• মঙ্গলবার, এপ্রিল ০৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৫৩ সকাল

প্রবাসী স্বামীকে 'গোপন ছবি দেওয়ায়' প্রেমিককে গলাকেটে হত্যা!

  • প্রকাশিত ০৮:৩৯ রাত ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২০
লাশ উদ্ধার
প্রতীকী ছবি

স্বামী বিদেশ যাওয়ায় রূপালী ও সেলিমের প্রেমের সম্পর্ক আরও গভীর হয়

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় প্রবাসী স্বামীর কাছে "গোপন ছবি" পাঠানোয় প্রেমিককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই নারী ও তার বাবাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে গ্রেফতার দুজন বগুড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল মোমিনের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। 

গ্রেফতার দুজন হলেন-উপজেলার খিদিরপাড়া গ্রামের আবদুর রহমান (৫০) ও তার মেয়ে রূপালী বেগম (২৫)। নিহত সেলিম প্রামাণিক (৩২) একই গ্রামের কফির উদ্দিনের ছেলে। পেশায় তিনি একজন রঙমিস্ত্রি ছিলেন। 

পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক আসলাম আলী এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে শনিবার দুপুরে বগুড়ার পুলিশ সুপার (এসপি) আলী আশরাফ ভুঞা তার কার্যালয়ের এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, গত ৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে বগুড়া ও জয়পুরহাটের সীমান্ত এলাকায় দুপচাঁচিয়া উপজেলার চামরুল ইউনিয়নের বড়কোল গ্রামের মাঠ থেকে সেলিমের গলাকাটা ও আগুনে পোড়া লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশের পাশে একটি ছুরি ও ছয়টি কনডম পাওয়া যায়। তার বাবা কফির উদ্দিন দাঁত ও পরনের পাঞ্জাবীর অংশ দেখে ছেলের লাশ সনাক্ত করেন। এ বিষয়ে তিনি দুপচাঁচিয়া থানায় অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

হত্যার রহস্য উন্মোচনে ডিবি ও দুপচাঁচিয়া থানা পুলিশ মাঠে নামে। পরে হত্যায় জড়িত সন্দেহে রূপালী বেগম ও তার বাবা আবদুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, রূপালীর স্বামী ইকরামুল হক দেড় বছর ধরে সৌদি আরবে চাকরি করেন। নিহত সেলিম ও রূপালীর মধ্যে ছোটবেলায় প্রেমের সম্পর্ক ছিল। দু'জনের ভিন্ন জায়গায় বিয়ে হলেও তাদের মধ্যে প্রেম অব্যাহত ছিল। স্বামী বিদেশ যাওয়ায় রূপালী ও সেলিমের প্রেমের সম্পর্ক আরও গভীর হয়। এর এক পর্যায়ে সেলিম রূপালীকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। তবে রূপালী বিয়ের প্রস্তাব নাকচ করেন। 

এরই মধ্যে ম্যাসেজিং অ্যাপ ইমোর মাধ্যমে সৌদি প্রবাসী ইকরামুলের কাছে রূপালী ও সেলিমের ঘনিষ্ঠ মূহুর্তের ছবি পাঠানো হয়। ইকরামুল ছবিগুলো দেখার পর রূপালীকে জানান। এতে রূপালী সন্দেহ করেন, সেলিম তাদের গোপন ছবি  স্বামীকে পাঠিয়েছেন। 

এদিকে রূপালী বার বার বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে সেলিম তাদের "গোপন" ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রূপালী বিষয়টি তার বাবার সঙ্গে আলাপ করেন। এর জের ধরে তারা সেলিমকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী রূপালী ৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ফোনে সেলিমকে জানান, তারা পালিয়ে বান্ধবীর বাড়িতে গিয়ে বিয়ে করবেন। 

সে অনুযায়ী, দুজন রিকশায় পাশের জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বেরুজ গ্রামের দিকে যেতে থাকেন। পথে রূপালীর বাবা আবদুর রহমান ও তার তিন সহযোগী সেখানে যান। তারা রূপালী ও সেলিমকে রাস্তা থেকে মাঠের মধ্যে নিয়ে যান। পরে রূপালী সেখান থেকে চলে যান। এরপর তার বাবাসহ তিনজন সেলিমকে বড়কোল ও বেরুজ গ্রামের ফসলের মাঠে নিয়ে যান। 

প্রথমে তারা রশি দিয়ে সেলিমের হাত ও দুই পা বেঁধে এবং স্কচটেপ দিয়ে পুরো মুখমণ্ডল পেঁচিয়ে ফেলেন। এরপর গলাকেটে তাকে হত্যা করা হয়। লাশের পরিচয় গোপন ও ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে মোবাইল ফোন ও পরিধেয় কাপড় বুকের উপর রেখে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া লাশের পাশে ছয়টি কনডম রেখে দেওয়া হয়। 

পুলিশ সুপার আরও জানান, জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, হত্যাকারীরা টেলিভিশনে বিভিন্ন ধারাবাহিক দেখে হত্যার কৌশল রপ্ত করে। তদন্ত করে নিশ্চিত হওয়া পর শুক্রবার রাতে বাড়ি থেকে আবদুর রহমান ও তার মেয়ে রূপালীকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার দায় স্বীকার এবং হত্যার কারণ ও অন্য খুনিদের নাম প্রকাশ করেন। 

ডিবির পরিদর্শক আসলাম আলী জানান, শনিবার বিকালে দু’জনকে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল মোমিনের আদালতে হাজির করা হয়। প্রথমে আবদুর রহমান ও পরে তার মেয়ে রূপালী ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাদের বগুড়া জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। অন্য তিন আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।