• শুক্রবার, এপ্রিল ০৩, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:৫৩ দুপুর

বগুড়ায় ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি ব্রিজেই চলছে যানবাহন, দুর্ঘটনার আশঙ্কা

  • প্রকাশিত ০৬:২৭ সন্ধ্যা ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২০
বগুড়া
ধুনটের ভরনশাহী খালের ওপর নির্মিত বেইলি ব্রিজের ঝালাই খুলে পাটাতন দেবে গেছে। ঢাকা ট্রিবিউন

 এ সড়কে যাতায়াতের জন্য বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই জীবন ও জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছেন স্থানীয়রা

বগুড়ার ধুনট-শেরপুর সড়কের পশ্চিম ভরনশাহী বদলার খালে স্টিলের দুটি বেইলি ব্রিজ মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। জীবন-জীবিকার তাগিদে বাধ্য হয়ে প্রতিদিন শত শত যানবাহন ঝুঁকি নিয়েই সেতুগুলো পারাপার হচ্ছে। ফলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশংকা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানান, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ গত ১৯৯০ সালের দিকে ধুনট-শেরপুর সড়কের পশ্চিম ভরনশাহী বদলার খালে প্রায় ৩০ মিটার ও মাঠপাড়া খালের ওপর প্রায় ৫০ মিটার দৈর্ঘ্য স্টিলের বেইলি ব্রিজ নির্মাণ করে। কিন্তু নিয়ম না মেনে সেতু দু’টির ওপর দিয়ে পাথর-সিমেন্টসহ বিভিন্ন ভারী পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করায় পাটাতন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপরও ক্ষতিগ্রস্ত সেতু দু’টির ওপর দিয়ে অতিরিক্ত মালবাহী যানবাহন পারাপার হতে থাকে। এতে সেতু দু’টি কয়েক দফা ভেঙে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কয়েকদিন ভোগান্তির পর সওজ বিভাগ ওয়েল্ডিং করে পাটাতনগুলো মেরামত করে। আবারও চলতে থাকে ভারী পণ্যবাহী যানবাহন। বর্তমানে বেইলি ব্রিজের কয়েকটি পাটাতন দেবে ও ওয়েল্ডিংয়ের ঝালাই খুলে গেছে। এরপরও সেদিকে নজর নেই কর্তৃপক্ষের। একপ্রকার বাধ্য হয়েই ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছে শত শত যানবাহন।

ধুনট বাজারের ব্যবসায়ী আবুল কালাম ও হায়দার আলী জানান, বগুড়া জেলা সদরের সাথে ধুনট, শেরপুর, সোনাহাটা, মথুরাপুর, জোড়শিমুল, গোসাইবাড়ি, ঠেকুরিয়া ও পার্শ্ববর্তী সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার যোগাযোগের প্রধান সড়কেই সেতু দু’টি অবস্থিত। এই সড়কে যাতায়াতের জন্য বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই জীবন ও জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছেন স্থানীয়রা।

প্রায় একই সুরে কথা বলেছেন ট্রাক চালক ফরহাদ হোসেন, বাস চালক আহম্মেদ আলী, সিএনজি অটো রিকশা চালক কামরুল হাসান প্রমুখ।

ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত বেইলি ব্রিজ মেরামতের জন্য সওজ বিভাগের কর্মকর্তাদের তাগাদা দেওয়া হয়েছে।”

বগুড়া সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, “এর আগে বেইলি ব্রিজ সংস্কার করে অধিক ওজনের যানবাহন পারাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। কিন্ত পরিবহনের চালকরা এই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অতিরিক্ত মালামাল বোঝাই ট্রাক পারাপার করায় সেতুগুলো আবারও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। দ্রুত সেতুগুলো মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”