• রবিবার, এপ্রিল ০৫, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৬:২৮ সন্ধ্যা

বিধবা নারীকে হাত-পা বেঁধে গণধর্ষণ

  • প্রকাশিত ০৪:৫৯ বিকেল ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২০
ভোলা

রাতেই থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক টিম হাসপাতালে গিয়ে নির্যাতিতার জবানবন্দি রেকর্ড করেছে

এক মাসের ব্যবধানে তৃতীয়বার মতো গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে দ্বীপজেলা ভোলায়। এবার গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৩৫ বছর বয়সী এক বিধবা নারী। 

বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে ভোলার উপশহর বাংলাবাজার এলাকার হালিমা খাতুন কলেজের পেছনে গণধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, হাত-পা ও মুখ বেঁধে তাকে ধর্ষণ করছিল একদল বখাটে। ধস্তাধস্তিতে মুখের বাঁধন খুলে গেলে চিৎকার করতে শুরু করেন ওই নারী। চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন স্থানীয়রা। রাতেই তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে ভর্তির প্রায় আধাঘণ্টা পরে তার জ্ঞান ফেরে। 

ধর্ষণের শিকার নারী ভোলার একটি বেসরকারি ক্লিনিকের কর্মী।

নির্যাতিতা নারী জানান, রাত সাড়ে ৮টার দিকে অটোরিকশায় করে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে হালিমা খাতুন কলেজের সামনে পৌঁছলে কেনাকাটার কথা বলে পাশের একটি দোকানে যান অটোরিকশা চালক। অটোতে তিনি একাই ছিলেন।

সুযোগ পেয়ে কাছেই দাঁড়িয়ে থাকা সোহাগ ও মনজুরসহ চার বখাটে হাত-পা বেঁধে কলেজের পেছনে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে মুখের বাঁধন খুলে গেলে চিৎকার করতে করতে তিনি জ্ঞান হারান। 

স্থানীয়রা জানান, চিৎকার শুনে ওই নারীকে উদ্ধার করতে ছুটে গেলে ধর্ষকরা পালিয়ে যায়। নির্যাতিতাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

স্থানীয় দোকানদার সহিদুল সরকার জানান, “চিৎকার শুনে ছুটে গিয়ে দেখি কলেজের ভেতরে ওই নারী অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতাল পাঠানোর ব্যবস্থা করি।”

লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে ধর্ষকরা পালিয়ে যায় বলে জানান তিনি।

ভোলা সদর হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সিনিয়র স্টাফ নার্স দেবী মল্লিক জানান, নির্যাতিতার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। 

হাসপাতালের সহকারী সার্জন ডা. গোলাম রাব্বী জানান, ওই নারীকে সুস্থ করার জন্য তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, ঘটনার পরপরই অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। রাতেই থানা ও গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একাধিক টিম হাসপাতালে গিয়ে নির্যাতিতার জবানবন্দি রেকর্ড করেছে। 

তার ভিত্তিতেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে অটোচালক মো. গিয়াসউদ্দিনকে।

দৌলতখান থানার ওসি (তদন্ত) সাদেকুর রহমান জানান, এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অটোচালক মো. গিয়াসউদ্দিন আটক করা হয়েছে। নির্যাতিতার চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তিনি সুস্থ হয়ে উঠলেই ধর্ষকদের বিরুদ্ধে মামলা নেওয়া হবে। 

উল্লেখ্য, গত ১৫ জানুয়ারি স্বামীর খোঁজে ভোলার চরফ্যাশনে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হন এক গার্মেন্টসকর্মী। একই উপজেলায় গত রবিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ট্রলারের ভেতর গণধর্ষণের শিকার হন এক তরুণী।