়েছে যে সেখানে গণহত্যার পুনরাবৃত্তির গুরুতর ঝুঁকি রয়েছে।


আরও পড়ুন - রোহিঙ্গা নির্যাতনের কোনও প্রমাণ পায়নি মিয়ানমারের সরকারি প্যানেল