• রবিবার, এপ্রিল ০৫, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:৫৫ রাত

চাঁদা না পাওয়ায় মুক্তিযোদ্ধাকে পেটালেন যুবলীগ নেতা

  • প্রকাশিত ১০:০০ সকাল জানুয়ারী ২৬, ২০২০
রাজশাহী-মুক্তিযোদ্ধা
শনিবার (২৫ জানুয়ারি) বেলা ১১ টায় রাজশাহীর মেহেরচন্ডী এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা ওয়াহেদ উদ্দিনের সঙ্গে এ মারধরের ঘটনা ঘটে ঢাকা ট্রিবিউন

‘স্থানীয় ওই যুবলীগ নেতা, বাড়ির কাজে তাদের কাছ থেকে ইট নেওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছিল, তার বলার আগেই অন্য জায়গা থেকে ইট নেওয়ায় আমাদের কাছে এসে ১০ লাখ টাকা দাবি করে, এরপর আমার বাবাকে মারধরও করে’

রাজশাহীতে চাঁদা না দেওয়ায় মুক্তিযোদ্ধা ও তার সন্তানকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার (২৫ জানুয়ারি) বেলা ১১ টায় নগরীর মেহেরচন্ডী দায়রাপাক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে আহত ওই মুক্তিযোদ্ধাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আহত মুক্তিযোদ্ধা ওয়াহেদ উদ্দিনের স্বজনরা জানায়, বছরখানেক পূর্বে মুক্তিযোদ্ধা একেএম ওয়াহেদ উদ্দিন (৬৩) মেহেরচন্ডী দায়রাপাক এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল নামে এক ব্যক্তির মায়ের কাছ থেকে একটি জমি ক্রয় করেন। এ বছরের শুরুতে ওয়াহেদ উদ্দিনের বাড়ির কাজ শুরু করার কথা ছিল। একারণে রাসেলের চাচা স্থানীয় যুবলীগ সভাপতি আসাদ বিভিন্নভাবে চাঁদা চেয়ে আসছিলেন। চাঁদা না দেওয়ায় অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মুক্তিযোদ্ধাকে মারধর করা হয়েছে।

শনিবার সকালে মুক্তিযোদ্ধা ওয়াহেদ উদ্দিন বাড়ি নির্মাণের ইট কিনে ট্রাকে করে নামানোর সময় রাসেল ও তার চাচা আসাদ বাধা দেয়। এসময় তারা ইট না নেওয়ায় ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তাকে ও তার স্ত্রীকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে মারধর শুরু করে। এসময় আহত হন মুক্তিযোদ্ধার ছেলে নাহিন ইসলামও।

নাহিন ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় যুবলীগ সভাপতি আসাদ ইট যেন তাদের কাছেই নেয়া হয় বলে নানাভাবে হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিল। অথচ তার বলার আগেই আমাদের ইট কেনা হয়েছে অন্য জায়গা থেকে। তাদের কাছে কেন ইট নেওয়া হয়নি এই বলে সকালে আমাদের কাছে এসে ১০ লাখ টাকা দাবি করে। আমার বাবা সে টাকা দিতে না চাইলে বাবাকে ও মাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল শুরু করে। আমি তাতে বাধা দিতে গেলে আমাকেও তারা মারধর করে। এতে আমার বাবার নাক দিয়ে অনর্গল রক্ত পড়তে থাকে।

তিনি আরও বলেন, “রাসেল ও আসাদের এ ঘটনা পূর্ব পরিকল্পিত। মুহূর্তের মধ্যে ফোন করে অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন লোক যোগাড় করে যাদের কাছে দেশীয় অস্ত্র ছিল। তারা বাবাকে ছুরিকাঘাত করার সময় বাধা দিতে গেলে আমার হাত কেটে যায়। বর্তমানে আমার বাবা রামেক হাসপাতালের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন।”

তবে এবিষয়ে যুবলীগ সভাপতি আসাদের বক্তব্য নেওয়ার জন্য ফোন দেওয়া হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুম মুনীর বলেন, “চাঁদাবাজি ও হত্যার চেষ্টায় মুক্তিযোদ্ধা ওয়াহেদ উদ্দিন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। আমরা আসামিদের ধরতে অভিযান পরিচালনা করছি।”