• রবিবার, এপ্রিল ০৫, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:৩৩ রাত

বর্ণিল আয়োজনে জাবিতে পাখি মেলা অনুষ্ঠিত

  • প্রকাশিত ০২:০৩ দুপুর জানুয়ারী ২৪, ২০২০
জাবি
বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনের সামনে বেলুন উড়িয়ে পাখি মেলার উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম। ঢাকা ট্রিবিউন

‘পাখির মাধ্যমেই আমরা আমাদের প্রকৃতি ও পরিবেশের অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারি। তাই আমাদের উচিৎ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে পাখিদের আবাসস্থলগুলো, জলাশয়গুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা যাতে পাখি অবাধে বিচরণ করতে পারে’

পাখির গুরুত্ব সম্পর্কে গণসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ও সংরক্ষণের জন্য “পাখ-পাখালি দেশের রত্ন, আসুন করি সবাই যত্ন” স্লোগানকে সামনে রেখে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ২০তম বারের মতো “পাখি মেলা-২০২০” অনুষ্ঠিত হয়েছে। মেলা উপলক্ষে রাজধানী ও আশপাশের এলাকা থেকে অসংখ্য পাখিপ্রেমীরা এসে ভিড় জমান বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে।

শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) প্রাণীবিদ্যা বিভাগের আয়োজনে সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনের সামনে বেলুন উড়িয়ে পাখি মেলার উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম।

উদ্বোধনী ভাষণে ড. ফারজানা ইসলাম বলেন, “আমাদের ছোট্ট শিশুরা যেন পাখিকে হত্যা না করে বরং পাখির প্রতি যেন তাদের ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়, এটার জন্যই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। অনেক পাখিপ্রেমী এখানে এসেছেন আমাদের পাখি সংরক্ষণের জন্য তাদেরই মূলত প্রয়োজন। দর্শনার্থীরা যাতে পাখিদের বিরক্ত না করে এজন্য প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে এসব পাখিপ্রেমীদের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে এবং সবাইকে সচেতন করতে হবে। তাহলেই আমাদের পরিবেশ ভালো থাকবে, আমরা চালো থাকবো।”


আরও পড়ুন - বিদেশি শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় নেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়


প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও পাখি মেলার আহ্বায়ক কামরুল হাসান বলেন, “এই পাখিমেলা আমরা ২০০১ সাল থেকে করে আসছি। আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য হলো সবাইকে পাখি ও জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে সচেতন করা। এজন্য আমরা পাখি মেলা উপলক্ষে শিশু-কিশোরদের পাখি অঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছি, যার মাধ্যমে পাখিদের প্রতি শিশুদের ভালোবাসা বৃদ্ধি পায় এবং পাখি সম্পর্কে জানতে পারে। কেননা পাখির মাধ্যমেই আমরা আমাদের প্রকৃতি ও পরিবেশের অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারি। তাই আমাদের উচিৎ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে পাখিদের আবাসস্থলগুলো, জলাশয়গুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা যাতে পাখি অবাধে বিচরণ করতে পারে।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ মনজুরুল হক, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. গোলাম মোস্তফা, বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ইনাম আল হক, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারের (আইইউসিএন) কান্ট্রি ডিরেক্টর রাকিবুল আমিন, ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান প্রমুখ।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে পাখি মেলা দেখতে এসেছিলেন পাঁচ বছরের শিশু অর্ষা। তার ভাষ্য, “অনেকগুলো পাখি দেখেছি। পাখিদের সাথে ছবি তুলেছি। আমার খুব ভালো লাগছে।”

অর্ষার বাবা আহাদ ভূঁইয়া বলেন, “কর্মব্যস্ততার কারণে বাচ্চাদের নিয়ে সেভাবে কোথাও যাওয়া হয় না। আজ ছুটির দিনে বাচ্চাদের আগ্রহের জায়গা থেকে যানযটের শহর থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পাখি মেলা দেখতে এসেছি। এখানে এসে খুবই ভালো লাগছে। বাচ্চারাও খুবই খুশি।”


আরও পড়ুন - দর্শনার্থীদের ভিড়ে উত্যক্ত জাবির অতিথিরা


এবারের পাখি মেলায় সংবাদমাধ্যমে বিগত এক বছরে প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে পাখি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অবদান রাখায় প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার তিনজন সাংবাদিককে “কনজারভেশন মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড-২০২০” প্রদান করা হয়। এ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন প্রতিদিনের সংবাদের মো. তহিদুল ইসলাম, বাংলানিউজের বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বপন ও মাই টিভির মো. আব্দুল্লাহ আল ওয়াহিদ। বিগত এক বছরে নতুন প্রজাতির পাখির ছবি ধারণ ও চিহ্নিত করার জন্য তিনজনকে “বিগ বার্ড অ্যাওয়ার্ড-২০২০” প্রদান করা হয়। এছাড়া বাংলাদেশের পাখির ওপর সায়েন্টিফিক জার্নাল, প্রকাশিত প্রবন্ধ পর্যালোচনা করে একজনকে “সায়েন্টিফিক পাবলিকেশন অ্যাওয়ার্ড” প্রদান করা হয়েছে।

দিনব্যাপী পাখি মেলায় অন্য আয়োজনের মধ্যে ছিল আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় পাখি দেখা প্রতিযোগিতা, পাখি বিষয়ক আলোকচিত্র প্রদর্শনী, স্কুল পর্যায়ের শিশু কিশোরদের জন্য পাখির ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা, টেলিস্কোপ ও বাইনোকুলার দিয়ে শিশু-কিশোরদের পাখি পর্যবেক্ষণ, পাখির আলোকচিত্র ও পত্র-পত্রিকা দিয়ে স্টল সাজানো প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরণী, পাখি চেনা প্রতিযোগিতা ও পাখি বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা।

পাখি সংরক্ষণে গণসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ২০০১ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ ও ওয়াইল্ড লাইফ রেসকিউ সেন্টার এ মেলার আয়োজন করে আসছে।


আরও পড়ুন - শকুন সংরক্ষণে বাংলাদেশ, কী করছে সরকার?