• বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ০৯, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:২৪ বিকেল

জাবি শিক্ষক সমিতির নির্বাচন সোমবার

  • প্রকাশিত ১০:৫৭ রাত জানুয়ারী ২৬, ২০২০
জাবি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার। সংগৃহীত

‘বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এটা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ সময়। এটা নিঃসন্দেহে যে এবারের প্রেক্ষাপট পুরোপুরি ভিন্ন। পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের প্রয়াস এ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রকাশ পাবে’

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশের উপাচার্য বিরোধী আন্দোলনের মধ্যেই আগামী ২৭ জানুয়ারি (সোমবার) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদ-২০২০ এর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে উপাচার্যের পক্ষে-বিপক্ষে বিভক্ত হয়ে প্যানেল ঘোষণা করেছেন দু’পক্ষের শিক্ষকরা। নির্বাচনে জয় লাভ করতে প্রতিদিন অনুষদ আর বিভাগগুলোতে ঘুরে ঘুরে ভোট চাইছেন উভয় পক্ষের প্রার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উপাচার্য বিরোধী হিসেবে পরিচিত বিএনপি, বাম ও আওয়ামীপন্থি (একাংশ) শিক্ষকরা এক জোট হয়ে এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন। তাদের সংগঠন “সম্মিলিত শিক্ষক সমাজ” এর ব্যানারে সভাপতি পদপ্রার্থী মনোনীত করা হয়েছে শিক্ষক ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সোহেল রানা ও সাধারণ সম্পাদক অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন। সহ-সভাপতি পদে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক হাসিবুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন এবং কোষাধ্যক্ষ পদে লড়াই করবেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস।

এছাড়া ১০টি সদস্য পদে লড়াই করবেন- ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক মাসুম শাহরিয়ার, রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মাহবুব কবির, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক মালিহা নার্গিস আহমেদ, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন তুহিন, প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাবির হোসেন, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শামীমা সুলতানা, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক উম্মে সায়কা, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক, নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সায়েমা খাতুন, ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হোসনে আরা।

অন্যদিকে উপাচার্যপন্থি হিসেবে পরিচিত শিক্ষকদের সংগঠন “বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদ” ব্যানারে সভাপতি পদপ্রার্থী হিসেবে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এ মামুন ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমগীর কবির মনোনয়ন পেয়েছেন এ নির্বাচনে। এছাড়া সহ-সভাপতি পদে অধ্যাপক সৈয়দ হাফিজুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে সহযোগী অধ্যাপক রিসালা তাসিন খান এবং কোষাধ্যক্ষ পদে লড়াই করবেন ইনস্টিটউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের অধ্যাপক মোতাহার হোসেন লড়াই করবেন।

একই প্যানেল থেকে সদস্য পদে লড়াই করবেন- কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক যুগল কৃষ্ণ দাস, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক সুফি মোস্তাফিজুর রহমান, রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক কৌশিক সাহা, ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক আহমেদ রেজা, সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক বশির আহমেদ, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ইসমত আরা, ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হুসাইন মো. সায়েম, মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বারতা চক্রবর্তী, ফার্মেসি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফখরুল ইসলাম, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহফুজা খাতুন।

নির্বাচন পরিচালনার জন্য নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক এ কে এম আবুল কালামকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার করে তিন সদস্যবিশিষ্ট নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে।

নির্বাচন সম্পর্কে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এ কে এম আবুল কালাম বলেন, “সোমবার সকাল ৯ টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ক্লাবে ভোট গ্রহণ চলবে। প্রায় ছয় শতাধিক শিক্ষক এই ভোটে অংশগ্রহণ করবেন। ১৫টি পদের জন্য দুটি প্যানেলে মোট ৩০ জন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন।”

নির্বাচন নিয়ে উপাচার্যপন্থিদের মনোনীত সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমগীর কবির বলেন, “শিক্ষক সমিতির নির্বাচন এবার অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি বিশ্ববিদ্যালয় তথা দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বেশ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এই বিষয়টা পুরোটাই নির্ভর করে কে নির্বাচিত হলো এবং তারা কি চায় এটার উপরে।”

উপাচার্য বিরোধী জোটের মনোনীত সভাপতি প্রার্থী অধ্যাপক ড. মো. সোহেল রানা বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এটা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ সময়। এটা নিঃসন্দেহে যে এবারের প্রেক্ষাপট পুরোপুরি ভিন্ন। পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের প্রয়াস এ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রকাশ পাবে।”