• রবিবার, এপ্রিল ০৫, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:৩৩ রাত

ভল্ট থেকে টাকা চুরি করে জুয়া খেলতেন ক্যাশ ইনচার্জ!

  • প্রকাশিত ০৯:৩৮ সকাল জানুয়ারী ৩০, ২০২০
রাজশাহী ব্যাংক-জুয়া
ভল্ট থেকে টাকা চুরি করে জুয়া খেলেছেন বলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন প্রিমিয়ার ব্যাংক রাজশাহী শাখার ক্যাশ ইনচার্জ শামসুল ইসলাম ফয়সাল ঢাকা ট্রিবিউন

অনলাইন অ্যাপসে জুয়া খেলার জন্য রাজশাহীর এই ব্যাংকার সরিয়েছেন প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা। জুয়ায় তিনি হেরে যান

অনলাইনে জুয়া খেলার জন্যই ব্যাংকের ভল্ট থেকে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা চুরি করেছিলেন বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন প্রিমিয়ার ব্যাংক রাজশাহী শাখার ক্যাশ ইনচার্জ শামসুল ইসলাম ফয়সাল। ওই টাকা তিনি জুয়া খেলে হেরেছেন বলেও জানিয়েছেন। 

তিন দিনের রিমান্ড শেষে ফয়সালকে বুধবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে মহানগর মুখ্য হাকিম আদালত-২ এ হাজির করে বোয়ালিয়া থানা পুলিশ। বিকেল পৌনে ৪টা থেকে সোয়া ৪টা পর্যন্ত ১৬৪ ধারায় তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। এরপর তাকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিবারণ চন্দ্র বর্মণ ঢাকা ট্রিবিউনকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে, টাকা আত্মসাতের ঘটনা তদন্তে ইতোমধ্যে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয় থেকে উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ্ আলমের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত দল রাজশাহীতে পৌঁছেছে। 

তদন্ত কমিটির প্রধান স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, এই টাকা আত্মসাতের ঘটনায় ফয়সালের সঙ্গে ব্যাংকের আরও কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভল্টে টাকা সংরক্ষণ প্রক্রিয়ায় অন্তত দুই জন কর্মকর্তার স্বাক্ষর থাকে।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ কমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, ফয়সাল প্রথমে জানিয়েছিলেন, ব্যাংকের টাকা দিয়ে নিজের নামে আবাসিক এলাকায় প্লট ও বাকি টাকা দুই বন্ধুকে ধার দিয়েছেন। কিন্তু পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন প্রায় দুই বছর আগে ‍“বেট-৩৬৫” নামে একটি অ্যাপসের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জুয়াড়ি চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। ব্যাংকের ভল্ট থেকে টাকা নিয়ে তিনি জুয়া খেলে হেরেছেন।

ফয়সাল পুলিশকে জানিয়েছেন, ব্যাংকের রাজশাহী শাখার ভল্টে সব সময় প্রায় ১৫ কোটি টাকা থাকতো। ভল্টের সামনের লাইন ঠিক রেখে পেছন দিক থেকে তিনি টাকাগুলো সরাতেন। এতে করে সংশ্লিষ্ট কারও সন্দেহ হতো না। ক্যাশ ইনচার্জ হিসেবে তিনিই দৈনিক টাকার হিসাব রাখতেন। খাতা-কলমে টাকার কোনো গড়মিল ছিল না।

বোয়ালিয়া থানার ওসি নিবারণ চন্দ্র বর্মণ জানান, গত ২৪ জানুয়ারি ভল্টের সব টাকা গণনার পর ৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা কম পাওয়া যায়। এসময় তিনি টাকা সরানোর কথা স্বীকার করেন। প্রথমে তিনি বলেন, টাকাগুলো তার দুই বন্ধুকে এবং তার ব্যবসার একটি প্রকল্পের কিস্তি দিয়েছি। টাকাগুলো ফেরত দেওয়ার জন্য সময় চান তিনি। তবে তার কথায় সন্দেহ হলে রাত ১২টার দিকে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেন ব্যাংক কর্মকর্তারা। 

ওইদিনই ব্যাংকটির জোনাল ম্যানেজার সেলিম রেজা খান বাদী হয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানায় টাকা চুরির অভিযোগে মামলা করেন।