• মঙ্গলবার, এপ্রিল ০৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:২৮ রাত

খরগোশ শিকারিদের হাতে প্রাণ গেল মেছোবাঘের

  • প্রকাশিত ০৫:৫৩ সন্ধ্যা জানুয়ারী ২৮, ২০২০
চুয়াডাঙ্গা-মেছোবাঘ
খরগোশ শিকারিদের হাতে নিহত মেছোবাঘ। বখতিয়ার হামিদ/সৌজন্য

বুনো খরগোশ ধরতে মঙ্গলবারও ফাঁদ পেতেছিল তারা। কিন্তু সে ফাঁদে আটকা পরে একটি মেছোবাঘ

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় একটি মেছোবাঘ (Fishing Cat) পিটিয়ে হত্যা করেছে খরগোশ শিকারি কয়েকজন যুবক।

মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) উপজেলার শংকরচন্দ্র ইউনিয়নের গাইদঘাট চাঁদপুর মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গার মুক্তি পাড়ার মেথোর পট্টির ছোটন, শান্ত, কিশোর, পুষাদ, বিশ্ব ও সুভাষ প্রায়ই ফাঁদ পেতে বন্যপ্রাণী শিকার করে। মঙ্গলবারও তারা বুনো খরগোশ ধরতে গাইদঘাট চাঁদপুর মাঠে জাল পেতেছিল। কিন্তু ওই জালে একটি মেছোবাঘ আটকা পরলে যুককেরা প্রাণীটিকে পিটিয়ে হত্যা করে।

চুয়াডাঙ্গার বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিষয়ক সংগঠন Care for unclaimed breast (CUB) এর প্রতিষ্ঠাতা স্কুল শিক্ষক বখতিয়ার হামিদ জানান, এর আগেও তিনি এসব যুবকদের বন্যপ্রাণী শিকার করতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু যুবকেরা সেটি আমলে না নিয়ে উল্টো তাকেই হুমকি দেয়। মেছোবাঘ হত্যার খবরেও তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছিলেন।


আরও পড়ুন - নারায়ণগঞ্জে ২২ কেজি ওজনের বিপন্ন প্রজাতির বন বিড়াল উদ্ধার!


তিনি বলেন, “মেছোবাঘের মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। বন বিভাগ সংশ্লিষ্ট কেউ যোগাযোগ না করলে মৃতদেহটি মাটিচাপা দেওয়া হবে।”

এ সময় বন্যপশু-পাখি শিকার ও হত্যা রোধে প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের সহায়তাও চান তিনি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বাঘ বিশেষজ্ঞ ড. মনিরুল এইচ খান ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “মেছোবাঘের (বৈজ্ঞানিক নাম Felis viverrina) স্বভাব অনেকটা বন বিড়ালের মতো তবে আকারে বন বিড়ালের চেয়ে বড়, প্রায় কুকরের কাছাকাছি। এটি বাংলাদেশের সর্বত্রই কমবেশি দেখা যায়। তবে জলাভূমি এলাকায় বেশি থাকে। এরা প্রধানত রাতে শিকার করে। মাছ, ব্যাঙ, কাঁকড়া, ইঁদুর, পাখি ইত্যাদি এদের প্রধান খাদ্য। তবে বর্তমানে খাদ্য সংকটেই হয়তো লোকালয়ে আসছে।”

মনিরুল এইচ খান বলেন, “মেছো বাঘ নিয়ে মোটেও আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এরা মানুষকে আক্রমণ করে না। বড়জোর হাঁসমুরগী ধরতে পারে।”


আরও পড়ুন - মুন্সীগঞ্জে ‘বাঘের’ ঘোরাফেরা, আসল রহস্য কী?


বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা জোহরা মিলা ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “জনবসতি স্থাপন, বন ও জলাভূমি ধ্বংস, পিটিয়ে হত্যা ইত্যাদি কারণে বিগত কয়েক দশকে এই প্রাণীটির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। ২০০৮ সালে মেছোবাঘকে বিপন্ন প্রাণী প্রজাতির তালিকায় অর্ন্তভুক্ত করেছে আইইউসিএন। তাছাড়া বন্যপ্রাণী আইন-২০১২ অনুযায়ী এই প্রজাতি সংরক্ষিত। তাই এটি হত্যা, শিকার বা এর কোনো ক্ষতিকরা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।”


আরও পড়ুন - প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে খাঁচার পাখি অবমুক্ত করে সমালোচনায় মেয়র খোকন