• সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:১১ দুপুর

হাসপাতালে ভর্তি অন্তঃসত্ত্বা নারীর পরিচয় ৪ মাসেও মেলেনি

  • প্রকাশিত ০৯:৩৭ রাত জানুয়ারী ২৬, ২০২০
লালমনিরহাট
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অজ্ঞাত পরিচয় নারী। ইউএনবি

সমাজসেবা কর্মীদের ধারণা- বড় কোনো মানসিক নির্যাতনের শিকারের কারণে আতঙ্কিত হয়ে ওই নারী মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন

লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে চার মাস ধরে চিকিৎসাধীন অন্তঃসত্ত্বা নারীর পরিচয় খুঁজে পাচ্ছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

রবিবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে লালমনিরহাট হাসপাতালে সমাজসেবা কর্মকর্তা এরশাদ আলী বলেন, “তার পরিচয় বের করার চেষ্টা করছি। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে সহায়তা করবে সমাজসেবা কর্মীরা।”

জানা গেছে, চার মাস আগে এক সন্ধ্যায় লালমনিরহাট হাসপাতালের ভেতরের গেটের সামনে পলিথিন বিছিয়ে শুয়ে থাকা অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কয়েকদিন চিকিৎসার পরে নিরুদ্দেশ হলেও পুনরায় হাসপাতালে ফিরে আসেন ওই নারী। বর্তমানে সদর হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার গাইনি ওয়ার্ডে তার চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালে কর্মরত নার্স ও চিকিৎসকরা নানাভাবে তার পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন।

অন্তঃসত্ত্বা ওই নারী নিজের পরিচয় দিতে ভয় পাচ্ছেন। সবার কথা বুঝতে পারলেও কোনো জবাব দেন না।

সমাজসেবা কর্মীদের ধারণা- বড় কোনো মানসিক নির্যাতনের শিকারের কারণে আতঙ্কিত হয়ে ওই নারী মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন। এ অবস্থায় এখন তার পরিবারের আপনজনের পরিচর্যা দরকার। পরিচয় শনাক্ত করে উপযুক্ত চিকিৎসা দেওয়া হলে মানসিকভাবে তাকে সুস্থ করা যাবে। তাই তার পরিচয় জানার চেষ্টা করছে সমাজসেবা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এ দিকে হাসপাতালে সরকারি সহায়তায় শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসকরা নিশ্চিত হন যে, ওই নারী গর্ভবতী। আগামী মার্চ মাসে তিনি সন্তান প্রসব করবেন বলে আল্ট্রাসনোগ্রাম প্রতিবেদন দেখে চিকিৎসকরা নিশ্চিত হয়েছেন।

লালমনিরহাট হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডের ইনচার্জ সিনিয়র স্টাফ নার্স চামেলী বেগম বলেন, “ওই নারী খুবই কম কথা বলেন। কিছু বললে হাসি দেন। কারও ক্ষতি করেন না।” কেউ তাকে চিনলে হাসপাতালে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানান তিনি।

এ বিষয়ে লালমনিরহাট সিভিল সার্জন ডা. কাসেম আলী বলেন, “অন্তঃসত্ত্বা নারীকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ সব ধরনের সহযোগিতা করছে। যতদিন হাসপাতালে চিকিৎসা চলবে ততদিন তাকে সহায়তা করবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।”