• রবিবার, মার্চ ২৯, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৭ রাত

সৌদি থেকে দেশে ফিরলেন আরও ২১৭ বাংলাদেশি

  • প্রকাশিত ০৭:১৮ রাত জানুয়ারী ২৩, ২০২০
প্রবাসী শ্রমিক
বিমানবন্দরে সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে ফেরত আসা শ্রমিকরা। ফাইল ছবি।সৈয়দ জাকির হোসেন/ঢাকা ট্রিবিউন

এ নিয়ে গত তিন সপ্তাহে আড়াই হাজারের বেশি বাংলাদেশি সৌদি আরব থেকে ফিরলেন

সৌদি আরব থেকে ফেরত এসেছেন আরও ২১৭ জন বাংলাদেশি। বুধবার (২২ জানুয়ারি) রাত ১১টা ২০ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইন্সের এসভি ৮০৪ বিমানযোগে ১০৩ জন এবং দিবাগত রাত ১টা ১০ মিনিটে সৗদি এয়ারলাইন্সের এসভি ৮০২ বিমান যোগে ১১৪ জন খালি হাতে দেশে ফেরেন বলে ইউএনবি'র একয়ি খবরে বলা হয়।

এ নিয়ে গত তিন সপ্তাহে আড়াই হাজারের বেশি বাংলাদেশি সৌদি আরব থেকে ফিরলেন। ফেরত আসা শ্রমিকদের জরুরি সহায়তা প্রদান ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম।

বুধবার ফেরত আসা টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার উপজেলার একই পরিবারের দুই ভাই সুজন মিয়া ও মিন্টু মিয়া। সুজন মিয়া পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে মাত্র চার মাস আগে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। আর মিন্টু মিয়া যান ২৩ মাস আগে। মিন্টুর আকামার (কাজের অনুমতিপত্র) মেয়াদ পাঁচ মাস থাকলেও সুজনের আকামা তৈরি করে দেয়নি নিয়োগ কর্তা। কিন্তু দুই সহোদরকেই কর্মস্থল থেকে ঘরে ফেরার পথে পুলিশ আটক করে।

টাঙ্গাইলের আরেক ফেরত কর্মী লিটন মাত্র ছয় মাস আগে আড়াই লাখ টাকা খরচ করে ওয়েল্ডিং এর কাজে দেশটিতে যান। সেখানে গিয়ে কোম্পানিতে কাজ করলেও কোনো বেতন দেয়া হয়নি। এমনকি নিয়োগ কর্তা আকামা তৈরি করে দেয়নি। কর্মস্থল থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলে নিয়োগ কর্তা আর লিটন কোনো দায়িত্ব নেয়নি।

নরসিংন্দীর মন্টু মিয়া, টাঙ্গাইলের কাদের মিয়া, সিরাজগঞ্জের জাহিদুল, সিলেটের নাজমুলসহ আরও অনেকেই ফিরেছেন যাদের এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে ফিরতে হলো।

ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান জানান, দেশে ফেরত আসা কর্মীদের কথায় স্পষ্ট যে প্রত্যেককে নানা স্বপ্ন দেখিয়েছিল দালাল ও রিক্রুটিং এজেন্সি। কিন্তু সৌদি আরবে গিয়ে নানা সমস্যায় পড়েন তারা। অনেকে বেতন পাননি। অনেকে সৌদি আরবে যাওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে ফেরত এসেছেন। তারা সবাই এখন ভবিষ্যত নিয়ে দুশ্চিন্তায়।

এর আগে ২০১৯ সালে ২৫ হাজার ৭৮৯ বাংলাদেশিকে সৌদি আরব থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আর গত তিন সপ্তাহের ব্যবধানে আড়াই হাজারের বেশি বাংলাদেশি ফিরলেন দেশটি থেকে।