• রবিবার, এপ্রিল ০৫, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:০৪ রাত

মুন্সীগঞ্জে ‘রহস্যময় জ্বরে’ একই পরিবারের ২ জনের মৃত্যু

  • প্রকাশিত ০৬:৩৯ সন্ধ্যা জানুয়ারী ২৭, ২০২০
মুন্সীগঞ্জ

ঐ বাড়ির পাশে যশলদিয়া পানি শোধনাগারে কিছু চীনা লোক কাজ করে। এছাড়াও পদ্মা সেতু প্রকল্পেও চীনারা কাজ করছে। সেখান থেকে করোনাভাইরাস এই এলাকায় ছড়াতে পারে মনে করেই অনেকেই আতংকিত

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার যশলদিয়া গ্রামে ১৮ ঘন্টার ব্যবধানে “রহস্যময় জ্বরে” আক্রান্ত হয়ে চাচী-ভাতিজার মৃত্যু হয়েছে।

রবিবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে আটটার দিকে ওই গ্রামের মীর জুয়েলের স্ত্রী শামীমা বেগম (৩৪) মারা যান এবং রবিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে মীর জুয়েলের ভাই মীর সোহেলের ছেলে আব্দুর রহমান (৩) মারা যায়। এরা দুইজনই আকস্মিক জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন।

মীর জুয়েল ও মীর সোহেলের চাচাতো ভাই মীর শিবলী জানান, সকালে আকস্মিক জ্বরে আক্রান্ত হন ভাবী। ধীরে ধীরে তার শরীরের তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। একই সঙ্গে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাল লাল ছোপ দেখা দেয়। জ্বর আসার ঘণ্টাখানেকের ব্যবধানে তিনি মারা যান। পরে ভাতিজা আব্দুর রহমানও একইভাবে আকস্মিক জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ঘণ্টাখানেকের মধ্যে রবিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে মারা যায়।

তিনি বলেন, “আমরা স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক দেখিয়েছিলাম। কিন্তু, ঢাকায় নেওয়ার সুযোগ পাইনি। গতকাল বিকালে ভাবীকে দাফন করি। আজ (সোমবার) দুপুরে দাফন করি ভাতিজাকে। তারা কোন রোগে মারা গেল বুঝতে পারছি না। আজ প্রশাসনের লোকজন ও ডাক্তাররা এসেছিলেন। কিন্তু, ডাক্তাররা রোগ সম্পর্কে কিছু বলতে পারেননি।”

মুন্সীগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদ জানান, ডাক্তারদের একটি টিম নিহতদের বাড়িতে গিয়েছে। তবে, আমাদের যা মনে হয় তাতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হবার কথা নয়। কারণ, চৌদ্দ দিনের মধ্যে যদি তাদের কেউ চীন থেকে আসতো তাহলে আমরা সে রকম কিছু মনে করতাম। আসলে, লৌহজং এ কিছু প্রকল্পে চীনারা কাজ করে। সেখান থেকে করোনাভাইরাস এই এলাকায় ছড়াতে পারে মনে করেই অনেকেই আতংকিত।

লৌহজং উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, “সকালে খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই। শিশু ছেলের মরদেহ সকালে দাফন করা হয়। গতকাল ঐ শিশুর চাচী মারা গিয়েছিল। তবে, স্থানীয়দের কেউ কেউ আতংকিত এটা ভেবে যে, চীনের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তারা মারা যেতে পারে। কিন্তু, স্থানীয় ডাক্তাররা আমাকে জানিয়েছেন মরদেহে যে সকল লক্ষণ দেখতে পেয়েছে তাতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাবার সম্ভাবনা নেই। আসলে ঐ বাড়ির পাশে যশলদিয়া পানি শোধনাগারে কিছু চীনা লোক কাজ করে। এছাড়াও পদ্মা সেতু প্রকল্পেও চীনারা কাজ করছে। সে কারণে এমন আতংক ছড়াতে পারে।”